০৪:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে ৯৩টি মণ্ডপে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত মৃৎশিল্পীরা

মোঃ জাকির উল্লাহ রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) উপজেলা
  • Update Time : ০১:৪৪:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬
  • / ২৪ Time View

মহালয়া সামনে রেখে মণ্ডপে মণ্ডপে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি; বাঁশ-কাঠ-খড়-মাটির কাঠামো পেরিয়ে চলছে রং-তুলির অপেক্ষা

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা সামনে রেখে উপজেলার বিভিন্ন মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে প্রতিমা তৈরির ব্যস্ততা। রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে দিন-রাত কাজ করছেন মৃৎশিল্পীরা। বাঁশ, কাঠ, খড় ও মাটি দিয়ে দেবী দুর্গাসহ লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশের প্রতিমার অবয়ব তৈরির কাজ এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে।

রায়গঞ্জ উপজেলার ছোট-বড় ৯৩টি পূজামণ্ডপে চলছে দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি। উৎসব যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে মণ্ডপ ও কারিগরদের ব্যস্ততা। প্রায় এক থেকে দেড় মাস আগে শুরু হওয়া প্রতিমা তৈরির কাজ এখন শেষ ধাপে। কোথাও মাটির প্রলেপ শুকানো হচ্ছে, কোথাও চলছে সূক্ষ্ম কারুকাজ। এরপরই শুরু হবে রং ও তুলির কাজ।

রায়গঞ্জ পৌরসভা ও উপজেলার নয়টি ইউনিয়নে এবার ৯৩টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে পৌর এলাকায় সাতটি এবং উপজেলার নয়টি ইউনিয়নে ৮৬টি মণ্ডপ রয়েছে। রায়গঞ্জ উপজেলার ৯৩ টি মণ্ডপের মধ্যে চান্দাইকোনা ইউপি : ২৩, ধামাইনগর ইউপি : ১১, সোনাখাড়া ইউপি : ১৪, ধানগড়া ইউপি : ০২, পাংগাশী ইউপি : ০৭, ব্রহ্মগাছা ইউপি : ০৫, ঘূড়কা ইউপি : ১৭, ধুবিল ইউপি : ০৪, নলকা ইউপি : ০৩, রায়গঞ্জ পৌর এলাকায় ০৭।

বিভিন্ন মণ্ডপ ও প্রতিমাশিল্পীদের কর্মশালা ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিমার কাঠামো তৈরির পর মাটি দিয়ে অবয়ব ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে। শিল্পীরা বলছেন, বৃষ্টির কারণে কখনো কখনো মাটি শুকাতে সমস্যা হলেও এখন রোদ ওঠায় কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া যাচ্ছে।

একজন প্রতিমাশিল্পী বলেন, বাঁশ, কাঠ, সুতলি ও এঁটেল মাটির দাম বেড়ে যাওয়ায় প্রতিমা তৈরির খরচ আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা দামের একটি প্রতিমা তৈরিতেই ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকার বেশি খরচ হয়ে যায়। ফলে আগের তুলনায় লাভ কমে গেছে।

মৃৎশিল্পীদের ব্যস্ততার পাশাপাশি পূজা উদ্‌যাপন কমিটিগুলোও মণ্ডপ সাজানো, আলোকসজ্জা ও নিরাপত্তাসহ অন্যান্য প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের এই দুর্গোৎসবকে ঘিরে এরই মধ্যে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে।

রায়গঞ্জ উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি ডাঃ চন্দন কুমার সরকার বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসব সুন্দর ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্‌যাপনের লক্ষ্যে প্রতিমা তৈরি থেকে শুরু করে সব ধরনের প্রস্তুতি জোরেশোরে চলছে। ভক্তদের অংশগ্রহণে এবারও আনন্দঘন পরিবেশে দুর্গোৎসব পালিত হবে বলে আশা করেন তিনি।

রায়গঞ্জ উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক রণজিৎ কুমার সেন বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসব কেবল আনন্দের উৎসব নয়, এটি অশুভ শক্তির বিনাশ ও সত্য-সুন্দর-ঐক্যের প্রতীক। আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসব সকলের জন্য বয়ে আনুক অনাবিল শান্তি ও কল্যাণ। এ উৎসব নির্বিঘ্নে, শান্তিপূর্ণভাবে পালন করে আমরা রায়গঞ্জ উপজেলা বাসি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য নজির স্থাপন করে আসছি। আশা করি সকলের সার্বিক সহযোগিতায় এবছরও এ দৃষ্টান্ত অটুট থাকবে বলে আশা করি।

এদিকে, আগামী ১০ অক্টোবর শুভ মহালয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হবে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিক আবহ। এরপর ১৭ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে মূল পূজা শুরু হয়ে ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে পাঁচ দিনের দুর্গোৎসব শেষ হবে

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে ৯৩টি মণ্ডপে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত মৃৎশিল্পীরা

Update Time : ০১:৪৪:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

মহালয়া সামনে রেখে মণ্ডপে মণ্ডপে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি; বাঁশ-কাঠ-খড়-মাটির কাঠামো পেরিয়ে চলছে রং-তুলির অপেক্ষা

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা সামনে রেখে উপজেলার বিভিন্ন মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে প্রতিমা তৈরির ব্যস্ততা। রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে দিন-রাত কাজ করছেন মৃৎশিল্পীরা। বাঁশ, কাঠ, খড় ও মাটি দিয়ে দেবী দুর্গাসহ লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশের প্রতিমার অবয়ব তৈরির কাজ এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে।

রায়গঞ্জ উপজেলার ছোট-বড় ৯৩টি পূজামণ্ডপে চলছে দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি। উৎসব যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে মণ্ডপ ও কারিগরদের ব্যস্ততা। প্রায় এক থেকে দেড় মাস আগে শুরু হওয়া প্রতিমা তৈরির কাজ এখন শেষ ধাপে। কোথাও মাটির প্রলেপ শুকানো হচ্ছে, কোথাও চলছে সূক্ষ্ম কারুকাজ। এরপরই শুরু হবে রং ও তুলির কাজ।

রায়গঞ্জ পৌরসভা ও উপজেলার নয়টি ইউনিয়নে এবার ৯৩টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে পৌর এলাকায় সাতটি এবং উপজেলার নয়টি ইউনিয়নে ৮৬টি মণ্ডপ রয়েছে। রায়গঞ্জ উপজেলার ৯৩ টি মণ্ডপের মধ্যে চান্দাইকোনা ইউপি : ২৩, ধামাইনগর ইউপি : ১১, সোনাখাড়া ইউপি : ১৪, ধানগড়া ইউপি : ০২, পাংগাশী ইউপি : ০৭, ব্রহ্মগাছা ইউপি : ০৫, ঘূড়কা ইউপি : ১৭, ধুবিল ইউপি : ০৪, নলকা ইউপি : ০৩, রায়গঞ্জ পৌর এলাকায় ০৭।

বিভিন্ন মণ্ডপ ও প্রতিমাশিল্পীদের কর্মশালা ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিমার কাঠামো তৈরির পর মাটি দিয়ে অবয়ব ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে। শিল্পীরা বলছেন, বৃষ্টির কারণে কখনো কখনো মাটি শুকাতে সমস্যা হলেও এখন রোদ ওঠায় কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া যাচ্ছে।

একজন প্রতিমাশিল্পী বলেন, বাঁশ, কাঠ, সুতলি ও এঁটেল মাটির দাম বেড়ে যাওয়ায় প্রতিমা তৈরির খরচ আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা দামের একটি প্রতিমা তৈরিতেই ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকার বেশি খরচ হয়ে যায়। ফলে আগের তুলনায় লাভ কমে গেছে।

মৃৎশিল্পীদের ব্যস্ততার পাশাপাশি পূজা উদ্‌যাপন কমিটিগুলোও মণ্ডপ সাজানো, আলোকসজ্জা ও নিরাপত্তাসহ অন্যান্য প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের এই দুর্গোৎসবকে ঘিরে এরই মধ্যে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে।

রায়গঞ্জ উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি ডাঃ চন্দন কুমার সরকার বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসব সুন্দর ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্‌যাপনের লক্ষ্যে প্রতিমা তৈরি থেকে শুরু করে সব ধরনের প্রস্তুতি জোরেশোরে চলছে। ভক্তদের অংশগ্রহণে এবারও আনন্দঘন পরিবেশে দুর্গোৎসব পালিত হবে বলে আশা করেন তিনি।

রায়গঞ্জ উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক রণজিৎ কুমার সেন বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসব কেবল আনন্দের উৎসব নয়, এটি অশুভ শক্তির বিনাশ ও সত্য-সুন্দর-ঐক্যের প্রতীক। আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসব সকলের জন্য বয়ে আনুক অনাবিল শান্তি ও কল্যাণ। এ উৎসব নির্বিঘ্নে, শান্তিপূর্ণভাবে পালন করে আমরা রায়গঞ্জ উপজেলা বাসি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য নজির স্থাপন করে আসছি। আশা করি সকলের সার্বিক সহযোগিতায় এবছরও এ দৃষ্টান্ত অটুট থাকবে বলে আশা করি।

এদিকে, আগামী ১০ অক্টোবর শুভ মহালয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হবে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিক আবহ। এরপর ১৭ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে মূল পূজা শুরু হয়ে ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে পাঁচ দিনের দুর্গোৎসব শেষ হবে