১১:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারতে প্রকৃতির রোষের মুখে অদম্য লড়াই: ৩০০ জনকে উদ্ধারে ঝাঁপিয়েছে সেনা-এনডিআরএফ।

Reporter Name
  • Update Time : ১২:০৬:৫৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৫
  • / ১০৭ Time View

সংক্ষিপ্ত বিবরণ: ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যে মেঘভাঙা বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট ভয়াবহ হড়কা বান ও ভূমিধসে উত্তরকাশী জেলার একাধিক গ্রাম বিধ্বস্ত হয়েছে। প্রশাসন জানিয়েছে, গত তিন দিনে ৫৬৬ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও, এখনও প্রায় ৩০০ জন আটকে রয়েছেন এবং তাদের উদ্ধারের জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
মূল ঘটনা: সম্প্রতি উত্তরকাশী জেলার ধারালি এবং হর্ষিল উপত্যকায় মেঘভাঙা বৃষ্টির ফলে ক্ষীরগঙ্গা নদীতে হড়কা বান দেখা দেয়। এর জেরে নদীর তীরবর্তী গ্রামগুলি প্লাবিত হয় এবং বহু ঘরবাড়ি, হোটেল ও রাস্তাঘাট ভেসে যায়। আকস্মিক এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে অন্তত চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে এবং প্রাথমিকভাবে প্রায় ৫০ জন নিখোঁজ ছিলেন বলে জানানো হয়।
উদ্ধার অভিযান:
খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (NDRF), রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (SDRF), ইন্দো-টিবেটান বর্ডার পুলিশ (ITBP) এবং ভারতীয় সেনাবাহিনী যৌথভাবে উদ্ধারকাজ শুরু করে। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। ভূমিধসের ফলে বহু রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উদ্ধারকারী দলগুলোকে দুর্গম এলাকায় পৌঁছাতে বেগ পেতে হচ্ছে।
উদ্ধার অভিযানে ড্রোন, ডগ স্কোয়াড এবং গ্রাউন্ড পেনিট্রেটিং রাডার ব্যবহার করা হচ্ছে। হর্ষিল এলাকায় একটি সেনাক্যাম্পও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সেখানে ৯ জন সেনা নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে।
প্রশাসনের বক্তব্য:
উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামী পরিস্থিতিকে “অত্যন্ত বেদনাদায়ক” বলে অভিহিত করেছেন এবং জানিয়েছেন যে তিনি নিজে পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন। আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে এবং দুর্গতদের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার জন্য যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ চলছে বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের দেরাদুনের জলি গ্রান্ট বিমানবন্দরে সরিয়ে আনা হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তর রাজ্যে আরও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়ে ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করেছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

ভারতে প্রকৃতির রোষের মুখে অদম্য লড়াই: ৩০০ জনকে উদ্ধারে ঝাঁপিয়েছে সেনা-এনডিআরএফ।

Update Time : ১২:০৬:৫৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৫

সংক্ষিপ্ত বিবরণ: ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যে মেঘভাঙা বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট ভয়াবহ হড়কা বান ও ভূমিধসে উত্তরকাশী জেলার একাধিক গ্রাম বিধ্বস্ত হয়েছে। প্রশাসন জানিয়েছে, গত তিন দিনে ৫৬৬ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও, এখনও প্রায় ৩০০ জন আটকে রয়েছেন এবং তাদের উদ্ধারের জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
মূল ঘটনা: সম্প্রতি উত্তরকাশী জেলার ধারালি এবং হর্ষিল উপত্যকায় মেঘভাঙা বৃষ্টির ফলে ক্ষীরগঙ্গা নদীতে হড়কা বান দেখা দেয়। এর জেরে নদীর তীরবর্তী গ্রামগুলি প্লাবিত হয় এবং বহু ঘরবাড়ি, হোটেল ও রাস্তাঘাট ভেসে যায়। আকস্মিক এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে অন্তত চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে এবং প্রাথমিকভাবে প্রায় ৫০ জন নিখোঁজ ছিলেন বলে জানানো হয়।
উদ্ধার অভিযান:
খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (NDRF), রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (SDRF), ইন্দো-টিবেটান বর্ডার পুলিশ (ITBP) এবং ভারতীয় সেনাবাহিনী যৌথভাবে উদ্ধারকাজ শুরু করে। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। ভূমিধসের ফলে বহু রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উদ্ধারকারী দলগুলোকে দুর্গম এলাকায় পৌঁছাতে বেগ পেতে হচ্ছে।
উদ্ধার অভিযানে ড্রোন, ডগ স্কোয়াড এবং গ্রাউন্ড পেনিট্রেটিং রাডার ব্যবহার করা হচ্ছে। হর্ষিল এলাকায় একটি সেনাক্যাম্পও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সেখানে ৯ জন সেনা নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে।
প্রশাসনের বক্তব্য:
উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামী পরিস্থিতিকে “অত্যন্ত বেদনাদায়ক” বলে অভিহিত করেছেন এবং জানিয়েছেন যে তিনি নিজে পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন। আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে এবং দুর্গতদের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার জন্য যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ চলছে বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের দেরাদুনের জলি গ্রান্ট বিমানবন্দরে সরিয়ে আনা হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তর রাজ্যে আরও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়ে ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করেছে।