
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় অবৈধভাবে চায়না দুয়ারি জাল তৈরির একটি কারখানায় অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ। অভিযানে কারখানা থেকে প্রায় ৩ লাখ টাকা মূল্যের চায়না দুয়ারি জাল এবং জাল তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় কারখানার মালিক রতন বর্মনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে অবৈধভাবে পরিচালিত কারখানাটি সিলগালা করে দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেলে উল্লাপাড়া উপজেলার শ্যামপুর গ্রামে রতন বর্মনের বাড়িতে স্থাপিত ওই কারখানায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রায়হানুল ইসলাম। অভিযানে উপজেলা মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
অভিযান সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শ্যামপুর গ্রামের নিজ বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে কারখানা স্থাপন করে চায়না দুয়ারি জাল তৈরি করে আসছিলেন রতন বর্মন। স্থানীয়ভাবে এসব জাল তৈরি করে বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করা হতো বলে অভিযোগ ওঠে। নিষিদ্ধ ও ক্ষতিকর এ ধরনের জাল তৈরির বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসার পর কারখানাটিতে অভিযান পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
অভিযানের সময় কারখানার গুদাম ও জাল তৈরির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন স্থান তল্লাশি করা হয়। এ সময় সেখানে মজুত করে রাখা বিপুল পরিমাণ চায়না দুয়ারি জাল পাওয়া যায়। পাশাপাশি জাল তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম ও আনুষঙ্গিক সামগ্রীও উদ্ধার করা হয়। জব্দ করা জাল ও সরঞ্জামের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে উপজেলা মৎস্য বিভাগ।
এ সময় কারখানার মালিক রতন বর্মনকে আটক করা হয়। পরে ঘটনাস্থলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হলে তাকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। রতন বর্মন জরিমানার অর্থ পরিশোধ করার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে ভবিষ্যতে যেন পুনরায় ওই স্থানে অবৈধভাবে জাল তৈরি করতে না পারেন, সে জন্য কারখানাটি সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে।
উল্লাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. আতাউর রহমান বলেন, রতন বর্মন দীর্ঘদিন ধরে তার বাড়িতে কারখানা স্থাপন করে চায়না দুয়ারি জাল তৈরি করে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে আসছিলেন—এমন অভিযোগ পাওয়া যায়। অভিযোগের ভিত্তিতেই উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের সমন্বয়ে সেখানে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অভিযানে প্রায় ৩ লাখ টাকা মূল্যের চায়না দুয়ারি জাল ও জাল তৈরির বিভিন্ন সামগ্রী জব্দ করা হয়। পরে জব্দ করা এসব জাল ও আনুষঙ্গিক সামগ্রী উল্লাপাড়া উপজেলা পরিষদ চত্বরে এনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।
মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চায়না দুয়ারি জাল অত্যন্ত সূক্ষ্ম ফাঁসের হওয়ায় এতে শুধু বড় মাছ নয়, মাছের পোনা, ছোট মাছসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণীও আটকা পড়ে। ফলে জলাশয়ে মাছের স্বাভাবিক প্রজনন ও বংশবিস্তারে বাধা সৃষ্টি হয়। এ ধরনের জাল ব্যবহারের কারণে দেশীয় মাছের প্রজনন ও জলজ জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়তে পারে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিভিন্ন খাল, বিল, নদী ও জলাশয়ে চায়না দুয়ারি জালের ব্যবহার বাড়ায় একদিকে যেমন ছোট মাছ ও মাছের পোনা নিধন হচ্ছে, অন্যদিকে প্রাকৃতিকভাবে মাছের বংশবৃদ্ধিও ব্যাহত হচ্ছে। ফলে ভবিষ্যতে দেশীয় মাছের সংকট আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
মৎস্য কর্মকর্তারা জানান, নিষিদ্ধ ও ক্ষতিকর জালের উৎপাদন, বিক্রি ও ব্যবহার বন্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। কেউ বাড়িতে বা অন্য কোনো স্থানে এ ধরনের জাল তৈরি কিংবা মজুত করে রাখলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লাপাড়ায় চায়না দুয়ারি জাল তৈরির কারখানায় এ অভিযানকে স্থানীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, শুধু ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি অবৈধ জাল উৎপাদন ও সরবরাহের উৎসগুলো বন্ধ করা গেলে জলাশয়ে মাছের প্রজনন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।