সহযাত্রীকে চড় মেরে ইন্ডিগোর ফ্লাইটে নিষিদ্ধ যাত্রী, তবে আজীবনের জন্য নয়।
- Update Time : ১২:২৯:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ অগাস্ট ২০২৫
- / ১১৫ Time View

কলকাতা: ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সের মুম্বাই থেকে কলকাতাগামী একটি ফ্লাইটে এক যাত্রী তার সহযাত্রীকে চড় মারার ঘটনায় অভিযুক্তের ওপর সাময়িকভাবে বিমান সংস্থাটি নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। তবে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত হওয়া “আজীবন নিষিদ্ধ” হওয়ার খবরটি সঠিক নয়। বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিজিসিএ (DGCA)-এর নিয়ম অনুযায়ী, অভিযুক্ত যাত্রীর ওপর একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে, যা তদন্ত সাপেক্ষে বাড়ানো হতে পারে।
ঘটনার বিবরণ:শুক্রবার, ১লা আগস্ট ২০২৫-এ, ইন্ডিগোর ৬ই ১৩৮ ফ্লাইটে এই অপ্রীতিকর ঘটনাটি ঘটে। বিমানটি মুম্বাই থেকে কলকাতার উদ্দেশ্যে ছাড়ার মুহূর্তে হোসাইন আহমেদ মজুমদার নামে এক যাত্রী প্যানিক অ্যাটাকের শিকার হন এবং বোধ করতে থাকেন। এই সময় তার পাশেই বসা অন্য এক যাত্রী, হাফিজুল রহমান, তাকে সজোরে চড় মারেন। ফ্লাইটের অন্যান্য যাত্রী এবং কেবিন ক্রুরা সঙ্গে সঙ্গে ঘটনার প্রতিবাদ করেন এবং পরিস্থিতি সামাল দেন।
বিমানের এক যাত্রী এই ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন, যা পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় ওঠে।
বিমান সংস্থার পদক্ষেপ:ঘটনার পর ইন্ডিগো কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত যাত্রীকে ‘অশৃঙ্খল’ হিসেবে চিহ্নিত করে এবং কলকাতা বিমানবন্দরে অবতরণের পর তাকে নিরাপত্তা কর্মীদের হাতে তুলে দেয়। বিমান সংস্থাটি একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, যাত্রীদের নিরাপত্তা তাদের কাছে সর্বাগ্রে এবং এই ধরনের আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
প্রাথমিকভাবে, ইন্ডিগো অভিযুক্ত যাত্রীর ওপর ৩০ দিনের জন্য তাদের যেকোনো ফ্লাইটে ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।এটি একটি অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা।
নিষেধাজ্ঞার নিয়মাবলী:ভারতের বিমান চলাচল আইন অনুসারে, কোনো যাত্রীর অশৃঙ্খল আচরণের জন্য বিমান সংস্থাগুলো তাদের একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নিষিদ্ধ করতে পারে। এই নিয়ম তিনটি স্তরে বিভক্ত:
স্তর ১: মৌখিক অশোভন আচরণের জন্য ৩ মাস পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা।
স্তর ২: শারীরিক আঘাত বা হেনস্থার জন্য ৬ মাস পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা।
স্তর ৩: জীবনহানির আশঙ্কা বা বিমানের ক্ষতি করার মতো গুরুতর অপরাধের জন্য সর্বনিম্ন ২ বছর থেকে আজীবন নিষেধাজ্ঞা হতে পারে।
এই ঘটনাটি সম্ভবত দ্বিতীয় স্তরের অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। ইন্ডিগোর একটি অভ্যন্তরীণ কমিটি পুরো ঘটনা তদন্ত করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে যে অভিযুক্ত যাত্রীর ওপর নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ কতদিন হবে।
সুতরাং, “আজীবন নিষিদ্ধ” হওয়ার খবরটি বর্তমানে নিশ্চিত নয় এবং এটি ইন্ডিগোর অভ্যন্তরীণ কমিটির তদন্তের ওপর নির্ভর শীল।










