পরমাণু ইস্যুতে নমনীয় ট্রাম্প: ইরানের জন্য ২০ বছরের ‘ছাড়’ প্রস্তাব
- Update Time : ১১:৪৮:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬
- / ২৬ Time View

ওয়াশিংটন/তেহরান: দীর্ঘদিনের কঠোর অবস্থান থেকে সরে এসে ইরান ইস্যুতে নতুন এক কূটনৈতিক প্রস্তাবের ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, ইরান যদি তাদের পরমাণু কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ না করে অন্তত ২০ বছরের জন্য স্থগিত রাখে, তবে তিনি তা মেনে নিতে রাজি আছেন।
নিউজ হাইলাইটস:
স্থায়ী নয়, দীর্ঘমেয়াদী স্থগিতাদেশ: এর আগে ট্রাম্প ইরানকে চিরতরে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধের দাবি জানিয়েছিলেন। কিন্তু বর্তমানে তিনি বলছেন, “২০ বছর একটি দীর্ঘ সময় এবং এটি আপাতত যথেষ্ট হতে পারে।”
শর্তসাপেক্ষ নমনীয়তা: ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন যে, এই ২০ বছরের স্থগিতাদেশ হতে হবে অত্যন্ত স্বচ্ছ এবং আন্তর্জাতিকভাবে শতভাগ নিশ্চিত। তিনি বলেন, “এটি হতে হবে একটি প্রকৃত ২০ বছর, কোনো ফাঁকফোকর থাকা চলবে না।”
চাপের মুখে কূটনীতি: ইরান বর্তমানে মার্কিন অর্থনৈতিক অবরোধ এবং নৌ-অবরোধের কারণে চরম সংকটে রয়েছে। অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের যুদ্ধ এড়াতে ট্রাম্প প্রশাসনও একটি ‘উন্নত চুক্তির’ (Better Deal) চেষ্টা করছে, যা ২০১৫ সালের চুক্তির চেয়েও কঠোর হবে।
ইরানের অবস্থান: ইরান শুরু থেকেই তাদের পারমাণবিক অধিকার রক্ষার দাবি জানিয়ে আসছে। তবে বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে তারাও আলোচনার টেবিলে ফেরার সংকেত দিয়েছে। তেহরান চায় পরমাণু কর্মসূচিতে কিছুটা ছাড় দেওয়ার বিনিময়ে তাদের ওপর থেকে সব অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হোক।
ট্রাম্পের বর্তমান কৌশল:
ট্রাম্পের এই নমনীয়তাকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ‘আর্ট অফ দ্য ডিল’-এর অংশ হিসেবে দেখছেন। তিনি একদিকে ‘সর্বোচ্চ চাপ’ (Maximum Pressure) বজায় রাখছেন, আবার অন্যদিকে আলোচনার জন্য একটি মধ্যপন্থা বা ‘গোল্ডেন ব্রিজ’ তৈরি করে দিচ্ছেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বক্তব্য: “আমি চাই না কোনো ভবিষ্যৎ প্রেসিডেন্টের জন্য এই সমস্যাটি রেখে যেতে। তবে যদি তারা সঠিক গ্যারান্টি দেয় এবং ২০ বছরের জন্য সবকিছু থামিয়ে রাখে, তবে আমরা একটি সমঝোতায় আসতে পারি।”
পরবর্তী পদক্ষেপ কী হতে পারে?
ধারণা করা হচ্ছে, ওমান বা পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে দুই দেশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যে আবারও বৈঠক হতে পারে। তবে ইউরেনিয়াম মজুদ হস্তান্তর এবং ইসরায়েলের নিরাপত্তার বিষয়টি এই চুক্তির প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।











