ঢাকা বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,
১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হরমুজ প্রণালীর পাহারা দেবে আমেরিকা, তবে গুণতে হবে মোটা অঙ্কের ‘পারিশ্রমিক’: ট্রাম্পের নতুন দাবি

admin
  • প্রকাশের সময় : ১০:২৪:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
  • / 102

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল নৌপথ হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা দিতে নতুন এক শর্ত জুড়ে দিয়েছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলের নিরাপত্তা বা ‘অভিভাবক’-এর দায়িত্ব পালন করতে প্রস্তুত, তবে এর বিনিময়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে অবশ্যই মোটা অঙ্কের পারিশ্রমিক দিতে হবে।
​সরাসরি ও চাঁছাছোলা বক্তব্যের জন্য পরিচিত ট্রাম্প এক নির্বাচনী সমাবেশে (কিংবা সাক্ষাৎকারে) বিশ্ব রাজনীতির এই গুরুত্বপূর্ণ সমীকরণ নিয়ে কথা বলেন।
​ট্রাম্পের মূল বক্তব্য ও যুক্তি
​ট্রাম্পের মতে, বিশ্বজুড়ে তেল ও অন্যান্য পণ্য পরিবহনের জন্য হরমুজ প্রণালী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও, এর সবচেয়ে বেশি সুবিধাভোগী দেশগুলো আমেরিকার সামরিক সুরক্ষার ওপর ফ্রিতে ভরসা করে আছে।
​তিনি বলেন:
​”আমরা বছরের পর বছর ধরে অন্যান্য দেশের তেলবাহী জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার খরচ করছি। অথচ চীন, জাপান বা অন্যান্য ধনী দেশগুলো সেখান থেকে তেল নিয়ে যাচ্ছে কোনো খরচ ছাড়াই। আমেরিকা আর কতদিন বিনামূল্যে এই অভিভাবকত্ব করবে? যদি তারা আমাদের সুরক্ষা চায়, তবে তার উপযুক্ত মূল্য দিতে হবে।”
​কেন গুরুত্বপূর্ণ এই হরমুজ প্রণালী?
​মধ্যপ্রাচ্যের ওমান ও ইরানের মধ্যবর্তী এই সরু জলপথটি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের প্রধান ধমনী।
​তেল সরবরাহ: বিশ্বের মোট উত্তোলিত অপরিশোধিত তেলের প্রায় ২০% এই প্রণালী দিয়েই পরিবাহিত হয়।
​ভূ-রাজনীতি: ইরান প্রায়শই এই রুটে মার্কিন ও পশ্চিমা জাহাজের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ বা জব্দ করার হুমকি দিয়ে থাকে, যা বিশ্ববাজারে তেলের দামের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে।
​মিশ্র প্রতিক্রিয়া
​ট্রাম্পের এই ‘বিজনেস মাইন্ডেড’ ভূ-রাজনৈতিক নীতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সমালোচকদের মতে, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমেরিকার বৈশ্বিক নেতৃত্বের অংশ। সেটাকে এভাবে ব্যবসায়িক রূপ দিলে দীর্ঘদিনের মিত্রদের সাথে ওয়াশিংটনের সম্পর্কে ফাটল ধরতে পারে। অন্যদিকে, ট্রাম্পের সমর্থকরা এই নীতিকে স্বাগত জানিয়ে বলছেন, আমেরিকান ট্যাক্সপেয়ারদের অর্থ অন্য দেশের সুরক্ষায় অপচয় করার দিন এবার শেষ হওয়া উচিত।
​এখন দেখার বিষয়, ট্রাম্পের এই দাবি মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক মুক্ত বাণিজ্যের সমীকরণকে কোন দিকে নিয়ে যায়।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

রিপোর্টারের তথ্য
admin

হরমুজ প্রণালীর পাহারা দেবে আমেরিকা, তবে গুণতে হবে মোটা অঙ্কের ‘পারিশ্রমিক’: ট্রাম্পের নতুন দাবি

প্রকাশের সময় : ১০:২৪:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল নৌপথ হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা দিতে নতুন এক শর্ত জুড়ে দিয়েছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলের নিরাপত্তা বা ‘অভিভাবক’-এর দায়িত্ব পালন করতে প্রস্তুত, তবে এর বিনিময়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে অবশ্যই মোটা অঙ্কের পারিশ্রমিক দিতে হবে।
​সরাসরি ও চাঁছাছোলা বক্তব্যের জন্য পরিচিত ট্রাম্প এক নির্বাচনী সমাবেশে (কিংবা সাক্ষাৎকারে) বিশ্ব রাজনীতির এই গুরুত্বপূর্ণ সমীকরণ নিয়ে কথা বলেন।
​ট্রাম্পের মূল বক্তব্য ও যুক্তি
​ট্রাম্পের মতে, বিশ্বজুড়ে তেল ও অন্যান্য পণ্য পরিবহনের জন্য হরমুজ প্রণালী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও, এর সবচেয়ে বেশি সুবিধাভোগী দেশগুলো আমেরিকার সামরিক সুরক্ষার ওপর ফ্রিতে ভরসা করে আছে।
​তিনি বলেন:
​”আমরা বছরের পর বছর ধরে অন্যান্য দেশের তেলবাহী জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার খরচ করছি। অথচ চীন, জাপান বা অন্যান্য ধনী দেশগুলো সেখান থেকে তেল নিয়ে যাচ্ছে কোনো খরচ ছাড়াই। আমেরিকা আর কতদিন বিনামূল্যে এই অভিভাবকত্ব করবে? যদি তারা আমাদের সুরক্ষা চায়, তবে তার উপযুক্ত মূল্য দিতে হবে।”
​কেন গুরুত্বপূর্ণ এই হরমুজ প্রণালী?
​মধ্যপ্রাচ্যের ওমান ও ইরানের মধ্যবর্তী এই সরু জলপথটি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের প্রধান ধমনী।
​তেল সরবরাহ: বিশ্বের মোট উত্তোলিত অপরিশোধিত তেলের প্রায় ২০% এই প্রণালী দিয়েই পরিবাহিত হয়।
​ভূ-রাজনীতি: ইরান প্রায়শই এই রুটে মার্কিন ও পশ্চিমা জাহাজের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ বা জব্দ করার হুমকি দিয়ে থাকে, যা বিশ্ববাজারে তেলের দামের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে।
​মিশ্র প্রতিক্রিয়া
​ট্রাম্পের এই ‘বিজনেস মাইন্ডেড’ ভূ-রাজনৈতিক নীতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সমালোচকদের মতে, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমেরিকার বৈশ্বিক নেতৃত্বের অংশ। সেটাকে এভাবে ব্যবসায়িক রূপ দিলে দীর্ঘদিনের মিত্রদের সাথে ওয়াশিংটনের সম্পর্কে ফাটল ধরতে পারে। অন্যদিকে, ট্রাম্পের সমর্থকরা এই নীতিকে স্বাগত জানিয়ে বলছেন, আমেরিকান ট্যাক্সপেয়ারদের অর্থ অন্য দেশের সুরক্ষায় অপচয় করার দিন এবার শেষ হওয়া উচিত।
​এখন দেখার বিষয়, ট্রাম্পের এই দাবি মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক মুক্ত বাণিজ্যের সমীকরণকে কোন দিকে নিয়ে যায়।