৬০ হাজার প্রাণের বিনিময়েও কি শান্তি আসবে না গাজায়?
- Update Time : ০৯:৪৮:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ জুলাই ২০২৫
- / ১২০ Time View

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর আগ্রাসন শুরুর পর থেকে নিহতের সংখ্যা ৬০ হাজার ছাড়িয়েছে। মঙ্গলবার (২৯ জুলাই, ২০২৫) গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি হামলায় নতুন করে ১১৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে ৬৬২ দিন ধরে চলা সংঘাতে মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬০ হাজার ৩৪ জনে। আহত হয়েছেন ১ লাখ ৪৫ হাজার ৮৭০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি।
আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) গণহত্যার অভিযোগ এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানা সত্ত্বেও ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির আন্তর্জাতিক আহ্বান উপেক্ষা করে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় সামরিক অভিযান অব্যাহত রেখেছে। এই ভয়াবহ সংঘাতে নিহতদের একটা বড় অংশই নারী ও শিশু।
চরম মানবিক বিপর্যয় ও দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতি:
লাগাতার বোমাবর্ষণে গাজার অবকাঠামো প্রায় পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, উপত্যকার ৮০ শতাংশের বেশি বাড়িঘর এবং প্রায় ৮৪ শতাংশ স্বাস্থ্যকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।
যুদ্ধের পাশাপাশি ইসরায়েলি অবরোধের কারণে গাজায় চরম মানবিক সংকট দেখা দিয়েছে। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) জানিয়েছে, গাজা তার ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ মানবিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিশ্বের ক্ষুধা পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ইন্টিগ্রেটেড ফুড সিকিউরিটি ফেজ ক্লাসিফিকেশন (আইপিসি) সতর্ক করেছে যে গাজায় দুর্ভিক্ষের সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অপুষ্টি এবং অনাহারে মৃতের সংখ্যা বাড়ছে, যার মধ্যে ৮৮টি শিশুসহ মোট ১৪৭ জন ক্ষুধাজনিত কারণে মারা গেছেন। গাজার সরকারি মিডিয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ৪০ হাজারের বেশি শিশু তীব্র অপুষ্টির কারণে মৃত্যুর ঝুঁকিতে রয়েছে।
আন্তর্জাতিক আইনি পদক্ষেপ:
গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে।একইসাথে, গাজায় চলমান সামরিক অভিযানের জন্য ইসরায়েল আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) গণহত্যার মামলার মুখোমুখি হয়েছে।










