
টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার নদীবেষ্টিত নদীকবলিত দপ্তিওর ইউনিয়নে অবৈধ ড্রেজার বা মাটি কাটার তাণ্ডব চরমে পৌঁছেছে। যমুনা ও নদীর অব্যাহত ভাঙনে যেখানে হাজারো মানুষ ভিটেমাটি হারানোর আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন, সেখানে এক শ্রেণির মাটিখেকো চক্র দিনরাত অবাধে ড্রেজার বসিয়ে নদীর তীর ও আশপাশের জমি কেটে চলেছে। এতে চরম ভাঙনঝুঁকিতে পড়েছেন স্থানীয় শত শত নদীকূলের অধিবাসী।
আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপি: বদলেছে পরিচয়, থামেনি তাণ্ডব
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই অবৈধ মাটি ব্যবসার মূল হোতা দপ্তিওর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি জিল্লুর রহিমের ভাই জাহাঙ্গীর আলম।
এলাকাবাসীর দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জাহাঙ্গীর আলম ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে অকাতরে নদীর তীরবর্তী এলাকা থেকে মাটি কেটে বিক্রি করেছেন। ক্ষমতার রদবদলের পর রাজনৈতিক পরিচয় পাল্টে এখনো সেই ধারা বহাল রাখা হয়েছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিএনপির সহ-সভাপতি ভাইয়ের দাপট ও কিছু অসাধু মহলের ছায়াতলে তিনি অবাধে এই 'মাটিখেকো' তাণ্ডব চালিয়ে যাচ্ছেন।
ভিটেমাটি হারানোর চরম আতঙ্ক
দপ্তিওর ইউনিয়নের নদী এলাকার অধিবাসীরা বর্তমানে চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। নদীকবলিত এসব মানুষ যখন ঘরবাড়ি টিকিয়ে রাখার আকুল চেষ্টা করছেন, তখন প্রতিনিয়ত শত শত ফুট গভীর থেকে ড্রেজারের মাধ্যমে মাটি উত্তোলনের ফলে নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হচ্ছে এবং তীরের তলদেশ ফাঁপা হয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় এক ভুক্তভোগী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন:
"আমরা এমনিতেই নদীভাঙনের শিকার। প্রতি বছর বসতবাড়ি সরাতে সরাতে নিঃস্ব হয়ে গেছি। তার ওপর দিনরাত চব্বিশ ঘণ্টা মনের সুখে ড্রেজার চালানো হচ্ছে। এভাবে মাটি কাটা চলতে থাকলে আমাদের শেষ আশ্রয়স্থল বসতবাড়িগুলো এক মুহূর্তেই নদীতে তলিয়ে যাবে।"
প্রশাসনের নীরবতায় ক্ষোভ
ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে মাটি কাটার বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই স্থানীয় অধিবাসীরা একাধিকবার উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টদের মৌখিক ও লিখিতভাবে অবহিত করেছেন। কিন্তু অভিযোগের কয়েক সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও প্রশাসন এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ বা ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেনি বলে জানান ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
প্রশাসনের এই নীরব ভূমিকা ড্রেজার সিন্ডিকেটকে আরও বেশি বেপরোয়া করে তুলেছে বলে মনে করছেন তারা।
দ্রুত পদক্ষেপের দাবি
স্থানীয়দের আকুল আকুতি—অবিলম্বে এই অবৈধ ড্রেজার চালানো বন্ধ করে নদী ও বসতবাড়ি রক্ষা করা হোক। অন্যথায় অচিরেই মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে দপ্তিওর ইউনিয়নের বড় একটি অংশ, এবং গৃহহীন হয়ে পড়বে শত শত পরিবার।
জরুরি ভিত্তিতে অবৈধ ড্রেজার জব্দ এবং অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর আলমসহ মাটিখেকো সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।