শাটার কেটে ৯৪ মোবাইল চুরি, বাসে ঢাকায় পালানোর পথে ৮ জন গ্রেপ্তার
- Update Time : ০৮:১৮:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
- / ৪৮ Time View

বগুড়ার ধুনটে মোবাইল ফোনের দোকানের শাটার কেটে ৯৪টি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন চুরির পর ঢাকার উদ্দেশ্যে পালিয়ে যাওয়ার সময় সংঘবদ্ধ চোরচক্রের আট সদস্যকে সিরাজগঞ্জে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের বহনকারী শ্যামলী পরিবহনের একটি বাসে অভিযান চালিয়ে চুরি যাওয়া সবগুলো মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে যমুনা সেতু পশ্চিম থানার এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। পরে গ্রেপ্তার আটজনকে মামলার পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য ধুনট থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মো. রবিউল (৩৩), আলাউদ্দিন (২৫), ইসরাফিল (২৭), হৃদয় (৩৫), আলামিন (৩০), আক্কাস (৩৫), ইমরান (৩০) ও ইয়াসিন আরাফাত (৩৮)। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা বিভিন্ন জেলার বাসিন্দা এবং তারা একটি সংঘবদ্ধ চোরচক্রের সদস্য।
রাতের আঁধারে দোকানে চুরি
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবার রাতে ধুনটের একটি মার্কেটে অবস্থিত ‘মাসুদ টেলিকম’ নামের মোবাইল ফোনের দোকান বন্ধ করে বাড়িতে চলে যান দোকানের মালিক মাসুদ রানা। রাতের কোনো একসময় চোরচক্রের সদস্যরা দোকানের সামনে এসে শাটারের তালা কেটে ভেতরে প্রবেশ করে।
দোকানের শাটার কেটে ভেতরে ঢোকার পর তারা বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বিপুলসংখ্যক মোবাইল ফোন নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। চুরি করা মোবাইল ফোনগুলো সঙ্গে নিয়ে তারা দুটি সিএনজি অটোরিকশা ভাড়া করে শেরপুর বাসস্ট্যান্ডের দিকে রওনা হয়।
সকালে চুরির বিষয়টি জানতে পারেন মালিক
বুধবার সকাল ৭টার দিকে মার্কেটের নৈশপ্রহরী দোকানগুলো পরিদর্শনে বের হন। এ সময় তিনি মাসুদ টেলিকমের শাটার খোলা এবং তালা কাটা অবস্থায় দেখতে পান। পরে দ্রুত দোকানের মালিক মাসুদ রানাকে বিষয়টি জানানো হয়।
খবর পেয়ে দোকানে এসে তিনি দেখতে পান, দোকানের ভেতরে থাকা বিপুলসংখ্যক মোবাইল ফোন নেই। পরে তিনি ধুনট থানায় গিয়ে চুরির ঘটনায় অভিযোগ করেন।
সিসিটিভি ও সিএনজি চালকদের তথ্য
অভিযোগ পাওয়ার পর ধুনট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করে। দোকান ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি চোরচক্র কোন পথে পালিয়েছে, তা জানতে স্থানীয়ভাবে তথ্য সংগ্রহ শুরু করে পুলিশ।
তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশ জানতে পারে, চুরির পর আটজন ব্যক্তি দুটি সিএনজি অটোরিকশা রিজার্ভ করে শেরপুর বাসস্ট্যান্ডে যায়। পরে তারা ঢাকাগামী শ্যামলী পরিবহনের একটি বাসে ওঠে।
সিএনজি চালকদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ শেরপুর বাসস্ট্যান্ডের শ্যামলী পরিবহনের কাউন্টারে যোগাযোগ করে। সেখান থেকে বাসটির নম্বর এবং সুপারভাইজারের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করা হয়। এরপর বাসটির অবস্থান সম্পর্কে তথ্য নিয়ে সিরাজগঞ্জের সংশ্লিষ্ট পুলিশকে জানানো হয়।
যমুনা সেতু পশ্চিমে বাসে অভিযান
চোরচক্রের সদস্যরা বাসে করে ঢাকার দিকে রওনা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর ধুনট থানা পুলিশ, সিরাজগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশ এবং যমুনা সেতু পশ্চিম থানা পুলিশ সমন্বিতভাবে অভিযান পরিচালনা করে।
বুধবার সকাল ১১টার দিকে যমুনা সেতু পশ্চিম থানার এলাকায় শ্যামলী পরিবহনের ওই বাসে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় সন্দেহভাজন আটজনকে আটক করা হয়।
পরে তাদের সঙ্গে থাকা ব্যাগ ও অন্যান্য মালামাল তল্লাশি করে ৯৪টি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। পুলিশ প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়, উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোনগুলো ধুনটের ওই দোকান থেকে চুরি করা হয়েছিল।
পুলিশের বক্তব্য
যমুনা সেতু পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিরুল ইসলাম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শ্যামলী পরিবহনের একটি বাসে অভিযান চালানো হয়। এ সময় আটজনকে গ্রেপ্তার এবং তাদের কাছ থেকে ৯৪টি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ধুনট থানায় মামলা হয়েছে। পরবর্তী আইনি কার্যক্রমের জন্য তাদের ধুনট থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা বিভিন্ন জেলার বাসিন্দা। তারা সংঘবদ্ধভাবে চুরির সঙ্গে জড়িত কি না এবং তাদের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে, চুরি যাওয়া মোবাইল ফোনগুলো উদ্ধারের ঘটনায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন দোকান মালিক মাসুদ রানা। পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার করা মোবাইল ফোনের তালিকা যাচাই করে প্রকৃত মালিকের কাছে সেগুলো হস্তান্তরের বিষয়ে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।



















