আন্তর্জাতিক গবেষণার ডেস্ক যৌনবাণিজ্যকে উৎসাহিত ও স্বাভাবিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সহায়তা করছে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম টিকটক। প্ল্যাটফর্মটিতে 'সেক্সফুয়েন্সার'রা এমন ভিডিও প্রকাশের সুযোগ পাচ্ছেন, যেগুলোর মাধ্যমে তাদের পর্নোগ্রাফিক কনটেন্টের অন্য ওয়েবসাইটে আপলোড করা বিপণন করা হচ্ছে। অনলি ফ্যানসের মতো সাইটে এসব কনটেন্ট বিক্রি করা হয়। এক গবেষণা প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। এক বছর ধরে অনলি ফ্যানসের জনপ্রিয় কয়েকজন তরুণী কনটেন্ট নির্মাতার টিকটকে প্রকাশিত অশ্লীলতামুক্ত ভিডিও পর্যালোচনা করেছেন গবেষকরা। তাদের মতে, এসব নারী দৈনন্দিন জীবনের মেয়েলি বিষয় নিয়ে তৈরি ভিডিওর আড়ালে পর্নোগ্রাফির সাংকেতিক ইঙ্গিত লুকিয়ে রাখেন। এসব ভিডিওতে তাদের কেনাকাটা, পোষা প্রাণীর সঙ্গে সময় কাটানো, রান্না করা কিংবা ত্বকের যত্ন নেওয়ার পরামর্শ দিতে দেখা যায়। টিকটকে যৌন আবেদনমূলক প্রচার, এমনকি কাউকে স্পষ্ট যৌন ছবি পাঠানোর আমন্ত্রণ জানানোও নিষিদ্ধ। তা সত্ত্বেও অনলি ফ্যানসের জনপ্রিয় কনটেন্ট নির্মাতাদের তথাকথিত কর্মক্ষেত্রে উপযোগী বা অশ্লীলতামূলক ভিডিওপ্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়ছে ।যুক্তরাজ্যের প্রচারাভিযানভিত্তিক সংগঠন সিজ (সেন্টার টু অ্যান্ড অল সেক্সুয়াল এক্সপ্লয়টেশন) এবং অস্ট্রেলিয়ার কালেক্টিভ সাউটে গবেষকরা 'টিকটক টু অনলি ফ্যানস পাইপলাইন' শীর্ষক গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন গবেষকরা কয়েক মাস ধরে কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ 'সেক্সফুয়েন্সার'-এর 'পোস্ট পর্যবেক্ষণ করেন। এরপর টিকটকের অ্যালগরিদম যেসব ভিডিও ও অ্যাকাউন্ট দেখার পরামর্শ দিয়েছে, সেগুলোও অনুসরণ করেন। ভাইরাল হওয়া বিভিন্ন পোস্টে অনলি ফ্যানসের কনটেন্ট নির্মাতার যৌন কনটেন্ট বিক্রি করে কত টাকা আয় করেছেন, অ অনুসারীদের জানিয়েছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, 'এসন পোস্টের সবচেয়ে প্রচলিত বার্তাগুলোর একটি হলো, অনলি ফ্যানসে যৌনসেবা বিক্রি করলে বিলাসবহুল জীবন পাওয়া যায়। এমন জীবন, যেখানে রয়েছে স্বাধীনতা, আনন্দ, বন্ধুত্ব এবং প্রচুর অর্থ।'