০৪:১৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফুলপুরে শ্মশান-স্তব্ধতা: ছিঁড়ে পড়া বিদ্যুতের তারে প্রাণ গেল দুই কৃষকের

ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি অনিক কুমার পাল মৃন্ময়
  • Update Time : ১১:৩০:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬
  • / ১৪ Time View

ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার রূপসী ইউনিয়নে এক নিদারুণ ও মর্মান্তিক বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনায় সলিল সমাধি ঘটেছে দুই কৃষকের। শুক্রবার দুপুরে ভাট্টা গ্রামে সংঘটিত এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় সমগ্র জনপদে নেমে এসেছে শোকের কালিমালিপ্ত ছায়া। পরোপকার করতে গিয়েই অকাল মৃত্যুর নীল বিষাদ গ্রাস করেছে আরশব আলী (৬০) নামক এক বৃদ্ধকে, যার সঙ্গী হয়েছেন তাজউদ্দিন (৪০) নামক এক কর্মঠ কৃষক।স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, শুক্রবার আনুমানিক দুপুর ২:১৫ ঘটিকার সময় ভাট্টা গ্রামের মৃত হাজী জুনাব আলীর সমাধিস্থলের পার্শ্ববর্তী জমিতে খড় গোছানোর কাজে ব্যস্ত ছিলেন মৃত শুক্কুর আলীর তনয় তাজউদ্দিন। দুর্ভাগ্যবশত, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) একটি সজীব বৈদ্যুতিক তার ভূমি সংলগ্ন অবস্থায় সেখানে পড়ে ছিল। অসতর্কতাবশত ওই মরণফাঁদে স্পৃষ্ট হয়ে তৎক্ষণাৎ নিথর হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি।ঠিক সেই মুহূর্তে দৃশ্যটি অবলোকন করেন মৃত মিয়া হোসেনের পুত্র আরশব আলী। প্রখর রৌদ্রতপ্ত দুপুরে তাজউদ্দিনকে নিথর পড়ে থাকতে দেখে তিনি ধারণা করেছিলেন, হয়তো অসহনীয় দাবদাহে সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েছেন তার প্রতিবেশী। ভ্রাতৃত্বের অমোঘ টানে এবং মানবতাবোধের তাড়নায় তাকে উদ্ধার করতে ক্ষিপ্রগতিতে এগিয়ে যান আরশব আলী। কিন্তু তিনি অনুধাবন করতে পারেননি যে, তাজউদ্দিনের দেহ তখন বিদ্যুতায়িত হয়ে এক মৃত্যুচক্র সৃষ্টি করে রেখেছে। স্পর্শ করা মাত্রই আরশব আলীও তীব্র তড়িতাঘাতে আক্রান্ত হন।পরবর্তীতে স্থানীয় বাসিন্দা এমদাদ হোসেনসহ প্রতিবেশীরা অসীম সাহসিকতায় তাদের উদ্ধার করে দ্রুত ফুলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে নিয়তির লিখন ছিল অপরিবর্তনীয়। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক নিবিড় পর্যবেক্ষণের পর উভয়কেই ‘মৃত’ বলে ঘোষণা করেন। মানুষকে বাঁচাতে গিয়ে নিজেই মৃত্যুর আলিঙ্গনে আবদ্ধ হওয়া আরশব আলীর এই আত্মত্যাগ গ্রামবাসীর হৃদয়ে এক গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে।
এই আকস্মিক ও বিয়োগান্তক ঘটনায় রূপসী ইউনিয়নের আকাশ-বাতাস এখন শোকার্তদের আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠেছে। বিদ্যুৎ বিভাগের অবহেলা নাকি নিছক দুর্ঘটনা—এই প্রশ্নে জনমনে ক্ষোভের দানা বাঁধলেও, দুই পরিবারের অপূরণীয় ক্ষতি গ্রামটিকে এক নিস্তব্ধ শ্মশানে পরিণত করেছে। এলাকায় বর্তমানে বিরাজ করছে এক শোকাতুর গুমোট পরিবেশ।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

ফুলপুরে শ্মশান-স্তব্ধতা: ছিঁড়ে পড়া বিদ্যুতের তারে প্রাণ গেল দুই কৃষকের

Update Time : ১১:৩০:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬

ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার রূপসী ইউনিয়নে এক নিদারুণ ও মর্মান্তিক বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনায় সলিল সমাধি ঘটেছে দুই কৃষকের। শুক্রবার দুপুরে ভাট্টা গ্রামে সংঘটিত এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় সমগ্র জনপদে নেমে এসেছে শোকের কালিমালিপ্ত ছায়া। পরোপকার করতে গিয়েই অকাল মৃত্যুর নীল বিষাদ গ্রাস করেছে আরশব আলী (৬০) নামক এক বৃদ্ধকে, যার সঙ্গী হয়েছেন তাজউদ্দিন (৪০) নামক এক কর্মঠ কৃষক।স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, শুক্রবার আনুমানিক দুপুর ২:১৫ ঘটিকার সময় ভাট্টা গ্রামের মৃত হাজী জুনাব আলীর সমাধিস্থলের পার্শ্ববর্তী জমিতে খড় গোছানোর কাজে ব্যস্ত ছিলেন মৃত শুক্কুর আলীর তনয় তাজউদ্দিন। দুর্ভাগ্যবশত, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) একটি সজীব বৈদ্যুতিক তার ভূমি সংলগ্ন অবস্থায় সেখানে পড়ে ছিল। অসতর্কতাবশত ওই মরণফাঁদে স্পৃষ্ট হয়ে তৎক্ষণাৎ নিথর হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি।ঠিক সেই মুহূর্তে দৃশ্যটি অবলোকন করেন মৃত মিয়া হোসেনের পুত্র আরশব আলী। প্রখর রৌদ্রতপ্ত দুপুরে তাজউদ্দিনকে নিথর পড়ে থাকতে দেখে তিনি ধারণা করেছিলেন, হয়তো অসহনীয় দাবদাহে সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েছেন তার প্রতিবেশী। ভ্রাতৃত্বের অমোঘ টানে এবং মানবতাবোধের তাড়নায় তাকে উদ্ধার করতে ক্ষিপ্রগতিতে এগিয়ে যান আরশব আলী। কিন্তু তিনি অনুধাবন করতে পারেননি যে, তাজউদ্দিনের দেহ তখন বিদ্যুতায়িত হয়ে এক মৃত্যুচক্র সৃষ্টি করে রেখেছে। স্পর্শ করা মাত্রই আরশব আলীও তীব্র তড়িতাঘাতে আক্রান্ত হন।পরবর্তীতে স্থানীয় বাসিন্দা এমদাদ হোসেনসহ প্রতিবেশীরা অসীম সাহসিকতায় তাদের উদ্ধার করে দ্রুত ফুলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে নিয়তির লিখন ছিল অপরিবর্তনীয়। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক নিবিড় পর্যবেক্ষণের পর উভয়কেই ‘মৃত’ বলে ঘোষণা করেন। মানুষকে বাঁচাতে গিয়ে নিজেই মৃত্যুর আলিঙ্গনে আবদ্ধ হওয়া আরশব আলীর এই আত্মত্যাগ গ্রামবাসীর হৃদয়ে এক গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে।
এই আকস্মিক ও বিয়োগান্তক ঘটনায় রূপসী ইউনিয়নের আকাশ-বাতাস এখন শোকার্তদের আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠেছে। বিদ্যুৎ বিভাগের অবহেলা নাকি নিছক দুর্ঘটনা—এই প্রশ্নে জনমনে ক্ষোভের দানা বাঁধলেও, দুই পরিবারের অপূরণীয় ক্ষতি গ্রামটিকে এক নিস্তব্ধ শ্মশানে পরিণত করেছে। এলাকায় বর্তমানে বিরাজ করছে এক শোকাতুর গুমোট পরিবেশ।