
নারায়ণগঞ্জ শহরকে হকার ও যানজটমুক্ত করার উদ্যোগগুলো বারবার হোঁচট খাচ্ছে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের (নাসিক) দীর্ঘসূত্রিতা ও অপরিকল্পিত পদক্ষেপের কারণে। প্রধান সড়কের ফুটপাত ফাঁকা রাখতে হকারদের রেললাইনের পাশে সাময়িকভাবে পুনর্বাসনের পরিকল্পনা করা হলেও, বাংলাদেশ রেলওয়ের কঠোর হস্তক্ষেপে তা শেষ পর্যন্ত ভেস্তে গেছে। দুই সংস্থার সমন্বয়হীনতা এবং উচ্ছেদ অভিযানের দুর্বল বাস্তবায়নের জেরে নগরবাসীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কাটছেই না।
উদ্যোগ ও ব্যর্থতা: গত এপ্রিল মাসে সিটি কর্পোরেশন নগরীর প্রধান সড়ক (বি.বি. রোড) হকারমুক্ত করতে জোরালো অভিযান চালায়। তবে স্থায়ী পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না থাকায় এবং নিয়মিত নজরদারির অভাবে কিছুদিন যেতে না যেতেই হকাররা পুনরায় ফুটপাত ও প্রধান সড়কে ফিরে আসে।
রেললাইনের পাশে পুনর্বাসনের চেষ্টা: সমস্যার স্থায়ী সমাধানের নামে সম্প্রতি চাষাঢ়া থেকে ২ নম্বর রেলগেট এলাকার মধ্যবর্তী রেললাইনের পাশের খালি জায়গা পরিষ্কার করে হকারদের সাময়িকভাবে বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেখানে বাঁশ ও খুঁটি দিয়ে প্রাথমিক অবকাঠামো তৈরির কাজও শুরু করেছিল সিটি কর্পোরেশন।
রেলওয়ের কঠোর অবস্থান: রেলওয়ের জমিতে ও লাইনের এত কাছাকাছি হকার পুনর্বাসনের এই পরিকল্পনা সম্পূর্ণ বেআইনি উল্লেখ করে কড়া অবস্থান নেয় বাংলাদেশ রেলওয়ে। পরবর্তীতে রেলওয়ের উচ্ছেদ অভিযানে সিটি কর্পোরেশনের তৈরি করা সব বাঁশ, খুঁটি ও অবৈধ অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
নাগরিক প্রতিক্রিয়া ও মূল সমস্যা
স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজের মতে, সিটি কর্পোরেশনের উচ্ছেদ অভিযানগুলো অধিকাংশ সময়ই লোক দেখানো ও নামমাত্র হয়ে থাকে। অভিযান শেষ হওয়ার সাথে সাথেই প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের ইশারায় হকাররা আগের মতো আবারও ফুটপাত দখল করে নেয়।
নগরবাসীর প্রত্যাশা—রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ যেভাবে তাদের জমিতে অবৈধ দখল বা স্থাপনা উচ্ছেদে আপসহীন মনোভাব দেখিয়েছে, সিটি কর্পোরেশনের উচিত অবৈধ দখলদার ও অটোরিকশা সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ঠিক একই রকম কঠোর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করা। কেবল দায়সারা গোছের অভিযান নয়, সুনির্দিষ্ট পুনর্বাসন পরিকল্পনা এবং প্রশাসনের কঠোর ও নিয়মিত মনিটরিংয়ের মাধ্যমেই কেবল নারায়ণগঞ্জ শহরকে একটি পরিচ্ছন্ন ও যানজটমুক্ত নগরীতে রূপান্তর করা সম্ভব।