
পানি নিষ্কাশন ও জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রায় অর্ধশত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে ড্রেনেজ ব্যবস্থা। তবে কুলাউড়া পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় নির্মাণকাজের ধীরগতি, পরিকল্পনার ঘাটতি ও নানা অনিয়মের কারণে এই উন্নয়ন প্রকল্প এখন পৌরবাসীর জন্য গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ড্রেনগুলোর বড় একটি অংশ অসম্পূর্ণ থাকায় এবং ওপরের স্ল্যাব না থাকায় জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
অসম্পূর্ণ কাজ ও জলাবদ্ধতার চিত্র
মঙ্গলবার সরেজমিনে কুলাউড়া পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, গ্যাস পাম্প এলাকা, উত্তর কুলাউড়া, বিশরাকান্দি, দক্ষিণ বাজার মোড়, থানার সামনে, উত্তর বাজার, সরকারি গুদাম ঘরের সামনে, সুনাপুর, সাদেপুর, জয়পাশা, মাগুরা, বাদে মনসুর, উছলাপাড়া, বাসস্টেশনসহ বিভিন্ন স্থানে ড্রেন নির্মাণের কাজ অসম্পূর্ণ পড়ে রয়েছে।
মাঝখানে একাধিক স্থানে ড্রেনের সংযোগ না থাকায় এবং ময়লা-আবর্জনা জমে পানি স্বাভাবিকভাবে প্রবাহিত হতে পারছে না। অনেক স্থানে ড্রেনের নোংরা পানি উপচে প্রধান সড়কে গড়াচ্ছে। যানবাহনের চাকার নিচে চাপা পড়ে সেই ময়লা পানি ছিটকে পথচারী ও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের পোশাক নষ্ট হচ্ছে। পাশাপাশি জমে থাকা পানির দুর্গন্ধে মারাত্মক পরিবেশ দূষণ ও জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
স্ল্যাবহীন ড্রেন: দুর্ঘটনার আশঙ্কা
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের পাশ দিয়ে স্বাভাবিক হাঁচলাচলের পথও এখন সংকুচিত হয়ে পড়েছে। ড্রেনের বেশিরভাগ অংশে ওপরের স্ল্যাব (ঢাকনা) স্থাপন করা হয়নি। ফলে অসাবধানতাবশত পথচারী, শিশু ও শিক্ষার্থীরা যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার শিকার হতে পারেন। এছাড়া রেলওয়ে স্টেশনসংলগ্ন এলাকায় নির্মাণকাজে ধীরগতির পাশাপাশি নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারেরও অভিযোগ তুলেছেন এলাকাবাসী।
দায়িত্বশীলদের বক্তব্য মেলেনি
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে কুলাউড়া পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শহিদুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। একইভাবে কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক সানজিদা আক্তারের সাথেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
দ্রুত অসম্পূর্ণ ড্রেনের কাজ সম্পন্ন করা, সংযোগ স্থাপন, স্ল্যাব বসানো এবং নির্মাণকাজের মান যাচাই করে জনদুর্ভোগ লাঘবে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী পৌরবাসী।