
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, পাউরুটি নরম ও ফোলা করতে অনেক অসাধু ব্যবসায়ী পটাশিয়াম ব্রোমেট (Potassium Bromate) এবং পটাশিয়াম আয়োডেট (Potassium Iodate) ব্যবহার করেন।
বিপত্তি যেখানে: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এবং আন্তর্জাতিক ক্যানসার গবেষণা সংস্থা (IARC) পটাশিয়াম ব্রোমেটকে 'কার্সিনোজেন' বা ক্যানসার সৃষ্টিকারী উপাদান হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
প্রভাব: এটি কিডনি রোগ, থাইরয়েডের সমস্যা এবং পাকস্থলীর জটিলতার কারণ হতে পারে।
বর্তমান অবস্থা: বিশ্বের অনেক দেশেই খাদ্যপণ্যে এই রাসায়নিকের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বাংলাদেশেও বিএসটিআই (BSTI) এর কঠোর নজরদারি রয়েছে, তবে স্থানীয় পর্যায়ের অনেক বেকারিতে এখনো এর ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়।
🧈 ঘিতে নেই দুধের অস্তিত্ব: শুধুই রাসায়নিক ও ডালডা
বিশুদ্ধ ঘি হওয়ার কথা গরুর দুধের সর বা মাখন থেকে। কিন্তু বর্তমানে বাজারে এমন কিছু ঘি পাওয়া যাচ্ছে যাতে এক ফোঁটা দুধের অস্তিত্বও নেই।
কী দিয়ে তৈরি হচ্ছে এই 'নকল ঘি'?
মূলত পাম অয়েল বা ডালডা (Vegetable Fat) জমিয়ে তাতে ঘিয়ের স্বাদ আনা হয়।
ফ্লেভার বা সুগন্ধি: ঘিয়ের আসল ঘ্রাণ আনতে ব্যবহার করা হয় কৃত্রিম রাসায়নিক সুগন্ধি।
রঙ: উজ্জ্বল হলুদ দেখাতে টেক্সটাইল ডাই বা ক্ষতিকর রং মেশানো হয়।
স্বাস্থ্য ঝুঁকি: এই নকল ঘি রক্তে কোলেস্টেরল বাড়িয়ে দেয়, যা থেকে হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।
🛡️ নিজেকে সুরক্ষিত রাখবেন যেভাবে
১. প্যাকেটের গায়ে নজর দিন: পাউরুটি কেনার সময় উপাদানের তালিকায় 'Potassium Bromate' বা 'E924' আছে কি না চেক করুন।
২. ব্র্যান্ড যাচাই: লোগো এবং বিএসটিআই (BSTI) অনুমোদিত কি না তা দেখে ভালো ব্র্যান্ডের পণ্য কিনুন।
৩. ঘি পরীক্ষা:
* এক চামচ ঘি হাতের তালুতে নিয়ে ঘষুন, যদি গলে যায় এবং ঘ্রাণ দীর্ঘস্থায়ী হয় তবে সেটি আসল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
* আসল ঘি আগুনের তাপে দ্রুত গলে বাদামী বর্ণ ধারণ করে, কিন্তু নকল ঘি গলতে সময় নেয় এবং হলদেটে থেকে যায়।
সতর্কবার্তা: অতিরিক্ত সাদা বা অতিরিক্ত ফোলানো পাউরুটি এবং সস্তায় পাওয়া চকচকে ঘি এড়িয়ে চলাই স্বাস্থ্যের জন্য মঙ্গলজনক। সুস্থ থাকতে প্রাকৃতিক ও ঘরে তৈরি খাবারের প্রতি গুরুত্ব দিন।