
বগুড়া শাজাহানপুর উপজেলার আমরুল ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দুল খালেক রঞ্জু, যিনি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে “মাদক সম্রাট” নামে কুখ্যাত ছিলেন, অবশেষে আইনের হাতে ধরা পড়েছেন।
১১ আগস্ট (সোমবার) ভোরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি বিশেষ দল শাজাহানপুর উপজেলার আড়িয়া বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে সকাল প্রায় ৭টার দিকে তাকে গ্রেফতার করে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রঞ্জুর বিরুদ্ধে প্রায় ১২টি মাদক মামলা রয়েছে। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা রয়েছে, যেখানে তিনি অন্যতম আসামি। দীর্ঘদিন ধরে তিনি এসব মামলার আসামি হয়েও রাজনৈতিক প্রভাব ও স্থানীয় দাপটের কারণে গ্রেফতার এড়িয়ে চলছিলেন।
ডিবি পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, “রঞ্জুর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল। আমরা তার গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছিলাম। আজকের অভিযানে তাকে ৫গ্রাম হেরোইন সহ হাতেনাতে আটক করা হয়েছে ।তাকে আদালতে দ্রুত হাজির করা হবে।”
এলাকাবাসীর অভিযোগ, রঞ্জুর প্রভাবে অসংখ্য তরুণ মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছে। তিনি শুধু নিজে মাদক ব্যবসা চালাতেন না, বরং একটি বড় নেটওয়ার্ক তৈরি করে ইয়াবা,হিরোইন,গাজা, ফিন্সিডিল সহ বিভিন্ন প্রকার মাদক সরবরাহ করতেন। তার ছত্রছায়ায় কাজ করত একাধিক সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ চক্র।
গ্রেফতারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় স্বস্তি নেমে এসেছে। অনেকেই বলছেন, “যে মানুষটিকে আমরা বছরের পর বছর ভয়ে কাটিয়েছি, আজ তাকে হাতকড়া পরতে দেখে মনে হচ্ছে ন্যায়বিচার এখনও বেঁচে আছে।”
পুলিশ জানিয়েছে, রঞ্জুর বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলো দ্রুততর প্রক্রিয়ায় পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে এবং তার সম্পদের উৎসও তদন্ত করা হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আরও জানায়, এ অভিযানের মাধ্যমে মাদক ব্যবসায় জড়িত অন্যান্য প্রভাবশালী ব্যক্তিদেরও চিহ্নিত করে গ্রেফতার করা হবে এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে আমাদের অভিযান চলমান থাকবে।