১১:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া যুদ্ধবিরতিতে সম্মত, তবে উত্তেজনা এখনও চলমান

Reporter Name
  • Update Time : ০৭:৩০:১৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ জুলাই ২০২৫
  • / ১১৪ Time View

ঢাকা, ২৬ জুলাই ২০২৫: আসিয়ানের বর্তমান চেয়ার মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের মধ্যস্থতায় থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া নীতিগতভাবে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। তবে, উভয় দেশই জানিয়েছে যে সীমান্ত থেকে সৈন্য পুরোপুরি প্রত্যাহারের জন্য তাদের আরও সময় প্রয়োজন।
থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা মালয়েশিয়ার যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবকে ‘নীতিগতভাবে পূর্ণ সমর্থন’ জানাচ্ছে এবং বিষয়টি বিবেচনায় রেখেছে। তবে, থাইল্যান্ড অভিযোগ করেছে যে কম্বোডিয়ার বাহিনী তাদের ভূখণ্ডে
হামলা চালিয়ে যাচ্ছে, যা যুদ্ধবিরতির জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরিতে বাধা সৃষ্টি করছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “যুদ্ধবিরতির জন্য উপযুক্ত পরিস্থিতি থাকা জরুরি। থাইল্যান্ড সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়। কিন্তু কম্বোডিয়ার বর্তমান কর্মকাণ্ডে সেই নিরাপত্তা হুমকিতে পড়ছে। দেশের সার্বভৌমত্ব ও নাগরিকদের রক্ষা করাই সরকারের দায়িত্ব।
অন্যদিকে, কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন মানেতও যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে সমর্থন জানিয়েছেন। একটি ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, এই সংঘাত সমাধানের মূল চাবিকাঠি হলো থাইল্যান্ডের পক্ষ থেকে সত্যিকারের যুদ্ধবিরতির ইচ্ছা প্রকাশ করা। তিনি থাইল্যান্ডের প্রাথমিক সম্মতি থেকে সরে আসাকে ‘দুঃখজনক’ বলে অভিহিত করেছেন।
দুই দেশের মধ্যে এই উত্তেজনা এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক সংঘাতের রূপ নিয়েছে। সীমান্তে সংঘর্ষে ১৬ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে এবং হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর যে থাই প্রধানমন্ত্রী একে ‘পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের’ সঙ্গে তুলনা করেছেন।
এই পরিস্থিতিতে, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম উভয় দেশের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন। তবে, থাইল্যান্ড তৃতীয় কোনো পক্ষের মধ্যস্থতার পরিবর্তে কম্বোডিয়ার সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বেশি আগ্রহী বলে জানিয়েছে।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, জাতিসংঘসহ, উভয় পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের এবং শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-ও এই সংঘাতে উদ্বেগ প্রকাশ করে মধ্যস্থতার আগ্রহ দেখিয়েছেন।
উল্লেখ্য, থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে ৮১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তের কিছু অংশ নিয়ে কয়েক দশক ধরে বিরোধ চলছে, যা প্রায়শই উত্তেজনা ও ছোটখাটো সংঘর্ষের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। [৫] বর্তমান সংঘাতটি প্রেয়া ভিহেয়ার প্রদেশকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া যুদ্ধবিরতিতে সম্মত, তবে উত্তেজনা এখনও চলমান

Update Time : ০৭:৩০:১৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ জুলাই ২০২৫

ঢাকা, ২৬ জুলাই ২০২৫: আসিয়ানের বর্তমান চেয়ার মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের মধ্যস্থতায় থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া নীতিগতভাবে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। তবে, উভয় দেশই জানিয়েছে যে সীমান্ত থেকে সৈন্য পুরোপুরি প্রত্যাহারের জন্য তাদের আরও সময় প্রয়োজন।
থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা মালয়েশিয়ার যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবকে ‘নীতিগতভাবে পূর্ণ সমর্থন’ জানাচ্ছে এবং বিষয়টি বিবেচনায় রেখেছে। তবে, থাইল্যান্ড অভিযোগ করেছে যে কম্বোডিয়ার বাহিনী তাদের ভূখণ্ডে
হামলা চালিয়ে যাচ্ছে, যা যুদ্ধবিরতির জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরিতে বাধা সৃষ্টি করছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “যুদ্ধবিরতির জন্য উপযুক্ত পরিস্থিতি থাকা জরুরি। থাইল্যান্ড সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়। কিন্তু কম্বোডিয়ার বর্তমান কর্মকাণ্ডে সেই নিরাপত্তা হুমকিতে পড়ছে। দেশের সার্বভৌমত্ব ও নাগরিকদের রক্ষা করাই সরকারের দায়িত্ব।
অন্যদিকে, কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন মানেতও যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে সমর্থন জানিয়েছেন। একটি ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, এই সংঘাত সমাধানের মূল চাবিকাঠি হলো থাইল্যান্ডের পক্ষ থেকে সত্যিকারের যুদ্ধবিরতির ইচ্ছা প্রকাশ করা। তিনি থাইল্যান্ডের প্রাথমিক সম্মতি থেকে সরে আসাকে ‘দুঃখজনক’ বলে অভিহিত করেছেন।
দুই দেশের মধ্যে এই উত্তেজনা এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক সংঘাতের রূপ নিয়েছে। সীমান্তে সংঘর্ষে ১৬ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে এবং হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর যে থাই প্রধানমন্ত্রী একে ‘পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের’ সঙ্গে তুলনা করেছেন।
এই পরিস্থিতিতে, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম উভয় দেশের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন। তবে, থাইল্যান্ড তৃতীয় কোনো পক্ষের মধ্যস্থতার পরিবর্তে কম্বোডিয়ার সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বেশি আগ্রহী বলে জানিয়েছে।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, জাতিসংঘসহ, উভয় পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের এবং শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-ও এই সংঘাতে উদ্বেগ প্রকাশ করে মধ্যস্থতার আগ্রহ দেখিয়েছেন।
উল্লেখ্য, থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে ৮১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তের কিছু অংশ নিয়ে কয়েক দশক ধরে বিরোধ চলছে, যা প্রায়শই উত্তেজনা ও ছোটখাটো সংঘর্ষের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। [৫] বর্তমান সংঘাতটি প্রেয়া ভিহেয়ার প্রদেশকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে।