০২:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কালীগঞ্জে স্কাউটসের ক্যাম্প ফায়ারে পেট্রোলের আগুন দিয়ে ছাত্র দগ্ধ, ধামাচাপার চেষ্টার অভিযোগ

শাহিনুর ইসলামঃ বিশেষ প্রতিনিধি:
  • Update Time : ১২:৩৬:৪৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬
  • / ৩৬ Time View

সাতক্ষীরার কালীগঞ্জে স্কাউটসের বার্ষিক তাঁবু জলসার সমাপনী দিনে ক্যাম্প ফায়ারে মুখে পেট্রোল নিয়ে আগুন জ্বালানোর সময় মারাত্মকভাবে অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন দশম শ্রেণির এক ছাত্র। বর্তমানে সে খুলনা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে।
​লোমহর্ষক এই ঘটনা ঘটলেও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও স্কাউটস শিক্ষকরা বিষয়টি সম্পূর্ণ ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এমনকি ঘটনাটি উপজেলা প্রশাসন, শিক্ষা কর্মকর্তা ও থানাকে না জানানোর কারণে এলাকায় তীব্র সমালোচনা ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে।
​ঘটনার বিবরণ
​গত শুক্রবার (৭ আগস্ট) বেলা ১০টার দিকে উপজেলা সদরে অবস্থিত সরকারি কালীগঞ্জ পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে দুই দিনব্যাপী স্কাউটসের তাবু জলসার সমাপনী অনুষ্ঠান চলছিল।
​প্রত্যক্ষদর্শী ও স্কুল সূত্রে জানা যায়, ক্যাম্প ফায়ারটি আকর্ষণীয় করে তোলার জন্য এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে ভিডিও ধারণ করা হচ্ছিল। এ সময় স্কাউটস শিক্ষকদের উপস্থিতিতে দশম শ্রেণির ছাত্র আনাস বিল্লাহ তার মুখে পেট্রোল নিয়ে কাঠের স্তূপে আগুন দিতে গেলে এই দুর্ঘটনা ঘটে। মুহূর্তেই পেট্রোলের আগুনে তার মুখমণ্ডল ও শরীর পুড়ে ঝলসে যায়।
​গুরুতর আহত আনাস বিল্লাহ উপজেলার তারালি ইউনিয়নের পূর্ব নারায়ণপুর গ্রামের গাজী জাকিরুল ইসলামের পুত্র এবং ওই বিদ্যালয়েরই দশম শ্রেণির ছাত্র।
​হাসপাতালে চিকিৎসাধীন
​দুর্ঘটনার পর তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের পরামর্শে প্রথমে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে অবস্থার আরও অবনতি হওয়ায় তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকরা আশঙ্কা মুক্ত বললেও তার অবস্থা এখনও শঙ্কামুক্ত নয় বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।
​ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ ও প্রশাসনের বক্তব্য
​থানা থেকে মাত্র ৫০ গজ এবং উপজেলা পরিষদ থেকে ২০০ গজের মধ্যে অবস্থিত একটি স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটলেও স্কুল কর্তৃপক্ষ তা অত্যন্ত সুকৌশলে চেপে যাওয়ার চেষ্টা করে। পুলিশ বা উপজেলা প্রশাসনকে তোয়াক্কা না করে ঘটনাটি গোপন রাখা হয়। ঘটনার পর থেকেই বিদ্যালয়ের স্কাউটস শিক্ষক শাহীনুর রহমান ও শরিফুল ইসলামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।
​এ বিষয়ে জানতে চাইলে সরকারি কালীগঞ্জ পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রদেশ কুমার উপজেলা প্রশাসনকে না জানানোর বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, ঘটনার পর থেকে চিকিৎসার যাবতীয় খরচ স্কুল কর্তৃপক্ষ বহন করছে। তবে এতবড় একটি নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার ঘটনায় দায়িত্ব অবহেলার কোনো সদুত্তর তিনি দিতে পারেননি।
​এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মিলন কুমার সাহা এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) জয়নাল আবেদীন উভয়েই জানান, সংবাদকর্মীর মুখ থেকে শোনার আগ পর্যন্ত তারা এ বিষয়ে বিন্দুমাত্র কিছু জানতেন না। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তারা জানান। অন্যদিকে কালীগঞ্জ থানার অফিসার্স ইনচার্জ শহিদুল ইসলাম হাওলাদারও ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত নন বলে জানিয়েছেন।
​এহেন দায়িত্বহীনতা ও গাফিলতির ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষী শিক্ষক ও কতৃপক্ষের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

কালীগঞ্জে স্কাউটসের ক্যাম্প ফায়ারে পেট্রোলের আগুন দিয়ে ছাত্র দগ্ধ, ধামাচাপার চেষ্টার অভিযোগ

Update Time : ১২:৩৬:৪৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

সাতক্ষীরার কালীগঞ্জে স্কাউটসের বার্ষিক তাঁবু জলসার সমাপনী দিনে ক্যাম্প ফায়ারে মুখে পেট্রোল নিয়ে আগুন জ্বালানোর সময় মারাত্মকভাবে অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন দশম শ্রেণির এক ছাত্র। বর্তমানে সে খুলনা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে।
​লোমহর্ষক এই ঘটনা ঘটলেও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও স্কাউটস শিক্ষকরা বিষয়টি সম্পূর্ণ ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এমনকি ঘটনাটি উপজেলা প্রশাসন, শিক্ষা কর্মকর্তা ও থানাকে না জানানোর কারণে এলাকায় তীব্র সমালোচনা ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে।
​ঘটনার বিবরণ
​গত শুক্রবার (৭ আগস্ট) বেলা ১০টার দিকে উপজেলা সদরে অবস্থিত সরকারি কালীগঞ্জ পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে দুই দিনব্যাপী স্কাউটসের তাবু জলসার সমাপনী অনুষ্ঠান চলছিল।
​প্রত্যক্ষদর্শী ও স্কুল সূত্রে জানা যায়, ক্যাম্প ফায়ারটি আকর্ষণীয় করে তোলার জন্য এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে ভিডিও ধারণ করা হচ্ছিল। এ সময় স্কাউটস শিক্ষকদের উপস্থিতিতে দশম শ্রেণির ছাত্র আনাস বিল্লাহ তার মুখে পেট্রোল নিয়ে কাঠের স্তূপে আগুন দিতে গেলে এই দুর্ঘটনা ঘটে। মুহূর্তেই পেট্রোলের আগুনে তার মুখমণ্ডল ও শরীর পুড়ে ঝলসে যায়।
​গুরুতর আহত আনাস বিল্লাহ উপজেলার তারালি ইউনিয়নের পূর্ব নারায়ণপুর গ্রামের গাজী জাকিরুল ইসলামের পুত্র এবং ওই বিদ্যালয়েরই দশম শ্রেণির ছাত্র।
​হাসপাতালে চিকিৎসাধীন
​দুর্ঘটনার পর তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের পরামর্শে প্রথমে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে অবস্থার আরও অবনতি হওয়ায় তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকরা আশঙ্কা মুক্ত বললেও তার অবস্থা এখনও শঙ্কামুক্ত নয় বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।
​ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ ও প্রশাসনের বক্তব্য
​থানা থেকে মাত্র ৫০ গজ এবং উপজেলা পরিষদ থেকে ২০০ গজের মধ্যে অবস্থিত একটি স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটলেও স্কুল কর্তৃপক্ষ তা অত্যন্ত সুকৌশলে চেপে যাওয়ার চেষ্টা করে। পুলিশ বা উপজেলা প্রশাসনকে তোয়াক্কা না করে ঘটনাটি গোপন রাখা হয়। ঘটনার পর থেকেই বিদ্যালয়ের স্কাউটস শিক্ষক শাহীনুর রহমান ও শরিফুল ইসলামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।
​এ বিষয়ে জানতে চাইলে সরকারি কালীগঞ্জ পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রদেশ কুমার উপজেলা প্রশাসনকে না জানানোর বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, ঘটনার পর থেকে চিকিৎসার যাবতীয় খরচ স্কুল কর্তৃপক্ষ বহন করছে। তবে এতবড় একটি নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার ঘটনায় দায়িত্ব অবহেলার কোনো সদুত্তর তিনি দিতে পারেননি।
​এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মিলন কুমার সাহা এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) জয়নাল আবেদীন উভয়েই জানান, সংবাদকর্মীর মুখ থেকে শোনার আগ পর্যন্ত তারা এ বিষয়ে বিন্দুমাত্র কিছু জানতেন না। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তারা জানান। অন্যদিকে কালীগঞ্জ থানার অফিসার্স ইনচার্জ শহিদুল ইসলাম হাওলাদারও ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত নন বলে জানিয়েছেন।
​এহেন দায়িত্বহীনতা ও গাফিলতির ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষী শিক্ষক ও কতৃপক্ষের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।