০১:২৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাতক্ষীরা বাংলা কিউআর’ প্রচলনে জনতা ব্যাংকের নানা উদ্যোগ

শাহিনুর ইসলামঃ বিশেষ প্রতিনিধিঃ
  • Update Time : ০৩:৩৭:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬
  • / ১৮ Time View

সরকার প্রবর্তিত সর্বজনীন ডিজিটাল পেমেন্ট পদ্ধতি ‘বাংলা কিউআর’ (Bangla QR) এর মাধ্যম লেনদেনকে সহজ করতে সাতক্ষীরায় নানা উদ্যোগ নিয়েছে জনতা ব্যাংক পিএলসি।

এরই অংশ হিসেবে শনিবার জনতা ব্যাংক সাতক্ষীরা ক্যাম্পাস শাখার উদ্যোগে শহরের লির্বাটি গ্যালারিতে ‘বাংলা কিউআর’ কোড হস্তান্তর করা হয়।

এই কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন জনতা ব্যাংক পিএলসির সাতক্ষীরা এরিয়া প্রধান মোঃ রোকনুজ্জামান, সাতক্ষীরা ক্যাম্পাস শাখার ব্যবস্থাপক শাহিনুর রহমান, সহকারী ব্যবস্থাপক প্রাণকৃষ্ণ মল্লিক, কর্মকর্তা সাদিকুর রহমান, সত্যকি ঘোষ, রামকৃষ্ণ মন্ডল, নেপাল চন্দ্র সরকার প্রমুখ।

এসময় জানানো হয়, বাংলা কিউআর কোড স্ক্যান করে বিকাশ নগদ, রকেট বা যেকোনো ব্যাংকের অ্যাপ থেকে পেমেন্ট করা যাবে। এরজন্য গ্রাহককে নতুন করে কোনো ওয়ালেট বা অ্যাপ ডাউনলোড করতে হবে না। নিজের ফোনে থাকা বিদ্যমান ব্যাংক বা এমএফএস অ্যাপ দিয়েই কাজ চালানো যাবে। ক্যাশ টাকা বা এটিএম কার্ড বহনের ঝুঁকি থাকে না। এটি একটি ‘পুশ পেমেন্ট’ ব্যবস্থা হওয়ায় মার্চেন্টের কাছে গ্রাহকের কার্ড বা অ্যাকাউন্টের কোনো গোপন তথ্য প্রকাশ পায় না। এই মাধ্যমে লেনদেন করলে কেনাকাটার পর ছেঁড়া-ফাটা নোট বা ১-২ টাকার খুচরা না থাকার ঝামেলা পোহাতে হয় না।

এই পদ্ধতিতে গ্রাহকের পাশাপাশি মার্চেন্টদেরও রয়েছে নানা সুবিধা। আগে বিকাশ, নগদ বা বিভিন্ন ব্যাংকের জন্য আলাদা আলাদা ৫-৬টি কিউআর কোড দোকানে ঝুলিয়ে রাখতে হতো। এখন মাত্র একটি ‘বাংলা কিউআর’ স্ট্যান্ড বা স্টিকার রাখলেই সব মাধ্যমের পেমেন্ট গ্রহণ করা সম্ভব।

প্রচলিত ডেবিট/ক্রেডিট কার্ডের পেমেন্ট নিতে ব্যয়বহুল পিওএস (POS) মেশিনের প্রয়োজন হয়, যার রক্ষণাবেক্ষণ খরচ আছে। বাংলা কিউআর-এ শুধু একটি কাগজের স্টিকার থাকলেই চলে, কোনো অতিরিক্ত সেটআপ খরচ নেই।

পেমেন্টের টাকা সরাসরি বিক্রেতার নির্দিষ্ট ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হয়। ফলে দিনশেষে ক্যাশ টাকা ব্যাংকে গিয়ে জমা দেওয়ার ঝামেলা বা চুরি-ছিনতাইয়ের ঝুঁকি কমে যায়। প্রতিটি লেনদেনের ডিজিটাল রেকর্ড স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংরক্ষিত থাকে। এতে ব্যবসার আয়-ব্যয়ের হিসাব রাখা পানির মতো সহজ হয় এবং ভবিষ্যতে ব্যাংক ঋণ পাওয়ার পথ সুগম করে। চা দোকানদার, মুদি দোকানদার থেকে শুরু করে ফুটপাতের হকাররাও খুব সহজে এবং বিনা খরচে এই ক্যাশলেস নেটওয়ার্কে যুক্ত হতে পারছেন

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

সাতক্ষীরা বাংলা কিউআর’ প্রচলনে জনতা ব্যাংকের নানা উদ্যোগ

Update Time : ০৩:৩৭:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

সরকার প্রবর্তিত সর্বজনীন ডিজিটাল পেমেন্ট পদ্ধতি ‘বাংলা কিউআর’ (Bangla QR) এর মাধ্যম লেনদেনকে সহজ করতে সাতক্ষীরায় নানা উদ্যোগ নিয়েছে জনতা ব্যাংক পিএলসি।

এরই অংশ হিসেবে শনিবার জনতা ব্যাংক সাতক্ষীরা ক্যাম্পাস শাখার উদ্যোগে শহরের লির্বাটি গ্যালারিতে ‘বাংলা কিউআর’ কোড হস্তান্তর করা হয়।

এই কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন জনতা ব্যাংক পিএলসির সাতক্ষীরা এরিয়া প্রধান মোঃ রোকনুজ্জামান, সাতক্ষীরা ক্যাম্পাস শাখার ব্যবস্থাপক শাহিনুর রহমান, সহকারী ব্যবস্থাপক প্রাণকৃষ্ণ মল্লিক, কর্মকর্তা সাদিকুর রহমান, সত্যকি ঘোষ, রামকৃষ্ণ মন্ডল, নেপাল চন্দ্র সরকার প্রমুখ।

এসময় জানানো হয়, বাংলা কিউআর কোড স্ক্যান করে বিকাশ নগদ, রকেট বা যেকোনো ব্যাংকের অ্যাপ থেকে পেমেন্ট করা যাবে। এরজন্য গ্রাহককে নতুন করে কোনো ওয়ালেট বা অ্যাপ ডাউনলোড করতে হবে না। নিজের ফোনে থাকা বিদ্যমান ব্যাংক বা এমএফএস অ্যাপ দিয়েই কাজ চালানো যাবে। ক্যাশ টাকা বা এটিএম কার্ড বহনের ঝুঁকি থাকে না। এটি একটি ‘পুশ পেমেন্ট’ ব্যবস্থা হওয়ায় মার্চেন্টের কাছে গ্রাহকের কার্ড বা অ্যাকাউন্টের কোনো গোপন তথ্য প্রকাশ পায় না। এই মাধ্যমে লেনদেন করলে কেনাকাটার পর ছেঁড়া-ফাটা নোট বা ১-২ টাকার খুচরা না থাকার ঝামেলা পোহাতে হয় না।

এই পদ্ধতিতে গ্রাহকের পাশাপাশি মার্চেন্টদেরও রয়েছে নানা সুবিধা। আগে বিকাশ, নগদ বা বিভিন্ন ব্যাংকের জন্য আলাদা আলাদা ৫-৬টি কিউআর কোড দোকানে ঝুলিয়ে রাখতে হতো। এখন মাত্র একটি ‘বাংলা কিউআর’ স্ট্যান্ড বা স্টিকার রাখলেই সব মাধ্যমের পেমেন্ট গ্রহণ করা সম্ভব।

প্রচলিত ডেবিট/ক্রেডিট কার্ডের পেমেন্ট নিতে ব্যয়বহুল পিওএস (POS) মেশিনের প্রয়োজন হয়, যার রক্ষণাবেক্ষণ খরচ আছে। বাংলা কিউআর-এ শুধু একটি কাগজের স্টিকার থাকলেই চলে, কোনো অতিরিক্ত সেটআপ খরচ নেই।

পেমেন্টের টাকা সরাসরি বিক্রেতার নির্দিষ্ট ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হয়। ফলে দিনশেষে ক্যাশ টাকা ব্যাংকে গিয়ে জমা দেওয়ার ঝামেলা বা চুরি-ছিনতাইয়ের ঝুঁকি কমে যায়। প্রতিটি লেনদেনের ডিজিটাল রেকর্ড স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংরক্ষিত থাকে। এতে ব্যবসার আয়-ব্যয়ের হিসাব রাখা পানির মতো সহজ হয় এবং ভবিষ্যতে ব্যাংক ঋণ পাওয়ার পথ সুগম করে। চা দোকানদার, মুদি দোকানদার থেকে শুরু করে ফুটপাতের হকাররাও খুব সহজে এবং বিনা খরচে এই ক্যাশলেস নেটওয়ার্কে যুক্ত হতে পারছেন