০৪:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংগরায় গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু: হাসপাতালে লাশ রেখে পালালেন স্বামী, যৌতুক ও হত্যার অভিযোগ

মোঃ আবুল কালাম মুরাদনগর উপজেলা প্রতিনিধি
  • Update Time : ১২:১২:৫০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১৩ Time View

​মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:
কুমিল্লার বাংগরা বাজার থানাধীন রামচন্দ্রপুর উত্তর বাখরাবাদ গ্রামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। নিহতের নাম লক্ষ্মী রানী। ঘটনার পর মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তাঁর লাশ ফেলে রেখে স্বামী বিশ্বজিৎ সরকার পালিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
​ঘটনার বিবরণ সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৫ বছর আগে রামচন্দ্রপুর উত্তর ইউনিয়নের দক্ষিণ বাখরাবাদ গ্রামের অবনি মোহন সরকারের ছেলে বিশ্বজিৎ সরকারের সাথে মুরাদনগর উপজেলার উত্তর ত্রিশ (মালিশাইর) গ্রামের ননী চন্দ্র দাসের মেয়ে লক্ষ্মী রানীর পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। তাঁদের কোনো সন্তান ছিল না। স্থানীয় প্রতিবেশীদের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই বিশ্বজিৎ বিভিন্ন কারণে স্ত্রীর ওপর প্রায়ই শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতেন।
​নিহত লক্ষ্মী রানীর বড় ভাই লক্ষ্মণ চন্দ্র দাস অভিযোগ করে বলেন, “বিয়ের পর থেকেই বিশ্বজিৎ যৌতুকের দাবিতে আমার বোনের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালাত। বোনের সুখের কথা ভেবে আমাদের অজান্তে মা বিভিন্ন সময়ে তাকে টাকাও দিয়েছিলেন। তবুও তার লোভ ও নির্যাতন থামেনি। গত রবিবার (১১ অক্টোবর) দুপুরে আমার বোনকে পিটিয়ে হত্যা করে ঘরের তীরের সঙ্গে কাপড় বেঁধে ঝুলিয়ে আত্মহত্যার নাটক সাজানো হয়।”
​তিনি আরও জানান, ওই দিন বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে বিশ্বজিৎ নিজেই লক্ষ্মী রানীর মরদেহ মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। এরপর পরিস্থিতি বেগতিক দেখে লাশ হাসপাতালে রেখেই কৌশলে পালিয়ে যান। এমনকি স্ত্রীর শেষকৃত্যানুষ্ঠানেও উপস্থিত হননি তিনি।
​এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

বাংগরায় গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু: হাসপাতালে লাশ রেখে পালালেন স্বামী, যৌতুক ও হত্যার অভিযোগ

Update Time : ১২:১২:৫০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

​মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:
কুমিল্লার বাংগরা বাজার থানাধীন রামচন্দ্রপুর উত্তর বাখরাবাদ গ্রামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। নিহতের নাম লক্ষ্মী রানী। ঘটনার পর মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তাঁর লাশ ফেলে রেখে স্বামী বিশ্বজিৎ সরকার পালিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
​ঘটনার বিবরণ সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৫ বছর আগে রামচন্দ্রপুর উত্তর ইউনিয়নের দক্ষিণ বাখরাবাদ গ্রামের অবনি মোহন সরকারের ছেলে বিশ্বজিৎ সরকারের সাথে মুরাদনগর উপজেলার উত্তর ত্রিশ (মালিশাইর) গ্রামের ননী চন্দ্র দাসের মেয়ে লক্ষ্মী রানীর পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। তাঁদের কোনো সন্তান ছিল না। স্থানীয় প্রতিবেশীদের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই বিশ্বজিৎ বিভিন্ন কারণে স্ত্রীর ওপর প্রায়ই শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতেন।
​নিহত লক্ষ্মী রানীর বড় ভাই লক্ষ্মণ চন্দ্র দাস অভিযোগ করে বলেন, “বিয়ের পর থেকেই বিশ্বজিৎ যৌতুকের দাবিতে আমার বোনের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালাত। বোনের সুখের কথা ভেবে আমাদের অজান্তে মা বিভিন্ন সময়ে তাকে টাকাও দিয়েছিলেন। তবুও তার লোভ ও নির্যাতন থামেনি। গত রবিবার (১১ অক্টোবর) দুপুরে আমার বোনকে পিটিয়ে হত্যা করে ঘরের তীরের সঙ্গে কাপড় বেঁধে ঝুলিয়ে আত্মহত্যার নাটক সাজানো হয়।”
​তিনি আরও জানান, ওই দিন বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে বিশ্বজিৎ নিজেই লক্ষ্মী রানীর মরদেহ মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। এরপর পরিস্থিতি বেগতিক দেখে লাশ হাসপাতালে রেখেই কৌশলে পালিয়ে যান। এমনকি স্ত্রীর শেষকৃত্যানুষ্ঠানেও উপস্থিত হননি তিনি।
​এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।