নাগেশ্বরীতে স্বাস্থ্যসেবার অব্যবস্থাপনা ও চিকিৎসকের সংকট নিরসনে মানববন্ধন
- Update Time : ০৯:০৩:৩০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২০ অগাস্ট ২০২৫
- / ৭০ Time View

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক সংকট, জনবল ঘাটতি ও পর্যাপ্ত ওষুধ-সরঞ্জামের অভাবে স্বাস্থ্যসেবা কার্যত ভেঙে পড়েছে। প্রায় ছয় লাখ মানুষের জন্য প্রতিষ্ঠিত এ ৫০ শয্যার হাসপাতালে অনুমোদিত চিকিৎসকের সংখ্যা ১৮ হলেও কর্মরত আছেন মাত্র ৩ জন। ফলে প্রতিদিন শত শত রোগী যথাযথ চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
শুধু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নয়—উপজেলার রায়গঞ্জে ১০ শয্যার হাসপাতাল দীর্ঘ ১২ বছর ধরে বন্ধ, আর কচাকাটার ৩০ শয্যার হাসপাতাল চালুর দাবিও বছরের পর বছর উপেক্ষিত।
এ অবস্থায় স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন ও সংকট নিরসনের দাবিতে মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) সকাল ১১টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষ।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন—নাগেশ্বরী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। প্রসূতি জটিলতা, সড়ক দুর্ঘটনা, ক্যান্সার, হৃদরোগ ও কিডনি রোগের মতো জটিল চিকিৎসা প্রায় বন্ধ। ওষুধের সংকটে রোগীরা বাইরে থেকে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন, যা নিম্ন আয়ের মানুষের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। ল্যাব, এক্স-রে ও সার্জারির সরঞ্জাম না থাকায় রোগীদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বা জেলা সদরে যেতে হচ্ছে—ফলে সময় ও ব্যয় দুই-ই বেড়ে যাচ্ছে।
বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে সাধারণ মানুষ বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন।”
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন নাগেশ্বরী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. গোলাম রসুল রাজা, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শফিউল আলম শফি, যুগ্ম আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম, সদস্য সচিব মোকলেছুর রহমানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ।
মানববন্ধন শেষে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বরাবর একটি স্বারকলিপি প্রদান করা হয়। এ সময় উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সুজন সাহা স্বীকার করেন, “এখানে চিকিৎসক সংকট সত্যিই আছে। কিছু কর্মকর্তা এখান থেকে বেতন নিচ্ছেন অথচ কাজ করছেন অন্য হাসপাতালে। বিষয়গুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করি দ্রুত সমাধান আসবে। তবে স্থানীয়দের সহযোগিতা ছাড়া স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন সম্ভব নয়।”
মানববন্ধনে উত্থাপিত দাবি সংবলিত আবেদনপত্রের অনুলিপি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট প্রেরণ করা হয়েছে।










