গৃহকর্মীকে ধর্ষণ: ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর নাতির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
- Update Time : ১২:৪১:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ অগাস্ট ২০২৫
- / ১৩৩ Time View

বেঙ্গালুরু, ভারত: গৃহকর্মীকে ধর্ষণের অভিযোগে ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এইচ. ডি. দেবেগৌড়ার নাতি ও সাবেক সংসদ সদস্য প্রজ্বল রেভান্নাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে বেঙ্গালুরুর একটি বিশেষ আদালত। শনিবার (২ আগস্ট, ২০২৫) এই রায় ঘোষণা করা হয়।
৩৪ বছর বয়সী প্রজ্বল রেভান্নার বিরুদ্ধে আনা ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এই রায় প্রদান করে। কারাদণ্ডের পাশাপাশি তাকে ১১ লক্ষ রুপি জরিমানাও করা হয়েছে, যা ভুক্তভোগীকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়া হবে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট:
প্রজ্বল রেভান্নার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি তার ৪৭ বছর বয়সী গৃহকর্মীকে দিনের পর দিন ধর্ষণ করেছেন এবং সেই দৃশ্য ভিডিও করেছেন। ২০২১ সাল থেকে এই নির্যাতন চলে আসছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। পরবর্তীতে সেই ভিডিও দেখিয়ে তাকে ব্ল্যাকমেইলও করা হতো।
২০২৩ সালে প্রজ্বল রেভান্নার শত শত আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশব্যাপী তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এর পরপরই তিনি কূটনৈতিক পাসপোর্ট ব্যবহার করে দেশত্যাগ করে জার্মানিতে পালিয়ে যান। প্রায় এক মাস পর দেশে ফিরলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আদালতের পর্যবেক্ষণ:
আদালত এই অপরাধকে “জঘন্য” বলে আখ্যায়িত করেছে এবং বলেছে যে ক্ষমতার অপব্যবহার করে এই অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় প্রজ্বল রেভান্না কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং কম শাস্তির জন্য আবেদন করেন।
প্রজ্বল রেভান্নার বিরুদ্ধে আরও দুটি ধর্ষণ এবং একটি যৌন হয়রানির মামলা বিচারাধীন রয়েছে। তবে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এই রায়ের বিরুদ্ধে তিনি উচ্চ আদালতে আপিল করতে পারবেন।
রাজনৈতিক প্রভাব:
প্রজ্বল রেভান্না কর্ণাটকের একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য। তার দাদা এইচ. ডি. দেবেগৌড়া ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং তার দল জনতা দল (সেক্যুলার) বর্তমানে ক্ষমতাসীন বিজেপি জোটের শরিক। ভারতে এত প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের কোনো সদস্যের এমন গুরুতর অপরাধে সাজা পাওয়ার ঘটনা বিরল। এই রায় ভারতের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।










