মাদক কারবারিদের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড, সংসদে ঐতিহাসিক বিল পাস
- Update Time : ১০:৫৪:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
- / ২৭ Time View

দেশে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার, চোরাচালান এবং অবৈধ কেনাবেচা কঠোর হস্তে দমনে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিয়েছে জাতীয় সংসদ। এখন থেকে সুনির্দিষ্ট কিছু মাদক অপরাধের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সাজা হিসেবে ‘মৃত্যুদণ্ড’ বা ‘যাবজ্জীবন কারাদণ্ড’-এর বিধান রেখে নতুন একটি সংশোধিত বিল পাস করা হয়েছে।
আজ (সোমবার) সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কর্তৃক বিলটি উত্থাপনের পর কণ্ঠভোটে তা সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়।
কঠোর আইনের মুখে মাদক সিন্ডিকেট
নতুন এই আইনের মূল লক্ষ্য হচ্ছে দেশে মাদকের বিস্তার রোধ করা এবং বড় বড় গডফাদারদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা।
বিলে উল্লেখ করা হয়েছে:
সর্বোচ্চ সাজা: হেরোইন, কোকেন, ক্র্যাকসহ ‘ক’ শ্রেণির মাদক নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি কেনাবেচা, উৎপাদন, বা চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত থাকলে অপরাধীর সর্বোচ্চ সাজা হবে মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।
অর্থদণ্ড: শুধু শারীরিক শাস্তিই নয়, অপরাধের গভীরতা অনুযায়ী বিপুল অঙ্কের অর্থদণ্ডের বিধানও রাখা হয়েছে এই আইনে।
সহযোগীদের শাস্তি: যারা মাদক কেনাবেচায় অর্থায়ন করবে বা নেপথ্যে থেকে মদদ দেবে, তারাও মূল অপরাধীর সমান শাস্তির মুখোমুখি হবে।
”মাদক একটি প্রজন্মকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। সমাজ ও রাষ্ট্রকে এই ভয়াবহ ব্যাধি থেকে বাঁচাতে অপরাধীদের মনে আইনের কঠোর ভয় থাকা জরুরি। এই আইন পাস হওয়ার ফলে মাদক সিন্ডিকেট পুরোপুরি ভেঙে দেওয়া সম্ভব হবে।” — সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
কেন এই কঠোর ব্যবস্থা?
সাম্প্রতিক সময়ে দেশে বিভিন্ন নতুন এবং মারাত্মক সব মাদকের অনুপ্রবেশ ঘটেছে। যুবসমাজকে রক্ষা এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতেই প্রচলিত আইনকে আরও কঠোর ও যুগোপযোগী করার দাবি উঠছিল দীর্ঘদিন ধরে। সংসদে বিলটি পাসের সময় সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়ে এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান।
আইনটি মহামান্য রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের পর সরকারি গেজেটে প্রকাশের দিন থেকে দেশজুড়ে কার্যকর হবে।



















