
দেশে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩০৭ জনে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের ডেঙ্গু-সংক্রান্ত ড্যাশবোর্ড থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, একই সময়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন দুই হাজার ১৬৭ জন রোগী। ফলে চলতি বছর ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া মোট রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল এক লাখ এক হাজার ৪৪২ জনে। ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৯৫ হাজার ৩৩১ জন।
মৃত্যু ও লিঙ্গভিত্তিক বিশ্লেষণ
চলতি বছর ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া ৩০৭ জনের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এতে নারী মৃত্যুর হার বেশি। মোট মৃতের ৫১ দশমিক ৩ শতাংশ নারী এবং ৪৮ দশমিক ৭ শতাংশ পুরুষ।
মাসভিত্তিক মৃত্যু পরিস্থিতি
বছরের শুরুতে ডেঙ্গুর সংক্রমণ কম থাকলেও মাঝামাঝি সময় থেকে পরিস্থিতি খারাপ হতে থাকে:
জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি: দুজন করে মোট ৪ জন
মার্চ ও এপ্রিল: মৃত্যু নেই (শূন্য)
মে ও জুন: মে মাসে ১ জন এবং জুনে ১৩ জন
জুলাই ও আগস্ট: জুলাইয়ে ৩৬ জন এবং আগস্টে ৪৩ জন
সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর: সেপ্টেম্বরে পরিস্থিতি সবচেয়ে মারাত্মক আকার ধারণ করে, প্রাণ যায় ১৪৮ জনের। আর চলতি অক্টোবরের প্রথম ১২ দিনেই মারা গেছেন ৬২ জন।
উল্লেখ্য, চলতি বছর একদিনে সর্বোচ্চ ১০ জনের মৃত্যুর রেকর্ড গড়েছিল গত ৬ অক্টোবর।
হাসপাতালে ভর্তি রোগীর হিসাব
অক্টোবর মাসের ১২ তারিখ পর্যন্ত নতুন করে ২১ হাজার ৮২২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর আগের মাস সেপ্টেম্বরে রেকর্ড ৪৩ হাজার ৭৭৪ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
এছাড়া জানুয়ারিতে এক হাজার ৮১, ফেব্রুয়ারিতে ৪০৯, মার্চে ৩৫৩, এপ্রিলে ৬৪০, মে মাসে ৭১৪, জুনে দুই হাজার ৯০৭, জুলাইয়ে নয় হাজার ২০৬ এবং আগস্টে ২০ হাজার ৫৩৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এডিস মশার উৎপত্তিস্থল ধ্বংস ও সচেতনতা বাড়ানোর ওপর তাগিদ দিচ্ছেন।
নিউজটি কোনো নির্দিষ্ট অনলাইন পোর্টাল বা পত্রিকার বিন্যাসে পরিবর্তন করতে চাইলে জানাবেন!