পঙ্গু বাবাকে জ্যান্ত কবর দেওয়ার লোমহর্ষক চেষ্টা! ঘরেই খোঁড়া হলো ৭ ফুট গভীর গর্ত
- Update Time : ১১:৩১:৫৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
- / ৩৯ Time View

জন্মদাতা পঙ্গু ও অসহায় বাবাকে জীবন্ত মাটিচাপা দিয়ে হত্যার এক ভয়ানক ও চাঞ্চল্যকর চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে স্থানীয়রা। ঘটনাটি ঘটেছে জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার বানিয়াচাপড় গ্রামে। বুধবার (৮ জুলাই) এই অমানবিক ঘটনাটি জানাজানি হলে পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
সচ্ছল কৃষক থেকে বিছানায় বন্দি জীবন
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বানিয়াচাপড় গ্রামের কৃষক আব্দুস সালাম (৪৮) একসময় বেশ সচ্ছল জীবনযাপন করতেন। স্ত্রী, দুই ছেলে ও দুই মেয়ে নিয়ে তার ছিল এক সুখের সংসার। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাসে পাঁচ বছর আগে একটি গাছ থেকে পড়ে গিয়ে তার মেরুদণ্ড ভেঙে যায়। এরপর থেকেই কোমর থেকে দুই পা অবশ হয়ে শয্যাশায়ী হয়ে পড়েন তিনি। দীর্ঘ ৫ বছর ধরে বিছানায় শুয়েই চরম অসহায়ত্বের মধ্যে দিন কাটছিল তার।
ঘরেই খোঁড়া হয় ৫ ফুট প্রস্থ ও ৭ ফুট গভীর গর্ত
অভিযোগ উঠেছে, দীর্ঘদিনের পঙ্গু ও চিকিৎসাধীন বাবাকে ‘বোঝা’ মনে করে তাকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার এক সুদূরপ্রসারী ও নৃশংস পরিকল্পনা করা হয়। এরই অংশ হিসেবে ঘরের ভেতর গোপনে প্রায় ৫ ফুট প্রস্থ এবং ৭ ফুট গভীর এক বিশাল গর্ত খোঁড়া হয়। উদ্দেশ্য ছিল—সুযোগ বুঝে পঙ্গু বাবাকে সেই গর্তে ফেলে জ্যান্ত মাটিচাপা দেওয়া।
”যে বাবা একসময় তিল তিল করে পরিবারটি গড়ে তুলেছিলেন, পঙ্গু হওয়ার পর সেই বাবাকেই জ্যান্ত কবর দেওয়ার এমন অমানুষিক চেষ্টা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।”
— নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রতিবেশী
অতঃপর…
শেষ রক্ষা হয়নি। ঘরের ভেতর এত বড় রহস্যময় গর্ত খোঁড়ার বিষয়টি একপর্যায়ে জানাজানি হয়ে যায়। খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন ও প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে বিষয়টি ফাঁস হয়ে পড়ে এবং পঙ্গু আব্দুস সালামের জীবন রক্ষা পায়।
ঘটনাটি প্রকাশ পাওয়ার পর থেকেই এলাকায় তোলপাড় চলছে। একজন জন্মদাতা পিতার সাথে এমন নৃশংস আচরণের ঘটনায় অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। প্রশাসন ও স্থানীয় পুলিশ এই ঘটনার তদন্তে নেমেছে বলে জানা গেছে।















