রবিবার, ৩১ মে ২০২০, ০৬:১৬ পূর্বাহ্ন

সর্বশেষ সংবাদ :
কর্পোরেট ট্যাক্সে ছাড় , বাজেট ২০২০-২০২১ আম্ফানের বিধ্বস্ত বেড়িবাঁধ নিজেরাই মেরামত করেছে খুলনার উপকূলবাসী নীলফামারী জেলায় আরো ১৯ জন করোনা শনাক্ত মধুখালী উপজেলা, পৌর ও কলেজ ছাত্রদলের পক্ষে বৃক্ষরোপন ঝালকাঠিতে পুলিশকে কোপানোর ঘটনায় আটক ২জন বরিশালে অসহায়  মানুষকে ফ্রি চিকিৎসা ও ঔষধ দিলো সেনাবাহিনী নতুন সূচী ঘোষণা এফএ কাপের শপথ গ্রহণ করেছেন হাইকোর্টের ১৮ বিচারপতির লিবিয়া থেকে মাকে ফোন যুবকের: সব বেচে টাকা পাঠাও, আমারে বাঁচাও! ওবায়দুল কাদের” গণপরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি মানা না হলে ব্যবস্থা করোনা মোকাবেলায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের আরও সম্পৃক্তির আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর করোনার টিকার সফলতা নিয়ে ৯৯ ভাগ নিশ্চিত চীনা বিজ্ঞানীরা টিকিট বিক্রি অনলাইনে, ট্রেনের ভাড়া বাড়ছে না স্বামী-শ্বশুড়-শ্বাশুড়ি মিলে হত্যা করে বউকে,প্রচারনা ভূতের আগামীকাল খুলে দেয়া হচ্ছে পবিত্র কাবা শরীফ এবং মসজিদে নববী চালু হচ্ছে গণপরিবহন, ৮০ শতাংশ ভাড়া বাড়ছে র‌্যাবের অভিযানে অস্ত্রসহ রোহিঙ্গা অস্ত্র ব্যবসায়ী আটক টেকনাফে কাল থেকে চলবে বরিশাল-ঢাকা নৌরুটের লঞ্চ, বরিশাল বিভাগে নতুন করে সর্বোচ্চ ৩৯ জনের করোনা শনাক্ত, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ১৭৬৪ জনের করোনা শনাক্ত
করোনাঃ মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে কমিউনিটি ক্লিনিক কর্মীরা

করোনাঃ মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে কমিউনিটি ক্লিনিক কর্মীরা

ঢাকার গার্মেন্টস কর্মী আশরাফুল ইসলাম।দেশে করোনা প্রাদুর্ভাবের শুরুতেই বরিশাল নিজ বাড়িতে চলে এসেছেন। কদিন বাদে হালকা জ্বরে আক্রান্ত হলে একটু চিন্তিত হয়ে পড়েন। তিনি শুনেছেন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা হাসপাতাল গুলোতে জ্বরের চিকিৎসা নাকি আপাতত বন্ধ। চিকিৎসকদের ব্যক্তিগত কেন্দ্র গুলোতেও জ্বরের রোগী দেখছেন না কেউ। অগত্যা বাড়ির পাশের কমিউনিটি ক্লিনিকে (সিসি) যেতে হয়েছে তাকে। সেখানে দায়িত্বরত স্বাস্থ্য কর্মী (সিএইচসিপি) করোনা প্রতিরোধক নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছাড়াই তাকে চিকিৎসা দিয়েছেন। কমিউনিটি ক্লিনিক (সিসি) থেকে প্রাপ্ত চিকিৎসাতেই আশরাফুল সুস্থ হয়েছেন। আশরাফুলের চিকিৎসা দেওয়া স্বাস্থ্য কর্মী বা কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) জানিয়েছেন তাদের জন্য কোনো করোনা প্রতিরোধক নিরাপত্তা সামগ্রী এখনো দেওয়া হয় নি। মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে থাকলেও কোনো প্রকার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা পোষাক (পিপিই), গ্লভস কিংবা মাস্ক কিছুই হাতে পান নি তারা। ঝুঁকি নিয়েই প্রতিদিন সকাল ৮ টা থেকে ১২ টা পর্যন্ত রোগী দেখতে হচ্ছে৷ মৌসুম পরিবর্তনের কারণে আগত রোগীদের বেশিরভাগই জ্বরে আক্রান্ত। এখন এদের মধ্যে কেউ যদি করোনা আক্রান্ত হয়ে থাকে তবুও তার রোগ চিহ্নিত কিংবা চিকিৎসা না দেবার কোন সুযোগ সিএইচসিপিদের নেই। এছাড়া চিকিৎসা দিতে গিয়ে নিজে এবং আরো অনেকে করোনা সংক্রমণে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা তো আছেই। জেলায় ২৬০ টি কমিউনিটি ক্লিনিক আছে বলে নিশ্চিত করেছেন সিএইচসিপি বরিশাল জেলা এসোসিয়েশনের সভাপতি সরফরাজ চৌধুরী। তিনি বলেন, ” বরিশালের বড় দুটি হাসপাতালের (শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ ও সদর হাসপাতাল) বহিঃ বিভাগ আপাতত বন্ধ আছে। তাই প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর রোগীরা আমাদের কাছেই ভিড় করছে চিকিৎসার জন্য। আগে যেখানে গড়ে প্রতিদিন ৩০-৪০ জন রোগী দেখেছি এখন দেখতে হচ্ছে তার দ্বিগুণ। তিনি আরো জানান, এসব রোগীদের বেশিরভাগই জ্বর, কাশি, গলা ব্যাথা সহ করোনার প্রাথমিক উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিতে আসছে। যেহেতু উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এখনো কোনো ধরণের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা সামগ্রী পান নি তাই নিরুপায় হয়েই ঝুঁকি নিয়ে রোগী দেখছেন তারা। সিএইচসিপিদের বরিশাল সদর উপজেলা এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ইয়াছির আরাফাত জানান, সদর উপজেলায় সিসির সংখ্যা ৩৬ টি। প্রতিটি সিসিতে একজন করে সিএইচসিপি আছেন। ব্যক্তিগত নিরাপত্তা সামগ্রী দূরে থাক এই বিপর্যয়ের সময় ক্লিনিক জীবাণু মুক্ত রাখার মতো কোন সামগ্রীও উর্ধতন কর্তৃপক্ষ সরবরাহ করে নি৷ তিনি বলেন, ” চিকিৎসকরা ব্যক্তিগত নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে প্রাইভেট প্রাকটিস বন্ধ করে দিয়েছে৷ শেরে বাংলা হাসপাতালের একজন বিভাগীয় প্রধান পর্যন্ত নিরাপত্তার ভয়ে চাকরি ছাড়ার আবেদন করেছে৷ সেখানে প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমরা এই বিপর্যয়ে রোগীদের সেবা দিচ্ছি। কিন্তু উর্ধতন কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা আমাদের উৎকন্ঠায় ফেলেছে”। সিএইচসিপিদের এমন অবস্থা সম্পর্কে অবগত আছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক ডা. বাসুদেব কুমার। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ” সিএইচসিপিদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়ে আমরাও কনসার্ন। তাদেরকে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা সামগ্রী সরবরাহের সিদ্ধান্ত আমরা ইতোমধ্যে নিয়েছি৷ শীঘ্রই বিভিন্ন নিরাপত্তা সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হবে”৷ তবে কবে নাগাদ জেলার সকল সিএইচসিপি করোনা প্রতিরোধক নিরাপত্তা উপকরণ হাতে পাবে সেটা নিশ্চিত করে জানাতে পারেন নি তিনি। সকল সিএইচসিপি নিরাপত্তা উপকরণ পাবে কিনা সে ব্যাপারেও নিশ্চয়তা পাওয়া যায় নি জেলা সিভিল সার্জন অফিস থেকে৷ তবে ইতোমধ্যে জেলার সিএইচসিপিদের নিরাপত্তা সামগ্রী প্রদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিভিল সার্জন ডা. মনোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, ” উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ করে উপজেলা পর্যায় থেকে কিছু পিপিই সিএইচসিপিদের বিতরণ শুরু হয়েছে৷ খুব তাড়াতাড়ি আরো সরবরাহ করা হবে”।

 58 total views,  1 views today

নিউজটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন




🏡 আমাদের পরিবারঃ

  • প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃআরিফুল ইসলাম
  • মোবাইলঃ ০১৭৭৭৮৮৮৮৯৭, ০১৯৫০৯০৬০৬০
  • ঠিকানাঃ
  • ১০ প্যারারা রোড (সাফারিয়া ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ৬ তলা), বরিশাল
  • ইমেইলঃ doinikjonotarkhobor@gmail.com

 

➤সতর্কীকরণ: এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।

© All rights reserved © 2018 doinikjonotarkhobor