০৫:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বালুর জনপ্রিয়তা দেখে মনে হচ্ছে এবার নির্বাচনেও দাঁড়াতে পারে

Reporter Name
  • Update Time : ০২:০৯:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
  • / ৫ Time View

বান্দরবানের লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নে যেন থামছেই না অবৈধ বালু উত্তোলন। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের একাধিক অভিযান ও জরিমানার পরও প্রভাবশালী একটি চক্র দিনের আলো ও রাতের অন্ধকারে অবাধে বালু উত্তোলন চালিয়ে যাচ্ছে। এতে একদিকে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে সরকার হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব।

গত ১০ জুন ২০২৬ (বুধবার) সরেজমিনে সরই ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, একাধিক পয়েন্টে প্রকাশ্যে বালু উত্তোলন চলছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনের অভিযানের পরও সংশ্লিষ্টরা যেন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। নিলামের আড়ালে রাতের বেলাতেও বালু উত্তোলন অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, সরই ইউনিয়নের অধিকাংশ বালু উত্তোলন কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করছেন সেলিম, শোয়াইব ও তারেক নামের কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি। রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাব খাটিয়ে তারা দীর্ঘদিন ধরে এ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। তাদের ভয়ে কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পান না বলেও জানান তারা।

স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রশাসন কয়েকবার অভিযান চালিয়ে জরিমানা করেছে। কিন্তু এরপরও বালু উত্তোলন বন্ধ হয়নি। বরং দেখে মনে হচ্ছে তারা যেন কোনো অদৃশ্য শক্তির আশীর্বাদে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী হিসেবে অভিযুক্ত সেলিমের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সরাসরি সাক্ষাৎ করতে অস্বীকৃতি জানান এবং যা বলার ফোনেই বলতে বলেন। পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো অনুমোদন রয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, এসব অনুমতি আমার লাগে না।এরপর তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

এ বিষয়ে সরই ইউনিয়নের প্রশাসক রাশেদুল হকের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হবে। বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সরই পুলিশ ফাঁড়ির এসআই শাহরিয়া বলেন, যারা অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অভিযোগ পেলে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করা হবে।

অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে নিয়মিত অভিযান ও কঠোর নজরদারি না থাকলে পরিবেশ বিপর্যয়ের পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব ক্ষতি আরও বাড়বে। তারা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

বালুর জনপ্রিয়তা দেখে মনে হচ্ছে এবার নির্বাচনেও দাঁড়াতে পারে

Update Time : ০২:০৯:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

বান্দরবানের লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নে যেন থামছেই না অবৈধ বালু উত্তোলন। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের একাধিক অভিযান ও জরিমানার পরও প্রভাবশালী একটি চক্র দিনের আলো ও রাতের অন্ধকারে অবাধে বালু উত্তোলন চালিয়ে যাচ্ছে। এতে একদিকে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে সরকার হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব।

গত ১০ জুন ২০২৬ (বুধবার) সরেজমিনে সরই ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, একাধিক পয়েন্টে প্রকাশ্যে বালু উত্তোলন চলছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনের অভিযানের পরও সংশ্লিষ্টরা যেন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। নিলামের আড়ালে রাতের বেলাতেও বালু উত্তোলন অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, সরই ইউনিয়নের অধিকাংশ বালু উত্তোলন কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করছেন সেলিম, শোয়াইব ও তারেক নামের কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি। রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাব খাটিয়ে তারা দীর্ঘদিন ধরে এ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। তাদের ভয়ে কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পান না বলেও জানান তারা।

স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রশাসন কয়েকবার অভিযান চালিয়ে জরিমানা করেছে। কিন্তু এরপরও বালু উত্তোলন বন্ধ হয়নি। বরং দেখে মনে হচ্ছে তারা যেন কোনো অদৃশ্য শক্তির আশীর্বাদে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী হিসেবে অভিযুক্ত সেলিমের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সরাসরি সাক্ষাৎ করতে অস্বীকৃতি জানান এবং যা বলার ফোনেই বলতে বলেন। পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো অনুমোদন রয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, এসব অনুমতি আমার লাগে না।এরপর তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

এ বিষয়ে সরই ইউনিয়নের প্রশাসক রাশেদুল হকের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হবে। বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সরই পুলিশ ফাঁড়ির এসআই শাহরিয়া বলেন, যারা অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অভিযোগ পেলে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করা হবে।

অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে নিয়মিত অভিযান ও কঠোর নজরদারি না থাকলে পরিবেশ বিপর্যয়ের পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব ক্ষতি আরও বাড়বে। তারা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।