মঙ্গলবার, ২০ এপ্রিল ২০২১, ০১:৪৯ পূর্বাহ্ন

সর্বশেষ সংবাদ :
বরিশাল শহরে অপরাধ করলে কাউকে বিন্দু পরিমাণ ছাড় দেওয়া হবেনা। ত্রাস রাসেল মোল্লা গ্রেফতারে এলাকায় স্বস্তি ফিরেছে কুষ্টিয়ায় চাঁদা না পাওয়ায় কাউন্সিলর কর্তৃক রিপনকে ছুরিকাঘাত, আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকিয়ে প্রাণনাশের হুমকি, থানায় অভিযোগ উজিরপুর মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ কুষ্টিয়া ইবি থানায় ওপেন হাউজডে অনুষ্ঠানে নবাগত পুলিশ সুপার খাইরুল আলম আগামীকাল পবিত্র শবে মেরাজ ঝালকাঠিতে মাদক মামলার পলাতক আসামি মাদক ব্যবসায়ীর যাবজ্জীবন কারাদন্ড কাঁঠালিয়ায় সেতু ভেঙে পাথর বোঝাই ট্রাক খালে রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র উৎপাদনে যাচ্ছে ডিসেম্বরে ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী আটক বাগেরহাট পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিলরদের শপথ গ্রহণ কুষ্টিয়ার এক ব্যবসায়ীর ড্রাইভার তৌহিদুল ইয়াবা সহ আটক হলেও জব্দ তালিকায় নেই গাড়ি! মরহুম সাহেব আলী আঞ্জুর ইন্তেকালে ইশা ছাত্র আন্দোলন যশোর জেলা শাখার শোক প্রকাশ তাহিরপুরে সংঘর্ষের ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের দিনের বেলায় দেয়াড়া গ্রামের মাহফিলে লক্ষ মুসল্লিদের উপস্থিতি বহুল আলোচিত কুষ্টিয়া হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা নানা আয়োজনে বাগেরহাটে নারী দিবস পলিত ইয়াবাসহ মাদক ব্যাবসায়ী আটক বাসের চাঁপায় শিক্ষক নিহত ভাড়া দিতে না পাড়ায় বাস থেকে ছুড়ে ফেলা হলো প্রতিবন্ধী নারীকে
মানুষের হাতে টাকাই তো নেই, শপিং করবে কীভাবে?

মানুষের হাতে টাকাই তো নেই, শপিং করবে কীভাবে?

মানুষের হাতে টাকাই তো নেই, শপিং করবে কীভাবে?

‘সকাল থেকে বসে আছি। কোনো বিক্রি নেই। দু-একজন কাস্টমার আসে, তা-ও দেখে চলে যাচ্ছে। করোনায় একেবারে অবস্থা খারাপ। ঈদে মালিক বেতন-বোনাস কীভাবে দেবেন- এটাই তো বুঝতেছি না। আগে ঈদের এ সময় ক্রেতার চাপে অবসর থাকত না। এখন অলস বসে আছি। ঈদের আগে বাকি দিনগুলোতে ব্যবসা বাড়বে- এটারও কোনো লক্ষণ দেখছি না।’

কথাগুলো বলছিলেন রাজধানীর মৌচাক মার্কেটের নাইস ফেব্রিক্সের বিক্রয়কর্মী সিফাত।

তিনি জানান, গত ঈদে বেশিরভাগ সময় দোকান বন্ধ ছিল। ব্যবসা হয়নি। কয়েক মাস দোকান বন্ধ রেখে ভাড়া দিতে হয়েছে। এখন দোকান খোলা থাকলেও ক্রেতা কম। যে টাকার বিক্রি হয় তাতে খরচই ওঠে না।

বিক্রয়কর্মী সিফাত বলেন, ‘এভাবে আর কতদিন মালিক লস দিয়ে আমাদের বেতন দেবেন? সামনে ব্যবসা হবে তারও কোনো লক্ষণ নেই। কারণ সারা বছর দুই ঈদেই আমাদের ব্যবসা হয়। বাকি সময় কোনোমতে চলে। এবার দুই ঈদেই পুরো ধরা। মাকের্টের বেশিরভাগ দোকানেই কর্মী ছাঁটাই হয়েছে। যাদের পাঁচজন ছিল তারা তিনজন আর যাদের তিনজন ছিল তারা দুজন- এভাবে কর্মী কমিয়ে দোকান চালাচ্ছে। কারণ ব্যবসা না হলে মালিক কয়দিন বসিয়ে বেতন দেবেন।’

ঈদের আগে সব সময় মৌচাক, আনারকলি, আয়শা শপিং কমপ্লেক্স, ফরচুনসহ মাকের্টগুলোতে ক্রেতার উপচেপড়া চাপ দেখা যেত। কিন্তু এখন চিত্র তার উল্টো। দোকানগুলোতে ক্রেতা কম, বিক্রয়কর্মীরা অলস বসে আছেন। ক্রেতা দেখলেই ডাকাডাকি শুরু করছেন দোকানিরা। ক্রেতা আকর্ষণে বিভিন্ন অফার ও মূল্যছাড়ের ঘোষণা দিচ্ছেন। তারপরও ক্রেতা মিলছে না।

মৌচাক মোড়ে ডিএফ পয়েন্ট ক্রেতাদের জন্য ‘বিগ অফার’ নামে ১০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যছাড়ের ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু যাদের জন্য অফার তারা নেই। প্রতিষ্ঠানটির বিক্রয়কর্মী বলেন, ‘তিন-চার মাস ব্যবসা বন্ধ ছিল। বিক্রি নেই তাই বিশেষ ছাড় দেয়া হয়েছে। কিন্তু ক্রেতার তেমন সারা পাচ্ছি না। এত বড় শোরুম ভাড়া, কর্মীদের বেতন সব মিলিয়ে খরচ অনেক। কিন্তু আয় নেই। সামনে কী হবে আল্লাহ ভালো জানে।’

আয়শা শপিং কমপ্লেক্সের মাতৃভূমি পাঞ্জাবি শোরুমের জাকির হোসেন বলেন, ‘ব্যবসার এমন অবস্থা হবে কখনো চিন্তাও করিনি। খুবই খারাপ অবস্থা। আমার চারটা শোরুম ছিল। বাধ্য হয়ে দুটি ছেড়ে দিয়েছি। কয়দিন বসিয়ে ভাড়া দেব। এখন দুটি চালাচ্ছি। তারপরও দোকানের ভাড়াও ওঠে না।’

তিনি বলেন, ‘করোনায় যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে তাতে অন্য কোনো ব্যবসা করব তারও সুযোগ নেই। গত মার্চে আনা মাল (পাঞ্জাবি) গোডাউনে পড়ে আছে। রোজার ঈদে বিক্রি করব বলে এনেছিলাম। কিন্তু কার্টনই খুলি নাই। মনে করেছিলাম এবার কিছু বিক্রি হবে। কিন্তু ক্রেতা নেই। আসবেই কীভাবে। মানুষের হাতে তো টাকাই নেই। সংসার চলে না। শপিং করবে কীভাবে। দু-তিন মাস খুলব। তারপর সিদ্ধান্ত নেব কী করব। যদি পরিস্থিতির উন্নতি না হয় আরও একটি দোকান ছেড়ে দিয়ে একটি চালাব।’

মৌচাকের দোতলার সিঁড়িতে জুয়েলারি পণ্য সাজিয়ে বসে আছেন অপূর্ব নামের এক বিক্রেতা। আগে ঈদের সময় প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ হাজার টাকার পণ্য বিক্রি করেছেন। এবার ব্যতিক্রম। বিক্রি টুকটাক। তবে গতকাল থেকে বিক্রি একটু বেড়েছে-তিন-চার হাজার টাকার বিক্রি হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘সব জায়গার অবস্থায়ই খারাপ। আমাদেরও একই অবস্থা। কোনোমতে টিকে আছি।’

যাদের জরুরি কেনাকাটা করা প্রয়োজন শুধু তারাই মার্কেটে আসছেন বলে জানান ক্রেতারা। বাড্ডা থেকে আসা ইসলাম নামের এক ক্রেতা জানান, পাঁচ বছরের ছেলে আছে। গত ঈদে বাড়ি ছিলাম, তাই কোনো কেনাকাটা করিনি। এবার কিছু একটা কিনে দিতে হবে তাই এলাম।

তিনি বলেন, ‘করোনার ভয়তো সবারই আছে। তারপরও কী করা! জীবন তো থেমে নেই। সবকিছু বিবেচনায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে এসেছি।’

 278 total views,  1 views today

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




© All rights reserved © 2018 doinikjonotarkhobor