০১:৪১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বঙ্গবাজারে উঠছে ১০ তলা ভবন: বরাদ্দ পাওয়ার আগেই চাঁদার থাবা!

Reporter Name
  • Update Time : ০৭:৪৭:০৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
  • / ২১ Time View

​২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী বঙ্গবাজার পাইকারি মার্কেট। এরপর ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসন এবং আধুনিক শপিং মল নির্মাণের উদ্যোগ নেয় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। পরিকল্পনা অনুযায়ী, সেখানে একটি আধুনিক ১০ তলা ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। তবে সম্প্রতি এই বহুতল ভবনের দোকান বরাদ্দ এবং নির্মাণকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বড় অঙ্কের টাকা তোলার অভিযোগ উঠেছে।
​মূল ঘটনা ও অভিযোগের বিষয়াবলি
​বরাদ্দের আগেই টাকা দাবি: নিয়ম অনুযায়ী, সিটি করপোরেশন দোকান বরাদ্দের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষ করার পর ব্যবসায়ীরা নির্ধারিত ব্যাংকে বা কোষাগারে টাকা জমা দেওয়ার কথা। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, বঙ্গবাজারের কিছু প্রভাবশালী ব্যবসায়ী নেতা ও সিন্ডিকেট সাধারণ ব্যবসায়ীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন। দোকান ফিরে পাওয়ার নিশ্চয়তা বা ভালো পজিশন দেওয়ার নাম করে অগ্রিম লাখ লাখ টাকা দাবি করা হচ্ছে।
​টাকা না দিলে হুমকির অভিযোগ: অনেক সাধারণ ব্যবসায়ী অভিযোগ করেছেন, যারা এই দাবিকৃত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন বা দেরি করছেন, তাদের তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া বা নতুন ভবনে দোকান না দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আগুনে সব হারিয়ে এমনিতেই সর্বস্বান্ত হওয়া ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা এখন এই নতুন চাপে দিশেহারা।
​রসিদবিহীন লেনদেন: ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, এই টাকার বড় অংশই নেওয়া হচ্ছে নগদ (ক্যাশ) আকারে, যার কোনো বৈধ রসিদ বা প্রাতিষ্ঠানিক প্রমাণ দেওয়া হচ্ছে না। একে সাধারণ ব্যবসায়ীরা ‘চাঁদাবাজি’ হিসেবে অভিহিত করছেন।
​নতুন ভবনের পরিকল্পনা
​ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, নতুন বঙ্গবাজার শপিং কমপ্লেক্সটি হবে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত একটি ১০ তলা ভবন। এখানে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত বৈধ দোকানদারদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পুনর্বাসন করার কথা রয়েছে। ভবনে আধুনিক অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, প্রশস্ত করিডোর এবং পর্যাপ্ত পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
​ভুক্তভোগী ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
​সাধারণ ব্যবসায়ীদের দাবি: আগুনে পুড়েই তারা পুঁজি হারিয়েছেন। এরপর চৌকি পেতে কোনোমতে ব্যবসা টিকিয়ে রেখেছেন। এখন দোকান পাওয়ার আগেই যদি লাখ লাখ টাকা অবৈধভাবে দিতে হয়, তবে তাদের পক্ষে ব্যবসা চালানো অসম্ভব হয়ে পড়বে। তারা এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে দ্রুত সরকারি ও আইনি হস্তক্ষেপ দাবি করছেন।
​সিটি করপোরেশনের অবস্থান: ডিএসসিসি বা সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বারবার বলা হয়েছে, দোকান বরাদ্দের বিষয়টি সম্পূর্ণ তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন এবং এর জন্য নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে। কোনো ধরনের অবৈধ লেনদেন বা মধ্যস্বত্বভোগীদের টাকা না দেওয়ার জন্য ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয়েছে। যদি কেউ টাকা দাবি করে, তবে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
​নোট: বঙ্গবাজারের সাধারণ ব্যবসায়ীরা এই হয়রানি থেকে বাঁচতে এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় দোকান বরাদ্দ নিশ্চিত করতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

বঙ্গবাজারে উঠছে ১০ তলা ভবন: বরাদ্দ পাওয়ার আগেই চাঁদার থাবা!

Update Time : ০৭:৪৭:০৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

​২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী বঙ্গবাজার পাইকারি মার্কেট। এরপর ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসন এবং আধুনিক শপিং মল নির্মাণের উদ্যোগ নেয় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। পরিকল্পনা অনুযায়ী, সেখানে একটি আধুনিক ১০ তলা ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। তবে সম্প্রতি এই বহুতল ভবনের দোকান বরাদ্দ এবং নির্মাণকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বড় অঙ্কের টাকা তোলার অভিযোগ উঠেছে।
​মূল ঘটনা ও অভিযোগের বিষয়াবলি
​বরাদ্দের আগেই টাকা দাবি: নিয়ম অনুযায়ী, সিটি করপোরেশন দোকান বরাদ্দের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষ করার পর ব্যবসায়ীরা নির্ধারিত ব্যাংকে বা কোষাগারে টাকা জমা দেওয়ার কথা। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, বঙ্গবাজারের কিছু প্রভাবশালী ব্যবসায়ী নেতা ও সিন্ডিকেট সাধারণ ব্যবসায়ীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন। দোকান ফিরে পাওয়ার নিশ্চয়তা বা ভালো পজিশন দেওয়ার নাম করে অগ্রিম লাখ লাখ টাকা দাবি করা হচ্ছে।
​টাকা না দিলে হুমকির অভিযোগ: অনেক সাধারণ ব্যবসায়ী অভিযোগ করেছেন, যারা এই দাবিকৃত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন বা দেরি করছেন, তাদের তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া বা নতুন ভবনে দোকান না দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আগুনে সব হারিয়ে এমনিতেই সর্বস্বান্ত হওয়া ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা এখন এই নতুন চাপে দিশেহারা।
​রসিদবিহীন লেনদেন: ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, এই টাকার বড় অংশই নেওয়া হচ্ছে নগদ (ক্যাশ) আকারে, যার কোনো বৈধ রসিদ বা প্রাতিষ্ঠানিক প্রমাণ দেওয়া হচ্ছে না। একে সাধারণ ব্যবসায়ীরা ‘চাঁদাবাজি’ হিসেবে অভিহিত করছেন।
​নতুন ভবনের পরিকল্পনা
​ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, নতুন বঙ্গবাজার শপিং কমপ্লেক্সটি হবে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত একটি ১০ তলা ভবন। এখানে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত বৈধ দোকানদারদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পুনর্বাসন করার কথা রয়েছে। ভবনে আধুনিক অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, প্রশস্ত করিডোর এবং পর্যাপ্ত পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
​ভুক্তভোগী ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
​সাধারণ ব্যবসায়ীদের দাবি: আগুনে পুড়েই তারা পুঁজি হারিয়েছেন। এরপর চৌকি পেতে কোনোমতে ব্যবসা টিকিয়ে রেখেছেন। এখন দোকান পাওয়ার আগেই যদি লাখ লাখ টাকা অবৈধভাবে দিতে হয়, তবে তাদের পক্ষে ব্যবসা চালানো অসম্ভব হয়ে পড়বে। তারা এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে দ্রুত সরকারি ও আইনি হস্তক্ষেপ দাবি করছেন।
​সিটি করপোরেশনের অবস্থান: ডিএসসিসি বা সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বারবার বলা হয়েছে, দোকান বরাদ্দের বিষয়টি সম্পূর্ণ তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন এবং এর জন্য নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে। কোনো ধরনের অবৈধ লেনদেন বা মধ্যস্বত্বভোগীদের টাকা না দেওয়ার জন্য ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয়েছে। যদি কেউ টাকা দাবি করে, তবে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
​নোট: বঙ্গবাজারের সাধারণ ব্যবসায়ীরা এই হয়রানি থেকে বাঁচতে এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় দোকান বরাদ্দ নিশ্চিত করতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।