বড়াইগ্রামে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা: ট্রাক-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে স্বামী-স্ত্রীসহ ৮ জন নিহত
- Update Time : ০৫:৩২:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ জুলাই ২০২৫
- / ১৪২ Time View

নাটোরের বড়াইগ্রামে একটি ট্রাক ও মাইক্রোবাসের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষের এক মর্মান্তিক ঘটনায় মাইক্রোবাসের চালকসহ আটজন আরোহীর সকলেই প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে এক দম্পতি ও তাদের নিকটাত্মীয় রয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ছয়জন নারী ও দুইজন পুরুষ। বুধবার (২৩ জুলাই, ২০২৫) সকাল আনুমানিক সাড়ে ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কের রয়না তরমুজ পাম্প এলাকায় এই হৃদয় বিদারক দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহতদের পরিচয়:
নিহত ব্যক্তিরা হলেন কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলার ধর্মদহ গ্রামের জাহিদুল ইসলাম (৬৫) ও তার স্ত্রী সেলিনা বেগম (৫৫), একই গ্রামের শহীদুল ইসলামের স্ত্রী আনোয়ারা বেগম (৭৫), মিজানুর রহমানের স্ত্রী আনু বেগম (৫৫), এবং প্রাগপুর গ্রামের রফেজ চৌধুরীর স্ত্রী ইতি খাতুন (৪০)। এছাড়াও নিহত হয়েছেন মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বেতবাড়ী গ্রামের মোহাম্মদ আলীর স্ত্রী আঞ্জুমান আরা বেগম (৭৪) ও সীমা খাতুন (৩৫) এবং মাইক্রোবাস চালক, গাংনী উপজেলার সাহাব হোসেন রুবেল (৩৫)।
দুর্ঘটনার প্রেক্ষাপট:
নিহতদের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলায় চিকিৎসাধীন একজন অসুস্থ আত্মীয়কে দেখতে তারা সকাল সাড়ে ৬টার দিকে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থেকে একটি মাইক্রোবাসে করে রওনা দিয়েছিলেন। পথিমধ্যে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি সিমেন্ট বোঝাই ট্রাকের সাথে তাদের মাইক্রোবাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। বনপাড়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন জানান, অন্য একটি গাড়িকে ওভারটেক করতে গিয়ে মাইক্রোবাসটি ভুল লেনে চলে আসায় এই মারাত্মক দুর্ঘটনাটি ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্ঘটনার শব্দটি ছিল ভয়াবহ। বিকট শব্দ শুনে আশেপাশের লোকজন ছুটে এসে দেখতে পান মাইক্রোবাসটির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে গেছে। সংঘর্ষের তীব্রতায় ঘটনাস্থলেই পাঁচজনের মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে বনপাড়া ও গুরুদাসপুর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এবং বনপাড়া হাইওয়ে থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। মাইক্রোবাসের বডি কেটে বাকিদের উদ্ধার করা হয়।
গুরুতর আহত অবস্থায় তিনজনকে উদ্ধার করে বড়াইগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে একজনের মৃত্যু হয়।বাকি দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন। এই দুর্ঘটনার ফলে মহাসড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়, যা ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার তৎপরতা শেষে প্রায় এক থেকে দুই ঘণ্টা পর স্বাভাবিক হয়।
প্রশাসনের পদক্ষেপ ও শোকাহত পরিবার:
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে নাটোরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইনসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং বড়াইগ্রাম উপজেলা নির্বাহী অফিসার লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। দুপুরে বনপাড়া হাইওয়ে থানা থেকে নিহতদের মরদেহ গ্রহণ করতে এসে পরিবারের সদস্যরা কান্নায় ভেঙে পড়েন, তাদের আহাজারিতে সেখানকার বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। অনেককে শোকে জ্ঞান হারাতেও দেখা যায়।
ওসি ইসমাইল হোসেন আরও জানান, দুর্ঘটনা কবলিত ট্রাক ও মাইক্রোবাস জব্দ করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।










