জনস্বাস্থ্য নিয়ে ময়মনসিংহে জিরো টলারেন্স: আইন-শৃঙ্খলা সভায় কঠোর বার্তা
- Update Time : ০৭:০৭:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬
- / ৩ Time View

ময়মনসিংহ নগরীর জনস্বাস্থ্য ধ্বংসকারী অপরাধীদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধ ঘোষণা করেছে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসন। মাদক, ভেজাল খাদ্য ও হাসপাতাল দালালদের বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি এসেছে মে মাসের জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা থেকে।রোববার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসক মোঃ সাইফুর রহমান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ-৮ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদ এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন ময়মনসিংহ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ সালমান ওমর। এছাড়া পুলিশ, র্যাব, স্বাস্থ্য বিভাগসহ কমিটির শীর্ষ কর্মকর্তারা সভায় অংশ নেন।
মাদকের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক অভিযান: যুবসমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে মাদক কারবারিদের শেকড় উপড়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে কমিটি। মাদকাসক্তি নিরাময়ের পাশাপাশি মাদকের উৎস বন্ধে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হবে।ভেজাল খাদ্যে মোবাইল কোর্ট: মানুষের পাকস্থলী নিয়ে ছিনিমিনি খেলা বন্ধ করতে বাজারগুলোতে ঝটিকা অভিযান চালানো হবে। ভেজাল, মেয়াদোত্তীর্ণ ও রাসায়নিকযুক্ত খাবার বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক জেল-জরিমানার সিদ্ধান্ত হয়েছেডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান:বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে বিশেষ ক্র্যাশ প্রোগ্রাম চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা সচল রাখতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহি করতে হবে।হাসপাতালে দালালমুক্ত পরিবেশ:ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোকে দালাল চক্রের কবল থেকে মুক্ত করতে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। রোগী হয়রানি বন্ধে সিসিটিভি মনিটরিং জোরদার করা হবে।কঠোর হুঁশিয়ারি প্রশাসনের সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোঃ সাইফুর রহমান বলেন, “জনস্বাস্থ্য নিয়ে কোনো আপস নয়। ভেজাল কারবারি আর মাদক ব্যবসায়ীরা সমাজের শত্রু। এদের বিরুদ্ধে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় নামতে হবে। নাগরিকের নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করাই আমাদের প্রথম কাজ।”সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বলেন, “আইন-শৃঙ্খলা মানে শুধু চুরি-ডাকাতি ঠেকানো নয়। মানুষের সুস্থভাবে বাঁচার অধিকার নিশ্চিত করাই আসল শৃঙ্খলা।” সংসদ সদস্য মোহাম্মদ সালমান ওমর স্বাস্থ্যসেবাকে প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সব বিভাগের সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ দেন।
সভায় সিদ্ধান্ত হয়, আগামী এক মাসের মধ্যে গৃহীত পদক্ষেপের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হবে। ব্যর্থতার দায় কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে।









