নাফ নদীপথে ১০ হাজার ইয়াবাসহ কিশোর আটক, বিজিবি সদস্যের ওপর হামলার অভিযোগ
- Update Time : ০৮:২০:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬
- / ৩২ Time View

আজিজুল হাকিম তুহিন, বিশেষ প্রতিনিধি
কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে অভিযান চালিয়ে ১০ হাজার পিস ইয়াবাসহ এক কিশোরকে আটক করেছে উখিয়া ব্যাটালিয়নের (৬৪ বিজিবি) সদস্যরা। এ সময় আটক ব্যক্তিকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টাকালে বিজিবির এক সদস্যের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে আটক কিশোরের মায়ের বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিকেল পৌনে ৬টার দিকে উখিয়া ব্যাটালিয়নের অধীন হোয়াইক্যং বিওপির কোনাপাড়া পোস্টসংলগ্ন নাফ নদীর একটি খালের তীরে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
বিজিবি জানায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সীমান্ত এলাকায় টহল জোরদার করা হলে মিয়ানমারের দিক থেকে হাতে একটি পোটলা নিয়ে এক ব্যক্তিকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেখা যায়।
সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ্য করে টহল দল তাকে ধাওয়া করলে তিনি নদীপথে সাঁতরে পালানোর চেষ্টা করেন। তবে শেষ পর্যন্ত তাকে আটক করতে সক্ষম হন বিজিবি সদস্যরা। আটক কিশোরের নাম মো. বোরহান উদ্দিন (১৭)।
অভিযানের সময় আটক ব্যক্তিকে ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তার মা চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করেন এবং নৌকার বৈঠা দিয়ে দায়িত্বরত এক বিজিবি সদস্যকে আঘাত করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে আশপাশের কয়েকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে ঘটনাস্থলে এসে বিজিবিকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করলে কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তবে বিজিবি সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে আটক ব্যক্তি ও জব্দকৃত মালামাল নিরাপদে বিওপিতে নিয়ে যান।
পরে আটক ব্যক্তির বহন করা পোটলা তল্লাশি করে একটি খাকি রঙের প্যাকেটের ভেতরে থাকা নীল রঙের কার্টন থেকে ১০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
বিজিবির ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক বোরহান উদ্দিন স্বীকার করেন যে, মিয়ানমার সীমান্ত এলাকা থেকে ইয়াবার চালান এনে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি তা বহন করছিলেন।
উখিয়া ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক জানান, মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও চক্রগুলোকে শনাক্ত করতে গোয়েন্দা তৎপরতা আরও জোরদার করা হয়েছে। সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির অভিযান নিয়মিতভাবে চলমান থাকবে বলেও তিনি জানান।
বিজিবি আরও জানায়, রামু সেক্টরের আওতাধীন উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মাদক, চোরাচালান এবং অন্যান্য সীমান্ত অপরাধ দমনে ধারাবাহিকভাবে অভিযান পরিচালনা করে আসছে।
















