
সংসার জীবনের দীর্ঘ পথচলায় সুখ-দুঃখ আর হাসি-কান্না—সবকিছুই একসঙ্গে ভাগ করে নিয়েছিলেন ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার মোহাম্মদ আলী ও সেলিনা বেগম দম্পতি। তবে জীবনের শেষ অধ্যায়ে এসে তাঁরা যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন, তা রূপকথার মতো হলেও নির্মম সত্য। স্বামীর মৃত্যুর শোক সইতে না পেরে মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে চিরবিদায় নিলেন স্ত্রীও।
ঘটনাটি ঘটে গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল সোয়া ১০টার দিকে, উপজেলার খেরুয়াজানী ইউনিয়নের বন্দগোয়ালীয়া পুরাতন বাজার এলাকায়।
মর্মান্তিক ঘটনার বিবরণ
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ৬০ বছর বয়সী মোহাম্মদ আলী ওরফে মুহাম্মদ মিস্ত্রি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। ইতিপূর্বে তিনি পরপর তিনটি স্ট্রোকের শিকার হন। গত পরশু দিনই তাঁকে হাসপাতাল থেকে বাড়িতে আনা হয়েছিল।
বুধবার সকালে হঠাৎ তাঁর শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটে। খবর পেয়ে দ্রুত ছুটে আসেন স্ত্রী সেলিনা বেগম (৪৫)। স্বামীর নিথর হয়ে যাওয়া এবং মৃত্যুর মুহূর্তটি চোখের সামনে দেখাটাই কাল হয়ে দাঁড়ায় স্ত্রীর জন্য। স্বজনদের বিবরণ অনুযায়ী, স্বামীর মৃত্যুর শোক ও মানসিক ধাক্কা সহ্য করতে না পেরে দাঁড়ানো অবস্থাতেই হঠাৎ মাটিতে লুটিয়ে পড়েন সেলিনা বেগম। এরপর আর চোখ খোলেননি তিনি। স্বামীর মৃত্যুর রেশ কাটতে না কাটতেই স্ত্রীর এই আকস্মিক প্রয়াণ পুরো এলাকায় স্তব্ধতা নামিয়ে আনে।
প্রশাসনের বক্তব্য
এই মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন মুক্তাগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম। তিনি জানান, এলাকাবাসীর মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রীর একসঙ্গে মৃত্যুর বিষয়টি তাঁরা জানতে পেরেছেন। এটি একটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও হৃদয়বিদারক ঘটনা।
একসঙ্গে চিরনিদ্রায় দম্পতি
জীবনের মতো মৃত্যুর পরও যেন আলাদা হলেন না এই যুগল। বুধবার মাগরিবের নামাজের পর বন্দগোয়ালীয়া পুরাতন বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে তাঁদের একসঙ্গে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে বাড়ির পাশের পারিবারিক কবরস্থানে পাশাপাশি তাঁদের দাফন সম্পন্ন হয়।
মৃত্যুকালে এই দম্পতি দুই ছেলে ও তিন মেয়ে রেখে গেছেন। একসঙ্গে বেঁচে থাকার পণ করা এই চিরসাথী দম্পতির এমন আকস্মিক ও পাশাপাশি চলে যাওয়ার ঘটনায় পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।