০৪:৩৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টানা জলাবদ্ধতায় কেশবপুরে দুর্ভোগ চরমে, পানিবন্দি মানুষের স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত

শাহিনুর ইসলামঃ বিশেষ প্রতিনিধি:
  • Update Time : ১১:৫৪:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
  • / ২২ Time View

যশোরের কেশবপুরে টানা বৃষ্টিতে পৌরসভাসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার নিম্ন অঞ্চলে জলাবদ্ধ হয়ে জনজীবনে দুর্ভোগ নেমে এসেছে। পৌরসভা এলাকায় ২৪১ বাড়ি জলাবদ্ধ হয়ে রয়েছে। এর মধ্যে ৩৯টি ঘরে পানি ঢুকে পড়ায় বিপদে পড়েছেন পরিবার গুলো। গত বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে শুরু হওয়া ভারী বর্ষণের কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়। অবিরাম বৃষ্টিতে উপজেলার বিভিন্ন সড়ক, বাজার ও নিম্নাঞ্চল পানিতে ডুবে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দিনমজুর, ভ্যানচালক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, কৃষক, গৃহিণী ও নিম্ন আয়ের মানুষ। সরেজমিন পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের খানপাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায় মানুষের বাড়ি ঘরের মধ্যে পানি ঢুকে পড়েছে। গৃহবধূ ঝরনা বেগম বলেন ঘরের মধ্যে পানি ঢুকে যাওয়ার
কারণে মালামাল নিয়ে পাশে উচু স্থানে উঠতে হয়েছে। গত পাঁচ দিন ঘরের ভিতরে পানি
ঢুকে রয়েছে। বিপাকে পড়েছেন শ্রমজীবী মানুষ।
পাঁজিয়া এলাকার দিনমজুর ইসলাম উদ্দিন বলেন, “তিন-চার দিন ধরে তেমন কোনো কাজ
নেই। সকাল থেকে বের হলেও কাজ মেলে না। সংসারের খরচ চালানো কঠিন হয় পড়েছে।
উপজেলার বেলকাটি গ্রামের কৃষক আতিয়ার রহমান বলেন, “বৃষ্টিতে কিছু নিচু
জমিতে পানি জমে আছে। এতে সবজি ও ধানের বীজতলা ক্ষতির ঝুঁকিতে রয়েছে।
অন্যদিকে টানা বৃষ্টিতে গৃহিণীদের দুর্ভোগও বেড়েছে কয়েক গুণ। অনেক বাড়ির উঠান
ও রান্নাঘরের আশপাশে পানি জমে থাকায় স্বাভাবিক গৃহস্থালির কাজ ব্যাহত হচ্ছে।
দীর্ঘ সময় ঘরের ভেতরে স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ থাকায় জ্বর, সর্দি-কাশিসহ বিভিন্ন
রোগের আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।
নদ নদীতেও পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে কেশবপুরের বিভিন্ন এলাকা
জলাবদ্ধ হয়ে মানুষের দুর্ভোগ বেড়ে যাবে। মৎস্য ও কৃষি খাতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
মাছ ভেসে ও ঘেরের অবকাঠামো নষ্ট হয়ে ২ কোটি ৮ লাখ টাকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন
খামারিরা।
পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল ফজল মো: এনামুল হক বলেন, অতিরিক্ত বৃষ্টির
কারণে পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে সাত ও এক নম্বর
ওয়ার্ডের ৩৯ টি ঘরে পানি ঢুকে গেছে। এছাড়া ২৪১ ঘর ঘরবাড়ি জলাবদ্ধ হয়েছে।
উপজেলা মৎস্য অফিসার সুদীপ বিশ্বাস বলেন, অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে মাছের ঘের ও পুকুর
ভেসে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন মাছ চাষীরা।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

টানা জলাবদ্ধতায় কেশবপুরে দুর্ভোগ চরমে, পানিবন্দি মানুষের স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত

Update Time : ১১:৫৪:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

যশোরের কেশবপুরে টানা বৃষ্টিতে পৌরসভাসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার নিম্ন অঞ্চলে জলাবদ্ধ হয়ে জনজীবনে দুর্ভোগ নেমে এসেছে। পৌরসভা এলাকায় ২৪১ বাড়ি জলাবদ্ধ হয়ে রয়েছে। এর মধ্যে ৩৯টি ঘরে পানি ঢুকে পড়ায় বিপদে পড়েছেন পরিবার গুলো। গত বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে শুরু হওয়া ভারী বর্ষণের কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়। অবিরাম বৃষ্টিতে উপজেলার বিভিন্ন সড়ক, বাজার ও নিম্নাঞ্চল পানিতে ডুবে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দিনমজুর, ভ্যানচালক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, কৃষক, গৃহিণী ও নিম্ন আয়ের মানুষ। সরেজমিন পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের খানপাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায় মানুষের বাড়ি ঘরের মধ্যে পানি ঢুকে পড়েছে। গৃহবধূ ঝরনা বেগম বলেন ঘরের মধ্যে পানি ঢুকে যাওয়ার
কারণে মালামাল নিয়ে পাশে উচু স্থানে উঠতে হয়েছে। গত পাঁচ দিন ঘরের ভিতরে পানি
ঢুকে রয়েছে। বিপাকে পড়েছেন শ্রমজীবী মানুষ।
পাঁজিয়া এলাকার দিনমজুর ইসলাম উদ্দিন বলেন, “তিন-চার দিন ধরে তেমন কোনো কাজ
নেই। সকাল থেকে বের হলেও কাজ মেলে না। সংসারের খরচ চালানো কঠিন হয় পড়েছে।
উপজেলার বেলকাটি গ্রামের কৃষক আতিয়ার রহমান বলেন, “বৃষ্টিতে কিছু নিচু
জমিতে পানি জমে আছে। এতে সবজি ও ধানের বীজতলা ক্ষতির ঝুঁকিতে রয়েছে।
অন্যদিকে টানা বৃষ্টিতে গৃহিণীদের দুর্ভোগও বেড়েছে কয়েক গুণ। অনেক বাড়ির উঠান
ও রান্নাঘরের আশপাশে পানি জমে থাকায় স্বাভাবিক গৃহস্থালির কাজ ব্যাহত হচ্ছে।
দীর্ঘ সময় ঘরের ভেতরে স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ থাকায় জ্বর, সর্দি-কাশিসহ বিভিন্ন
রোগের আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।
নদ নদীতেও পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে কেশবপুরের বিভিন্ন এলাকা
জলাবদ্ধ হয়ে মানুষের দুর্ভোগ বেড়ে যাবে। মৎস্য ও কৃষি খাতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
মাছ ভেসে ও ঘেরের অবকাঠামো নষ্ট হয়ে ২ কোটি ৮ লাখ টাকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন
খামারিরা।
পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল ফজল মো: এনামুল হক বলেন, অতিরিক্ত বৃষ্টির
কারণে পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে সাত ও এক নম্বর
ওয়ার্ডের ৩৯ টি ঘরে পানি ঢুকে গেছে। এছাড়া ২৪১ ঘর ঘরবাড়ি জলাবদ্ধ হয়েছে।
উপজেলা মৎস্য অফিসার সুদীপ বিশ্বাস বলেন, অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে মাছের ঘের ও পুকুর
ভেসে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন মাছ চাষীরা।