
ময়মনসিংহ-নেত্রকোনা মহাসড়কের শ্যামগঞ্জ বাজারে অবস্থিত ‘সরকার বেকারি’র বিরুদ্ধে ভয়াবহ নোংরা পরিবেশে খাদ্যপণ্য তৈরির অভিযোগ উঠেছে। জনস্বাস্থ্যের চরম তোয়াক্কা না করে এবং সরকারি কোনো বৈধ লাইসেন্স ছাড়াই আমিনুল সরকারের মালিকানাধীন এই প্রতিষ্ঠানে চলছে রুটি ও বিস্কুটসহ বিভিন্ন বেকারি সামগ্রীর উৎপাদন। নিম্নবিত্ত ও খেটে খাওয়া মানুষের সরলতার সুযোগ নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি দিনের পর দিন বিষাক্ত খাদ্য বাজারজাত করে যাচ্ছে।অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশের চিত্র।সরেজমিনে দেখা গেছে, কারখানার অভ্যন্তরে চরম অস্বাস্থ্যকর ও পঙ্কিল পরিবেশ বিরাজমান। স্যাঁতসেঁতে মেঝের ওপর ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা আটা-ময়দার মিশ্রণে ঘুরছে পোকামাকড়। শ্রমিকদের হাত ও পরনের পোশাকের অপরিচ্ছন্নতা প্রমাণ করে যে, সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের প্রতি এই কর্তৃপক্ষের নূন্যতম দায়বদ্ধতা নেই। সুরক্ষা সরঞ্জামহীন এই উৎপাদন প্রক্রিয়া মূলত সাধারণ মানুষের পেটে মরণব্যাধি পুশ করার নামান্তর।আইন অমান্যের বেপরোয়া নজির ।অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিএসটিআই কিংবা স্যানিটারি কোনো ছাড়পত্র নেই। একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান যেভাবে আইন মেনে চালানোর কথা, তার ছিটেফোঁটাও এখানে অনুপস্থিত। লাইসেন্সবিহীন এই অবৈধ কর্মকাণ্ড চললেও প্রশাসনের চোখের আড়ালে থেকে মালিক আমিনুল সরকার তার সিন্ডিকেট ব্যবহার করে জনস্বার্থের চরম ক্ষতিসাধন করে চলেছেন।সাংবাদিকদের সাথে চরম ধৃষ্টতা ও মালিকের চ্যালেঞ্জ।
বেকারির এই অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে মালিক পক্ষকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা চরম ঔদ্ধত্য প্রদর্শন করেন। কোনো সদুত্তর দেওয়ার পরিবর্তে মালিক আমিনুল সরকার অত্যন্ত তাচ্ছিল্যের সাথে সাংবাদিককে বলেন, যাকে খুশি জানান, যা পারেন করেন গে—আমাদের কিছুই হবে না। আইনের প্রতি এমন চরম অশ্রদ্ধা এবং সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে এমন তুচ্ছজ্ঞান প্রমাণ করে যে, তারা নিজেদের আইনের ঊর্ধ্বে বলে মনে করছেন।প্রশাসনের প্রতি জরুরি আহ্বানএকটি জনগুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের পাশে বসে এভাবে মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা এবং আইনের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। অবিলম্বে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এই অবৈধ কারখানাটি সিলগালা করে মালিকের ঔদ্ধত্যের উপযুক্ত বিচার নিশ্চিত করতে সচেতন মহলের পক্ষ থেকে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করা হচ্ছে।