০৪:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অতিবৃষ্টি ও হরিভদ্র নদীর নাব্যতা সংকটে ডোমরা বিলে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা ​পলি অপসারণে আরো ২টি ড্রেজিং মেশিন যুক্ত করার জরুরি নির্দেশ ইউএনও মিজ সবিতা সরকারের

শাহিনুর ইসলামঃ বিশেষ প্রতিনিধি:
  • Update Time : ১২:২০:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬
  • / ৩৪ Time View

​অতিবৃষ্টি এবং হরিভদ্র নদীর নাব্যতা হ্রাসের ফলে খুলনা ডুমুরিয়ার খর্নিয়া ইউনিয়নের ডোমরা বিলে সৃষ্টি হয়েছে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা। বিলে পানি আটকে থইথই অবস্থা তৈরি হওয়ায় তলিয়ে গেছে হাজার হাজার বিঘার ফসলি জমি ও শত শত মৎস্য ঘের। ফলে চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় কৃষক, খামারি ও সাধারণ মানুষ।
​শুক্রবার (২৪ জুলাই ২০২৬) বিকেল সাড়ে ৫টায় খর্নিয়ার ডোমরা বিলের দুর্গত এলাকা সরজমিনে পরিদর্শন করেন ডুমুরিয়া উপজেলা প্রশাসন ও উদ্ধার টিমের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। পরিদর্শনকালে দ্রুততম সময়ে পানি সরানোর লক্ষ্যে নদী থেকে পলি অপসারণের জন্য আরো ২টি ড্রেজিং মেশিন এনে জরুরি ভিত্তিতে কাজ শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মিজ সবিতা সরকার।
​প্রশাসনের আশ্বাস ও জরুরি পদক্ষেপ
​জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি সরাসরি প্রত্যক্ষ করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজ সবিতা সরকার বলেন:
​”অতিবৃষ্টি এবং স্থানীয় হরিভদ্র নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ রুদ্ধ হয়ে গেছে। ফলে ডোমরা বিলে কৃত্রিম জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাঁধ বা পলি অপসারণ করে পানি অপসারণের ব্যবস্থা করছি। ইতিমধ্যে আরো দুটি ড্রেজিং মেশিন এনে দ্রুত পলি তুলে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দুর্গত মানুষদের সার্বিক সহায়তা প্রদান এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে উপজেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।”
​পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও উদ্ধার প্রস্তুতি শেষে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ওয়ারেন্ট অফিসার আবু তাহের জানান:
​”আমরা জলাবদ্ধ বিলের সামগ্রিক চিত্র পরিদর্শন করেছি। পানি নিষ্কাশনের মূল বাধাগুলো চিহ্নিত করার কাজ চলছে। স্থানীয় জনগণের দুর্ভোগ কমাতে এবং জরুরি যেকোনো সহায়তা প্রদান করতে সেনাবাহিনী মাঠে কাজ করে যাচ্ছে। সমন্বিত প্রচেষ্টায় দ্রুত পানি সরানোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
​স্থানীয় প্রতিনিধি ও বিল কমিটির দাবি
​পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে ইউপি সদস্য ও বিএনপি নেতা মোল্লা আবুল কাশেম বলেন:
​”দীর্ঘদিন ধরে হরিভদ্র নদী ভরাট হয়ে পড়ে থাকলেও টেকসই কোনো পলি অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই খর্নিয়া ও ডোমরা বিলের মানুষ পানির নিচে তলিয়ে যায়। আজ হাজার হাজার বিঘার ফসল ও মৎস্য ঘের ধ্বংসের মুখে। আমরা অনতিবিলম্বে টেকসই নদী খনন ও পাম্প বসিয়ে পানি নিষ্কাশনের জোর দাবি জানাচ্ছি।”
​টেকসই সমাধান ব্যবস্থার ওপর জোর দিয়ে বিল কমিটির সভাপতি ও ইউপি সদস্য আব্দুল হালিম বলেন:
​”ডোমরা বিলের জলাবদ্ধতা এখন কেবল সাময়িক সমস্যা নয়, এটি হাজারো পরিবারের জীবন-জীবিকার জন্য স্থায়ী হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিলের পানি অপসারণে যদি এখনই ইমার্জেন্সি ড্রেনেজ ও পাম্পিং স্টেশন চালু করা না হয়, তবে চলতি মৌসুমের পুরো কৃষি ও মৎস্য খাত বরবাদ হয়ে যাবে।”
​চরম ভোগান্তিতে এলাকাবাসী
​জলে ভেসে অসহায় দিন কাটানো স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের ক্ষোভ ও কষ্টের কথা জানিয়ে বলেন,
​”আমাদের ঘরবাড়ি, ঘের আর ধানের জমি সব পানির নিচে। এমনকি রান্নাঘরের চুলা জ্বালাতেও কষ্ট হচ্ছে। খর্নিয়ার ডোমরা বিলে প্রতি বছরই এই একই ভোগান্তি পোহাতে হয়। হরিভদ্র নদী খনন না করলে এবং দ্রুত স্লুইস গেট দিয়ে পানি বের করার ব্যবস্থা না করলে আমাদের না খেয়ে দিন কাটাতে হবে।”
​দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের তাগিদ
​খুলনার অন্যতম কৃষিপ্রধান অঞ্চল ডুমুরিয়ার খর্নিয়া ও ডোমরা বিলের জলাবদ্ধতা সংকট চিরতরে দূর করতে হলে অবিলম্বে হরিভদ্র নদীর ক্যাপিটাল ড্রেজিং (খনন) ও স্থায়ী স্লুইস গেট ব্যবস্থাপনা সংস্কার করা জরুরি। সচেতন মহলের মতে, সাময়িক ত্রাণের পাশাপাশি দ্রুত দীর্ঘমেয়াদী মাস্টারপ্ল্যান গ্রহণ না করলে এ অঞ্চলের অর্থনীতিতে অপূরণীয় ক্ষতি সাধিত হবে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

অতিবৃষ্টি ও হরিভদ্র নদীর নাব্যতা সংকটে ডোমরা বিলে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা ​পলি অপসারণে আরো ২টি ড্রেজিং মেশিন যুক্ত করার জরুরি নির্দেশ ইউএনও মিজ সবিতা সরকারের

Update Time : ১২:২০:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

​অতিবৃষ্টি এবং হরিভদ্র নদীর নাব্যতা হ্রাসের ফলে খুলনা ডুমুরিয়ার খর্নিয়া ইউনিয়নের ডোমরা বিলে সৃষ্টি হয়েছে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা। বিলে পানি আটকে থইথই অবস্থা তৈরি হওয়ায় তলিয়ে গেছে হাজার হাজার বিঘার ফসলি জমি ও শত শত মৎস্য ঘের। ফলে চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় কৃষক, খামারি ও সাধারণ মানুষ।
​শুক্রবার (২৪ জুলাই ২০২৬) বিকেল সাড়ে ৫টায় খর্নিয়ার ডোমরা বিলের দুর্গত এলাকা সরজমিনে পরিদর্শন করেন ডুমুরিয়া উপজেলা প্রশাসন ও উদ্ধার টিমের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। পরিদর্শনকালে দ্রুততম সময়ে পানি সরানোর লক্ষ্যে নদী থেকে পলি অপসারণের জন্য আরো ২টি ড্রেজিং মেশিন এনে জরুরি ভিত্তিতে কাজ শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মিজ সবিতা সরকার।
​প্রশাসনের আশ্বাস ও জরুরি পদক্ষেপ
​জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি সরাসরি প্রত্যক্ষ করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজ সবিতা সরকার বলেন:
​”অতিবৃষ্টি এবং স্থানীয় হরিভদ্র নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ রুদ্ধ হয়ে গেছে। ফলে ডোমরা বিলে কৃত্রিম জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে বাঁধ বা পলি অপসারণ করে পানি অপসারণের ব্যবস্থা করছি। ইতিমধ্যে আরো দুটি ড্রেজিং মেশিন এনে দ্রুত পলি তুলে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দুর্গত মানুষদের সার্বিক সহায়তা প্রদান এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে উপজেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।”
​পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও উদ্ধার প্রস্তুতি শেষে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ওয়ারেন্ট অফিসার আবু তাহের জানান:
​”আমরা জলাবদ্ধ বিলের সামগ্রিক চিত্র পরিদর্শন করেছি। পানি নিষ্কাশনের মূল বাধাগুলো চিহ্নিত করার কাজ চলছে। স্থানীয় জনগণের দুর্ভোগ কমাতে এবং জরুরি যেকোনো সহায়তা প্রদান করতে সেনাবাহিনী মাঠে কাজ করে যাচ্ছে। সমন্বিত প্রচেষ্টায় দ্রুত পানি সরানোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
​স্থানীয় প্রতিনিধি ও বিল কমিটির দাবি
​পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে ইউপি সদস্য ও বিএনপি নেতা মোল্লা আবুল কাশেম বলেন:
​”দীর্ঘদিন ধরে হরিভদ্র নদী ভরাট হয়ে পড়ে থাকলেও টেকসই কোনো পলি অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই খর্নিয়া ও ডোমরা বিলের মানুষ পানির নিচে তলিয়ে যায়। আজ হাজার হাজার বিঘার ফসল ও মৎস্য ঘের ধ্বংসের মুখে। আমরা অনতিবিলম্বে টেকসই নদী খনন ও পাম্প বসিয়ে পানি নিষ্কাশনের জোর দাবি জানাচ্ছি।”
​টেকসই সমাধান ব্যবস্থার ওপর জোর দিয়ে বিল কমিটির সভাপতি ও ইউপি সদস্য আব্দুল হালিম বলেন:
​”ডোমরা বিলের জলাবদ্ধতা এখন কেবল সাময়িক সমস্যা নয়, এটি হাজারো পরিবারের জীবন-জীবিকার জন্য স্থায়ী হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিলের পানি অপসারণে যদি এখনই ইমার্জেন্সি ড্রেনেজ ও পাম্পিং স্টেশন চালু করা না হয়, তবে চলতি মৌসুমের পুরো কৃষি ও মৎস্য খাত বরবাদ হয়ে যাবে।”
​চরম ভোগান্তিতে এলাকাবাসী
​জলে ভেসে অসহায় দিন কাটানো স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের ক্ষোভ ও কষ্টের কথা জানিয়ে বলেন,
​”আমাদের ঘরবাড়ি, ঘের আর ধানের জমি সব পানির নিচে। এমনকি রান্নাঘরের চুলা জ্বালাতেও কষ্ট হচ্ছে। খর্নিয়ার ডোমরা বিলে প্রতি বছরই এই একই ভোগান্তি পোহাতে হয়। হরিভদ্র নদী খনন না করলে এবং দ্রুত স্লুইস গেট দিয়ে পানি বের করার ব্যবস্থা না করলে আমাদের না খেয়ে দিন কাটাতে হবে।”
​দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের তাগিদ
​খুলনার অন্যতম কৃষিপ্রধান অঞ্চল ডুমুরিয়ার খর্নিয়া ও ডোমরা বিলের জলাবদ্ধতা সংকট চিরতরে দূর করতে হলে অবিলম্বে হরিভদ্র নদীর ক্যাপিটাল ড্রেজিং (খনন) ও স্থায়ী স্লুইস গেট ব্যবস্থাপনা সংস্কার করা জরুরি। সচেতন মহলের মতে, সাময়িক ত্রাণের পাশাপাশি দ্রুত দীর্ঘমেয়াদী মাস্টারপ্ল্যান গ্রহণ না করলে এ অঞ্চলের অর্থনীতিতে অপূরণীয় ক্ষতি সাধিত হবে।