০৩:৫৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাগুরার মহম্মদপুরে ৫ কিমি কাঁচা রাস্তা ১০ গ্রামের মানুষের নিত্য দুর্ভোগ, শুষ্ক মৌসুমে ধুলা আর বর্ষায় কাদা-পানির সাগর!

শাহিনুর ইসলামঃ বিশেষ প্রতিনিধি:
  • Update Time : ০৯:১৮:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬
  • / ২২ Time View

​একটি মাত্র কাঁচা রাস্তার বেহাল দশার কারণে বছরজুড়েই চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার বালিদিয়া ইউনিয়নসহ আশপাশের অন্তত ১০টি গ্রামের হাজার হাজার মানুষকে। উপজেলার বালিদিয়া ইউনিয়নের বড়রিয়া গ্রামের রাশেদ সরদারের বাড়ি থেকে কলমধারী বাজার পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রাস্তাটির বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত করুণ।
​রাস্তার কিছু কিছু অংশে আগে ইটের সলিং করা হলেও দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় তা ভেঙেচুরে খানাখন্দে পরিণত হয়েছে। ফলে শুষ্ক মৌসুমে পুরো রাস্তা ধুলাবালিতে ঢেকে যায় এবং বর্ষাকালে সামান্য বৃষ্টিতেই তা কাদা-পানিতে একাকার হয়ে পড়ে। বর্তমানে রাস্তাটিতে হেঁটে চলাচলেও চরম কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।
​যাতায়াতের প্রধান ভরসা, অথচ চরম ভোগান্তি
​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন বালিদিয়া ইউনিয়নের বড়রিয়া, নিখরহাটা, কলমধারী, বনগ্রাম, নাওভাঙ্গা, বালিদিয়াসহ পার্শ্ববর্তী মহম্মদপুর ও রাজাপুর ইউনিয়নের অংশবিশেষের প্রায় ১০টি গ্রামের মানুষ যাতায়াত করেন। উপজেলা সদরে আসার জন্য এটিই তাদের প্রধান ভরসা। এছাড়া আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে যাতায়াত ও বাণিজ্যিক নানা প্রয়োজনে পার্শ্ববর্তী জেলা ও উপজেলার মানুষেরও এই সড়কটি ব্যবহার করতে গিয়ে সীমাহীন ভোগান্তির শিকার হতে হয়।
​শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্যসেবায় বড় সংকট
​সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এই সড়কের আশপাশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা, কবরস্থান, ঈদগাহ ও এতিমখানাসহ বেশ কয়েকটি শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান রয়েছে। রাস্তাটির বেহাল দশার কারণে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়ছেন কৃষক ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবাপ্রার্থী রোগীরা।
​স্থানীয়দের আকুতি
​বড়রিয়া গ্রামের কৃষক ফুল মিয়া শিকদার আক্ষেপ করে বলেন,
​”কাঁচা রাস্তার কারণে ক্ষেতের ফসল হাটে-বাজারে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। ভ্যান বা নছিমনচালক সড়কটির নাম শুনলেই আসতে চায় না, আবার এলেও দ্বিগুণ ভাড়া দাবি করে। অনেক সময় মালামালসহ যান উল্টে গিয়ে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হয়।”
​কলমধারী গ্রামের বাসিন্দা ও দলিল লেখক আব্দুর রশীদ শেখ জানান,
​”খানাখন্দে ভরা এই সড়কে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকেরা প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হন। সবচেয়ে বড় সংকট তৈরি হয় কেউ অসুস্থ হলে। কোনো জরুরি রোগীকে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়ার মতো পরিবেশ এখানে নেই।”
​হাজার হাজার মানুষের নিত্যদিনের যাতায়াত সহজ করতে এবং কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে দ্রুত এই পাঁচ কিলোমিটার সড়ক পাকাকরণের ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

মাগুরার মহম্মদপুরে ৫ কিমি কাঁচা রাস্তা ১০ গ্রামের মানুষের নিত্য দুর্ভোগ, শুষ্ক মৌসুমে ধুলা আর বর্ষায় কাদা-পানির সাগর!

Update Time : ০৯:১৮:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

​একটি মাত্র কাঁচা রাস্তার বেহাল দশার কারণে বছরজুড়েই চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার বালিদিয়া ইউনিয়নসহ আশপাশের অন্তত ১০টি গ্রামের হাজার হাজার মানুষকে। উপজেলার বালিদিয়া ইউনিয়নের বড়রিয়া গ্রামের রাশেদ সরদারের বাড়ি থেকে কলমধারী বাজার পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রাস্তাটির বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত করুণ।
​রাস্তার কিছু কিছু অংশে আগে ইটের সলিং করা হলেও দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় তা ভেঙেচুরে খানাখন্দে পরিণত হয়েছে। ফলে শুষ্ক মৌসুমে পুরো রাস্তা ধুলাবালিতে ঢেকে যায় এবং বর্ষাকালে সামান্য বৃষ্টিতেই তা কাদা-পানিতে একাকার হয়ে পড়ে। বর্তমানে রাস্তাটিতে হেঁটে চলাচলেও চরম কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।
​যাতায়াতের প্রধান ভরসা, অথচ চরম ভোগান্তি
​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন বালিদিয়া ইউনিয়নের বড়রিয়া, নিখরহাটা, কলমধারী, বনগ্রাম, নাওভাঙ্গা, বালিদিয়াসহ পার্শ্ববর্তী মহম্মদপুর ও রাজাপুর ইউনিয়নের অংশবিশেষের প্রায় ১০টি গ্রামের মানুষ যাতায়াত করেন। উপজেলা সদরে আসার জন্য এটিই তাদের প্রধান ভরসা। এছাড়া আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে যাতায়াত ও বাণিজ্যিক নানা প্রয়োজনে পার্শ্ববর্তী জেলা ও উপজেলার মানুষেরও এই সড়কটি ব্যবহার করতে গিয়ে সীমাহীন ভোগান্তির শিকার হতে হয়।
​শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্যসেবায় বড় সংকট
​সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এই সড়কের আশপাশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা, কবরস্থান, ঈদগাহ ও এতিমখানাসহ বেশ কয়েকটি শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান রয়েছে। রাস্তাটির বেহাল দশার কারণে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়ছেন কৃষক ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবাপ্রার্থী রোগীরা।
​স্থানীয়দের আকুতি
​বড়রিয়া গ্রামের কৃষক ফুল মিয়া শিকদার আক্ষেপ করে বলেন,
​”কাঁচা রাস্তার কারণে ক্ষেতের ফসল হাটে-বাজারে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। ভ্যান বা নছিমনচালক সড়কটির নাম শুনলেই আসতে চায় না, আবার এলেও দ্বিগুণ ভাড়া দাবি করে। অনেক সময় মালামালসহ যান উল্টে গিয়ে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হয়।”
​কলমধারী গ্রামের বাসিন্দা ও দলিল লেখক আব্দুর রশীদ শেখ জানান,
​”খানাখন্দে ভরা এই সড়কে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকেরা প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হন। সবচেয়ে বড় সংকট তৈরি হয় কেউ অসুস্থ হলে। কোনো জরুরি রোগীকে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়ার মতো পরিবেশ এখানে নেই।”
​হাজার হাজার মানুষের নিত্যদিনের যাতায়াত সহজ করতে এবং কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে দ্রুত এই পাঁচ কিলোমিটার সড়ক পাকাকরণের ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।