বাঁশখালীতে বন্যায় ঘরহারা ১০০ পরিবার পাচ্ছে নতুন ঘর
- Update Time : ০৩:২২:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬
- / ২২ Time View

আজিজুল হাকিম তুহিন, বিশেষ প্রতিনিধি
চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ও ঘরবাড়ি হারানো ১০০ পরিবারকে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এসব পরিবারের জন্য নির্মাণ করা হচ্ছে নতুন ঘর। আগামী রোববার বাঁশখালী সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে কয়েকজন উপকারভোগীর হাতে ঘরের চাবি তুলে দেওয়ার মাধ্যমে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে বাঁশখালীর বাহারছড়া সমুদ্রসৈকত এলাকায় চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। সেখানে দুটি হেলিপ্যাড নির্মাণের পাশাপাশি মঞ্চ ও প্যান্ডেল তৈরির কাজও শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
শুক্রবার প্রস্তুতি কার্যক্রম পরিদর্শন করেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি অনুষ্ঠানস্থল, হেলিপ্যাড, নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং নির্মাণাধীন ঘরগুলো ঘুরে দেখেন।
পরে সাংবাদিকদের জেলা প্রশাসক জানান, সাম্প্রতিক বন্যায় চট্টগ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলাগুলোর মধ্যে বাঁশখালীতে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা ছিল বেশি। বিশেষ করে জেলে ও নিম্নআয়ের মানুষের অনেক কাঁচা ঘর সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যেসব পরিবারের নতুন ঘর নির্মাণের সামর্থ্য নেই, তাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পুনর্বাসনের আওতায় আনা হয়েছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বাঁশখালী পৌরসভা ও উপজেলার নয়টি ইউনিয়ন থেকে যাচাই-বাছাই করে ১০০ পরিবারকে নতুন ঘরের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে। প্রতিটি ঘরে থাকছে দুটি কক্ষ। ১৮ ফুট বাই ১২ ফুট আয়তনের ঘরের সঙ্গে নির্মাণ করা হচ্ছে ৫ ফুট বাই ৫ ফুটের একটি সংযুক্ত শৌচাগার।
দুর্যোগপ্রবণ এলাকার কথা বিবেচনায় নিয়ে ঘরগুলো নির্মাণে আরসিসি পিলার, কাঠ ও টিন ব্যবহার করা হচ্ছে। নির্মাণকাজের মান বজায় রাখতে উপজেলা প্রশাসন, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় এবং জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার কার্যালয়ের প্রতিনিধিরা নিয়মিত কাজ তদারকি করছেন।
জেলা প্রশাসক বলেন, শুধু ঘর নির্মাণ করাই নয়, উপকারভোগীরা যাতে দীর্ঘদিন নিরাপদে বসবাস করতে পারেন, সেটিই মূল লক্ষ্য। এ কারণে প্রতিটি ঘরের নির্মাণকাজ আলাদাভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে প্রতীকীভাবে স্বামীহারা এক নারীর হাতে নতুন ঘরের চাবি তুলে দেওয়ার কথা রয়েছে। সন্তানদের নিয়ে বসবাস করা ওই নারীকে দিয়ে ১০০ পরিবারের মধ্যে ঘর হস্তান্তর কার্যক্রম শুরু হবে।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ১৫ জন প্রতিবন্ধী শিশু ও ব্যক্তির মধ্যে আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ করা হবে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত আরও ২০০ পরিবারের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণের কর্মসূচিও রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে হেলিকপ্টার অবতরণের স্থান নির্ধারণে বাঁশখালীর একাধিক এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছিল। বিমানবাহিনীর প্রতিনিধিরাও সম্ভাব্য স্থানগুলো পর্যবেক্ষণ করেন। শেষ পর্যন্ত বাহারছড়া সমুদ্রসৈকতসংলগ্ন এলাকাকে উপযুক্ত হিসেবে নির্বাচন করা হয়। সেখানে পাশাপাশি দুটি হেলিপ্যাড নির্মাণ করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক আশা প্রকাশ করেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরের মাধ্যমে বাহারছড়া সমুদ্রসৈকত জাতীয়ভাবে আরও পরিচিত হয়ে উঠবে। এতে পর্যটন সম্ভাবনার পাশাপাশি স্থানীয় জেলে সম্প্রদায়ের জীবনমান ও এলাকার অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
বাঁশখালীর কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রীর বাবুনগর মাদ্রাসা পরিদর্শনের কথা রয়েছে। পরে হাটহাজারীতে গিয়ে কবর জিয়ারত এবং বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে ৩০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ঘর নির্মাণের জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মধ্যেও সহায়তা বিতরণ করা হবে।
সবশেষে চট্টগ্রাম নগরে দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, মঞ্চ, প্যান্ডেল, হেলিপ্যাড ও নিরাপত্তাসহ প্রধানমন্ত্রীর সফরের সার্বিক প্রস্তুতি শনিবার দুপুরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো কাজ করছে।
















