রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী ইস্পাহানি ইসলামিয়া চক্ষু ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের ফরম সঠিকভাবে পূরণ করা সত্ত্বেও কম্পিউটার অপারেটরদের গাফিলতি ও বানানের ভুলের কারণে চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে হাজারো মানুষকে। সরেজমিনে এবং একাধিক রোগীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, ফরম দেখে হুবহু টাইপ করার কথা থাকলেও নাম, বয়স কিংবা ঠিকানায় ভুল হওয়া এখন এক নিত্যদিনের ঘটনা বা "কমন সমস্যা" হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কাগজে-কলমে সঠিক নাম লিখে জমা দেওয়ার পরও কম্পিউটারে এন্ট্রি করার সময় চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয় দিচ্ছেন ক্যাশ কাউন্টার ও রেজিস্ট্রেশন কক্ষের অপারেটররা। ফলে প্রেসক্রিপশন, পেমেন্ট স্লিপ এবং অন্যান্য দাপ্তরিক কাগজে উঠে আসছে ভুল নাম। চিকিৎসা নিতে আসা ভুক্তভোগী ও তাদের স্বজনদের অভিযোগ, একটি নাম ভুল হলে তা সংশোধনের জন্য হাসপাতালের এক কক্ষ থেকে অন্য কক্ষে দৌড়াদৌড়ি করতেই রোগীর অর্ধেক সময় ও শক্তি শেষ হয়ে যায়।
কুমিল্লা থেকে আসা এক ভুক্তভোগী জানান, "আমি নিজে হাতে একদম পরিষ্কার অক্ষরে ফর্মে নাম লিখে দিয়েছিলাম। কিন্তু ক্যাশ মেমো হাতে পেয়ে দেখি নামের বানানে ভুল করা হয়েছে। পরে তা সংশোধন করতে গিয়ে আবার দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হয়, এতে সময় নষ্টের পাশাপাশি অসুস্থ রোগী নিয়ে ভোগান্তি দ্বিগুণ বাড়ে।"
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা অন্যান্য একাধিক রোগীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, এটি কোনো একক বা বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। অধিকাংশ রোগীর ক্ষেত্রেই এই টাইপিং সংক্রান্ত ভুলটি হচ্ছে। অনেক রোগী ও তাদের স্বজনরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দ্রুত কাজ করতে গিয়ে বা মনোযোগ না দেওয়ার কারণেই মূলত এ ধরনের ভুল প্রতিনিয়ত হচ্ছে। অনেকে বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আনলেও স্থায়ী কোনো সমাধান মিলছে না।
চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, প্রেসক্রিপশন ও চিকিৎসা সনদে ভুল নাম থাকা অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়। পরবর্তীতে কোনো আইনি, ইন্স্যুরেন্স বা দূরবর্তী চিকিৎসার প্রয়োজনে এ ভুল নাম বড় ধরনের জটিলতা তৈরি করতে পারে। তাই ইস্পাহানি ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালে এ ধরনের ভুল এড়াতে অবিলম্বে ডাটা এন্ট্রি ও কম্পিউটার অপারেটরদের দক্ষতা বাড়ানো, কাজের তদারকি নিশ্চিত করা এবং রোগীদের জন্য একটি সহজ ও দ্রুত নাম সংশোধনের বুথ চালুর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।