০৯:৩৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাউজানে ঋণের চাপে গৃহবধূর আত্মহত্যা, ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

Reporter Name
  • Update Time : ০৭:০১:১৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ অগাস্ট ২০২৫
  • / ১১২ Time View

রাউজান, চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় পাখি আক্তার (৫৩) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (৬ আগস্ট) সকালে উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নের সাদারপাড়া গ্রাম থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। পরিবার ও পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, বিভিন্ন এনজিও এবং ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণের টাকা পরিশোধের চাপে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।
নিহত পাখি আক্তার ওই গ্রামের খলিফা বাড়ির বাসিন্দা মুহাম্মদ বাহাদুরের স্ত্রী এবং চার সন্তানের জননী ছিলেন। তার স্বামী ও দুই ছেলে রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাতে পাখি আক্তার তার স্বামীর সঙ্গে ঘুমিয়েছিলেন। ভোরে তার স্বামী মুহাম্মদ বাহাদুর ঘুম থেকে উঠে অন্য একটি কক্ষে ঘরের আড়ার সঙ্গে স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান এবং দ্রুত পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে নোয়াপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল সকাল ১০টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে।
নিহতের স্বামী মুহাম্মদ বাহাদুর জানান, সংসারের খরচ মেটাতে তার স্ত্রী ৭-৮টি ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়েছিলেন। এই ঋণের কারণে প্রতি সপ্তাহে তাদের ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা কিস্তি পরিশোধ করতে হতো, যা নিয়ে পরিবারে প্রায়ই কলহ লেগে থাকত। অতিরিক্ত ঋণের এই মানসিক চাপ থেকেই পাখি আক্তার আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন বলে তিনি ধারণা করছেন।
নোয়াপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে। তিনি বলেন, ঝুলন্ত অবস্থায় থাকলেও নিহতের পা মেঝে থেকে মাত্র ৬-৭ ইঞ্চি ফাঁকা ছিল। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

রাউজানে ঋণের চাপে গৃহবধূর আত্মহত্যা, ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

Update Time : ০৭:০১:১৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ অগাস্ট ২০২৫

রাউজান, চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় পাখি আক্তার (৫৩) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (৬ আগস্ট) সকালে উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নের সাদারপাড়া গ্রাম থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। পরিবার ও পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, বিভিন্ন এনজিও এবং ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণের টাকা পরিশোধের চাপে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।
নিহত পাখি আক্তার ওই গ্রামের খলিফা বাড়ির বাসিন্দা মুহাম্মদ বাহাদুরের স্ত্রী এবং চার সন্তানের জননী ছিলেন। তার স্বামী ও দুই ছেলে রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাতে পাখি আক্তার তার স্বামীর সঙ্গে ঘুমিয়েছিলেন। ভোরে তার স্বামী মুহাম্মদ বাহাদুর ঘুম থেকে উঠে অন্য একটি কক্ষে ঘরের আড়ার সঙ্গে স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান এবং দ্রুত পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে নোয়াপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল সকাল ১০টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে।
নিহতের স্বামী মুহাম্মদ বাহাদুর জানান, সংসারের খরচ মেটাতে তার স্ত্রী ৭-৮টি ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়েছিলেন। এই ঋণের কারণে প্রতি সপ্তাহে তাদের ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা কিস্তি পরিশোধ করতে হতো, যা নিয়ে পরিবারে প্রায়ই কলহ লেগে থাকত। অতিরিক্ত ঋণের এই মানসিক চাপ থেকেই পাখি আক্তার আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন বলে তিনি ধারণা করছেন।
নোয়াপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে। তিনি বলেন, ঝুলন্ত অবস্থায় থাকলেও নিহতের পা মেঝে থেকে মাত্র ৬-৭ ইঞ্চি ফাঁকা ছিল। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।