০৩:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৫ আগস্ট: ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে নবযুগের সূচনা

Reporter Name
  • Update Time : ১২:২৪:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ অগাস্ট ২০২৫
  • / ২২৮ Time View

আজ ৫ই আগস্ট, বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় দিন। গত বছর এই দিনেই ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসে দীর্ঘ প্রায় ১৬ বছরের আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনের অবসান ঘটে এবং দেশে গণতন্ত্রের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়। রক্তস্নাত সেই ঐতিহাসিক বিজয় দিবস আজ আবার ফিরে এসেছে।
২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের সেই বিকেল ছিল মুক্তি আর আনন্দের। সেনাপ্রধানের আনুষ্ঠানিক ভাষণের অপেক্ষা না করেই দেশের সর্বস্তরের মানুষ মুক্তির উল্লাসে রাজপথে নেমে আসে।
প্রতিটি গলি থেকে বেরিয়ে আসে খণ্ড খণ্ড মিছিল, যেখানে ছিল শিশু, শিক্ষার্থী, তরুণ, মসজিদের ইমাম, সবজি বিক্রেতা থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। সকলের হাতে ছিল বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা আর মুখে ছিল বিজয়ের স্লোগান।
এই ঐতিহাসিক দিনটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস দেশবাসীকে, বিশেষ করে ছাত্র-জনতাকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।
রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে উল্লেখ করেন, ‘২০২৪ সালের এই দিনে ছাত্র-শ্রমিক-জনতা বৈষম্যমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা ও স্বৈরাচারী অপশাসনের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তুলে চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে।’
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস তার বাণীতে বলেন, ‘জুলাই মাস আমাদের নতুন করে আশার আলো দেখিয়েছে—একটি ন্যায় ও সাম্যভিত্তিক, বৈষম্য ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন।
এই রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের সূচনা হয়েছিল ২০২৪ সালের জুন মাসে, সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে।[6] ‘কোটা নয়, মেধা চাই’— এই স্লোগান দিয়ে শুরু হওয়া আন্দোলনটি ধীরে ধীরে এক দফা দাবিতে পরিণত হয় এবং দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। সবার মুখে এক আওয়াজ ওঠে— ‘এক দফা, এক দাবি’। এই অহিংস আন্দোলন পরবর্তীকালে সহিংস রূপ ধারণ করে, যাতে শত শত ছাত্র-জনতা নিহত হন।
অবশেষে, ছাত্র-জনতার লাগাতার বিক্ষোভ এবং গণ-অসহযোগ আন্দোলনের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করতে বাধ্য হন এবং দেশ ত্যাগ করেন। সেই দিনটিতেই বাংলাদেশ এক নতুন যুগে প্রবেশ করে, যা জনগণের বিজয় এবং গণতান্ত্রিক প্রত্যাশার প্রতীক হয়ে থাকবে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

৫ আগস্ট: ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে নবযুগের সূচনা

Update Time : ১২:২৪:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ অগাস্ট ২০২৫

আজ ৫ই আগস্ট, বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় দিন। গত বছর এই দিনেই ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসে দীর্ঘ প্রায় ১৬ বছরের আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনের অবসান ঘটে এবং দেশে গণতন্ত্রের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়। রক্তস্নাত সেই ঐতিহাসিক বিজয় দিবস আজ আবার ফিরে এসেছে।
২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের সেই বিকেল ছিল মুক্তি আর আনন্দের। সেনাপ্রধানের আনুষ্ঠানিক ভাষণের অপেক্ষা না করেই দেশের সর্বস্তরের মানুষ মুক্তির উল্লাসে রাজপথে নেমে আসে।
প্রতিটি গলি থেকে বেরিয়ে আসে খণ্ড খণ্ড মিছিল, যেখানে ছিল শিশু, শিক্ষার্থী, তরুণ, মসজিদের ইমাম, সবজি বিক্রেতা থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। সকলের হাতে ছিল বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা আর মুখে ছিল বিজয়ের স্লোগান।
এই ঐতিহাসিক দিনটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস দেশবাসীকে, বিশেষ করে ছাত্র-জনতাকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।
রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে উল্লেখ করেন, ‘২০২৪ সালের এই দিনে ছাত্র-শ্রমিক-জনতা বৈষম্যমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা ও স্বৈরাচারী অপশাসনের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তুলে চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে।’
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস তার বাণীতে বলেন, ‘জুলাই মাস আমাদের নতুন করে আশার আলো দেখিয়েছে—একটি ন্যায় ও সাম্যভিত্তিক, বৈষম্য ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন।
এই রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের সূচনা হয়েছিল ২০২৪ সালের জুন মাসে, সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে।[6] ‘কোটা নয়, মেধা চাই’— এই স্লোগান দিয়ে শুরু হওয়া আন্দোলনটি ধীরে ধীরে এক দফা দাবিতে পরিণত হয় এবং দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। সবার মুখে এক আওয়াজ ওঠে— ‘এক দফা, এক দাবি’। এই অহিংস আন্দোলন পরবর্তীকালে সহিংস রূপ ধারণ করে, যাতে শত শত ছাত্র-জনতা নিহত হন।
অবশেষে, ছাত্র-জনতার লাগাতার বিক্ষোভ এবং গণ-অসহযোগ আন্দোলনের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করতে বাধ্য হন এবং দেশ ত্যাগ করেন। সেই দিনটিতেই বাংলাদেশ এক নতুন যুগে প্রবেশ করে, যা জনগণের বিজয় এবং গণতান্ত্রিক প্রত্যাশার প্রতীক হয়ে থাকবে।