০১:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় উচ্চস্বরে গান বাজানো নিয়ে পুলিশ-মাদরাসা ছাত্র সংঘর্ষ, আহত ৩০

রিপোর্টার মোঃ বাদশা মিয়া
  • Update Time : ১০:২৭:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬
  • / ৬৪ Time View

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ লাইন্সে উচ্চস্বরে গানবাজনাকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও মাদ্রাসাছাত্রদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পুলিশ সদস্য ও মাদ্রাসাছাত্রসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় জেলা পুলিশের আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও পণ্ড হয়ে যায়।
বুধবার (১৯ আগস্ট ২০২৬ইং)
১৮ আগস্ট ২০২৬ইং রোজ মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে শহরের পশ্চিম মেড্ডায় পুলিশ লাইন্সের ভেতরে এ ঘটনা ঘটে। আহত ব্যক্তিদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ, মাদ্রাসাছাত্র ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরীর আগমন উপলক্ষে মঙ্গলবার রাতে পুলিশ লাইন্সে জেলা পুলিশের উদ্যোগে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ডিআইজি অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করার পরও সেখানে গানবাজনা চলছিল।
এ সময় উচ্চস্বরে গানবাজনার কারণে পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছে এমন অভিযোগ তুলে দারুল আরকাম ইসলামিয়া মাদ্রাসার কয়েকজন শিক্ষার্থী পুলিশ লাইন্সে গিয়ে শব্দ কমানোর অনুরোধ করেন। এ নিয়ে তাঁদের সঙ্গে পুলিশের কথা-কাটাকাটি হয়। পরে শতাধিক মাদ্রাসাছাত্র পুলিশ লাইন্সের ভেতরে প্রবেশ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
একপর্যায়ে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে মাদ্রাসাছাত্ররা পাল্টা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়। একপর্যায়ে পুলিশ লাইন্স এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ ও মাদ্রাসার দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
মাদ্রাসার কয়েকজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, বুধবার তাঁদের পরীক্ষা রয়েছে। গভীর রাত পর্যন্ত উচ্চস্বরে গানবাজনা চলায় পড়াশোনা ও পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সমস্যা হচ্ছিল। এ কারণে কয়েকজন শিক্ষার্থী প্রথমে গিয়ে শব্দ কমানোর অনুরোধ করেন। কিছু সময় শব্দ কম থাকলেও পরে আবার গানবাজনা শুরু হয়। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে পুলিশ তাঁদের ওপর লাঠিচার্জ করে বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।
শিক্ষার্থীরা ঘটনার তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। দাবি পূরণ না হলে আন্দোলনেরও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।
এদিকে সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে দারুল আরকাম ইসলামিয়া মাদ্রাসার মুহতামিম মাও সাজিদুর রহমান, পুলিশ সুপার শাহ মোহাম্মদ আব্দুর রউফ ও জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম বৈঠকে বসেন। বৈঠকে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ও দাবিগুলো শোনা হয়। পুলিশ সুপার তাঁদের দাবির বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
ঘটনার পর পুলিশ লাইন্স ও আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় উচ্চস্বরে গান বাজানো নিয়ে পুলিশ-মাদরাসা ছাত্র সংঘর্ষ, আহত ৩০

Update Time : ১০:২৭:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ লাইন্সে উচ্চস্বরে গানবাজনাকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও মাদ্রাসাছাত্রদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পুলিশ সদস্য ও মাদ্রাসাছাত্রসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় জেলা পুলিশের আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও পণ্ড হয়ে যায়।
বুধবার (১৯ আগস্ট ২০২৬ইং)
১৮ আগস্ট ২০২৬ইং রোজ মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে শহরের পশ্চিম মেড্ডায় পুলিশ লাইন্সের ভেতরে এ ঘটনা ঘটে। আহত ব্যক্তিদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ, মাদ্রাসাছাত্র ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরীর আগমন উপলক্ষে মঙ্গলবার রাতে পুলিশ লাইন্সে জেলা পুলিশের উদ্যোগে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ডিআইজি অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করার পরও সেখানে গানবাজনা চলছিল।
এ সময় উচ্চস্বরে গানবাজনার কারণে পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছে এমন অভিযোগ তুলে দারুল আরকাম ইসলামিয়া মাদ্রাসার কয়েকজন শিক্ষার্থী পুলিশ লাইন্সে গিয়ে শব্দ কমানোর অনুরোধ করেন। এ নিয়ে তাঁদের সঙ্গে পুলিশের কথা-কাটাকাটি হয়। পরে শতাধিক মাদ্রাসাছাত্র পুলিশ লাইন্সের ভেতরে প্রবেশ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
একপর্যায়ে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে মাদ্রাসাছাত্ররা পাল্টা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়। একপর্যায়ে পুলিশ লাইন্স এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ ও মাদ্রাসার দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
মাদ্রাসার কয়েকজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, বুধবার তাঁদের পরীক্ষা রয়েছে। গভীর রাত পর্যন্ত উচ্চস্বরে গানবাজনা চলায় পড়াশোনা ও পরীক্ষার প্রস্তুতিতে সমস্যা হচ্ছিল। এ কারণে কয়েকজন শিক্ষার্থী প্রথমে গিয়ে শব্দ কমানোর অনুরোধ করেন। কিছু সময় শব্দ কম থাকলেও পরে আবার গানবাজনা শুরু হয়। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে পুলিশ তাঁদের ওপর লাঠিচার্জ করে বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।
শিক্ষার্থীরা ঘটনার তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। দাবি পূরণ না হলে আন্দোলনেরও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।
এদিকে সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে দারুল আরকাম ইসলামিয়া মাদ্রাসার মুহতামিম মাও সাজিদুর রহমান, পুলিশ সুপার শাহ মোহাম্মদ আব্দুর রউফ ও জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম বৈঠকে বসেন। বৈঠকে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ও দাবিগুলো শোনা হয়। পুলিশ সুপার তাঁদের দাবির বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
ঘটনার পর পুলিশ লাইন্স ও আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।