১১:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নরসিংদীর বেলাবতে শিশু ধর্ষণের প্রতিবাদে মানববন্ধন

মোঃশাহাদাত শহ্
  • Update Time : ১২:৩৭:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ জুলাই ২০২৫
  • / ১৫১ Time View

নরসিংদীর বেলাব উপজেলার কাঙ্গালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ ও জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মানববন্ধনে বক্তারা ধর্ষণকারী আলকাছ মিয়ার দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।

রবিবার (২০ জুলাই ২০২৫ ইং) বিকাল ৫টায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের গকুলনগর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ মানববন্ধনের আয়োজন করে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, বেলাব সাংগঠনিক জেলা শাখা।
“ধর্ষণ মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত মানববন্ধনে স্থানীয় জনসাধারণ, বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ, নারী অধিকারকর্মী এবং শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

প্রতিবাদী এই মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ বেলাব সাংগঠনিক জেলা শাখার সভানেত্রী রাবেয়া খাতুন শান্তি এবং সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদা শারমিনের সঞ্চালনায়

এ সময় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ বেলাব উপজেলা শাখার লিগ্যাল এইড সম্পাদক,
রোকসানা আক্তার , কাঙ্গালিয়া গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি ও সমাজসেবক সাঈদ নবী, স্থানীয় ব্যবসায়ী হোসেন মিয়া, কাঙ্গালিয়া গ্রামের তরুণ প্রতিনিধি জুবাইয়ের,
নোয়াকান্দি গ্রামের বাসিন্দা সাইফুল মিয়া
বক্তারা বলেন, একজন দ্বিতীয় শ্রেণির শিশুকে ধর্ষণের মতো নৃশংস ও ঘৃণ্য অপরাধ সমাজে কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। একজন পূর্ণবয়স্ক পুরুষ কীভাবে এমন নিষ্ঠুরতার পথ বেছে নেয়, তা ভাবলে গা শিউরে উঠে। তারা বলেন, এ ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা আরও সক্রিয় হওয়া উচিত। এখন পর্যন্ত ধর্ষক আলকাছ মিয়ার গ্রেপ্তার না হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।
সভানেত্রী রাবেয়া খাতুন শান্তি বলেন, “এটা কোনো ব্যক্তিগত বা পারিবারিক ঘটনা নয়, এটা সমাজের সম্মিলিত নিরাপত্তা ব্যবস্থার ব্যর্থতা। শিশুদের সুরক্ষা দিতে না পারলে রাষ্ট্র ব্যর্থ।”

সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদা শারমিন বলেন, “ধর্ষণের বিচার বিলম্বিত হলে অপরাধীরা উৎসাহ পায়। প্রশাসনকে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে অপরাধীকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে।”

জনতার দাবির ঝড়—‘শিশু নিরাপত্তায় প্রশাসনকে কঠোর হতে হবে’
সমাবেশে অংশ নেওয়া অনেকেই বলেন, এই ধরনের ঘটনা শুধু নির্যাতিত পরিবার নয়, পুরো সমাজকে হতাশ করে। শিশুদের নিরাপত্তা আজ প্রশ্নবিদ্ধ। নারী ও শিশু নির্যাতন বন্ধে প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের কার্যকর ভূমিকা না থাকলে এর ভয়াবহতা আরও বাড়বে।

মানববন্ধনের আহ্বান: ‘ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তিই হোক দৃষ্টান্ত’ বক্তারা জানান, একমাত্র দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিই পারে সমাজে ধর্ষণের মতো অপরাধ প্রতিরোধ করতে। তারা ধর্ষক আলকাছ মিয়াকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ সাজা নিশ্চিত করার দাবি জানান। মানববন্ধন শেষে সবাই একসঙ্গে শ্লোগান তোলেন—“ধর্ষণকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি চাই”, “শিশু নির্যাতন বন্ধ করো”, “ধর্ষণ বন্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ করো।”
এ মানববন্ধনের মধ্য দিয়ে এলাকার মানুষ যেমন প্রতিবাদ জানালেন, তেমনি প্রশাসনের প্রতি বার্তা দিলেন—নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স বাস্তবায়ন করুন। এলাকার জনগণ আশা করছেন, দ্রুতই দোষী ব্যক্তি গ্রেপ্তার হবে এবং আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি পাবে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

নরসিংদীর বেলাবতে শিশু ধর্ষণের প্রতিবাদে মানববন্ধন

Update Time : ১২:৩৭:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ জুলাই ২০২৫

নরসিংদীর বেলাব উপজেলার কাঙ্গালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ ও জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মানববন্ধনে বক্তারা ধর্ষণকারী আলকাছ মিয়ার দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।

রবিবার (২০ জুলাই ২০২৫ ইং) বিকাল ৫টায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের গকুলনগর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ মানববন্ধনের আয়োজন করে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, বেলাব সাংগঠনিক জেলা শাখা।
“ধর্ষণ মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত মানববন্ধনে স্থানীয় জনসাধারণ, বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ, নারী অধিকারকর্মী এবং শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

প্রতিবাদী এই মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ বেলাব সাংগঠনিক জেলা শাখার সভানেত্রী রাবেয়া খাতুন শান্তি এবং সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদা শারমিনের সঞ্চালনায়

এ সময় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ বেলাব উপজেলা শাখার লিগ্যাল এইড সম্পাদক,
রোকসানা আক্তার , কাঙ্গালিয়া গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি ও সমাজসেবক সাঈদ নবী, স্থানীয় ব্যবসায়ী হোসেন মিয়া, কাঙ্গালিয়া গ্রামের তরুণ প্রতিনিধি জুবাইয়ের,
নোয়াকান্দি গ্রামের বাসিন্দা সাইফুল মিয়া
বক্তারা বলেন, একজন দ্বিতীয় শ্রেণির শিশুকে ধর্ষণের মতো নৃশংস ও ঘৃণ্য অপরাধ সমাজে কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। একজন পূর্ণবয়স্ক পুরুষ কীভাবে এমন নিষ্ঠুরতার পথ বেছে নেয়, তা ভাবলে গা শিউরে উঠে। তারা বলেন, এ ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা আরও সক্রিয় হওয়া উচিত। এখন পর্যন্ত ধর্ষক আলকাছ মিয়ার গ্রেপ্তার না হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।
সভানেত্রী রাবেয়া খাতুন শান্তি বলেন, “এটা কোনো ব্যক্তিগত বা পারিবারিক ঘটনা নয়, এটা সমাজের সম্মিলিত নিরাপত্তা ব্যবস্থার ব্যর্থতা। শিশুদের সুরক্ষা দিতে না পারলে রাষ্ট্র ব্যর্থ।”

সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদা শারমিন বলেন, “ধর্ষণের বিচার বিলম্বিত হলে অপরাধীরা উৎসাহ পায়। প্রশাসনকে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে অপরাধীকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে।”

জনতার দাবির ঝড়—‘শিশু নিরাপত্তায় প্রশাসনকে কঠোর হতে হবে’
সমাবেশে অংশ নেওয়া অনেকেই বলেন, এই ধরনের ঘটনা শুধু নির্যাতিত পরিবার নয়, পুরো সমাজকে হতাশ করে। শিশুদের নিরাপত্তা আজ প্রশ্নবিদ্ধ। নারী ও শিশু নির্যাতন বন্ধে প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের কার্যকর ভূমিকা না থাকলে এর ভয়াবহতা আরও বাড়বে।

মানববন্ধনের আহ্বান: ‘ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তিই হোক দৃষ্টান্ত’ বক্তারা জানান, একমাত্র দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিই পারে সমাজে ধর্ষণের মতো অপরাধ প্রতিরোধ করতে। তারা ধর্ষক আলকাছ মিয়াকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ সাজা নিশ্চিত করার দাবি জানান। মানববন্ধন শেষে সবাই একসঙ্গে শ্লোগান তোলেন—“ধর্ষণকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি চাই”, “শিশু নির্যাতন বন্ধ করো”, “ধর্ষণ বন্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ করো।”
এ মানববন্ধনের মধ্য দিয়ে এলাকার মানুষ যেমন প্রতিবাদ জানালেন, তেমনি প্রশাসনের প্রতি বার্তা দিলেন—নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স বাস্তবায়ন করুন। এলাকার জনগণ আশা করছেন, দ্রুতই দোষী ব্যক্তি গ্রেপ্তার হবে এবং আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি পাবে।