১১:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কেশবপুরে জাতীয় মৎস্য পক্ষ শেষ হলো শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কনে

রিপোর্টার শাহিনুর ইসলাম
  • Update Time : ১০:০০:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬
  • / ১১ Time View

রুপালী মৎস্যে স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জাতীয় মৎস্য পক্ষ ২০২৬-এর সমাপনী দিনে যশোরের কেশবপুরে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের আয়োজনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) কাজী মোঃ মেশকাতুল ইসলাম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সুদীপ বিশ্বাস।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রেসক্লাব কেশবপুরের সভাপতি ওয়াজেদ খান ডবলু, কেশবপুর নিউজ ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ হারুনার রশীদ বুলবুল এবং উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আনজু মনোয়ারা বেগম।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি, পুষ্টি ও কর্মসংস্থানে মৎস্য খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় শিশু-কিশোরদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা প্রয়োজন। এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের মধ্যে মৎস্যসম্পদ ও পরিবেশ সংরক্ষণ সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা তৈরি হবে।
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) কাজী মোঃ মেশকাতুল ইসলাম বলেন, মৎস্যসম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতনতা ও সহযোগিতা প্রয়োজন। নদী-খাল, জলাশয় ও প্রাকৃতিক জলাধারের পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি দেশীয় মাছের প্রজনন ও বিচরণক্ষেত্র সংরক্ষণে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। নতুন প্রজন্মকে মৎস্যসম্পদ ও পরিবেশ সংরক্ষণে সম্পৃক্ত করার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
প্রেসক্লাব কেশবপুরের সভাপতি ওয়াজেদ খান ডবলু বলেন, মৎস্যসম্পদ দেশের অর্থনীতি ও মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। মৎস্যসম্পদ রক্ষায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি গণমাধ্যম, শিক্ষক, অভিভাবক ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে।
কেশবপুর নিউজ ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ হারুনার রশীদ বুলবুল বলেন, জাতীয় মৎস্য পক্ষের মতো কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ, অবৈধভাবে মাছ শিকার বন্ধ এবং জলাশয়ের পরিবেশ রক্ষায় জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণ ভবিষ্যতে মৎস্য ও পরিবেশ সংরক্ষণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সুদীপ বিশ্বাস বলেন, মৎস্যসম্পদ দেশের খাদ্য ও পুষ্টির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি অর্থনীতি ও মানুষের জীবিকার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় জনসচেতনতা বাড়াতে জাতীয় মৎস্য পক্ষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
আলোচনা শেষে জাতীয় মৎস্য পক্ষ ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন গ্রুপে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
ক গ্রুপে প্রথম স্থান অর্জন করে আহনাফ ইসলাম অয়ন, দ্বিতীয় শ্রেয়াস কুন্ডু এবং তৃতীয় সাইবা ইসলাম আস্থা।
খ গ্রুপে প্রথম হয় অভ্রতনু দাশ, দ্বিতীয় রুদ্রনীল দাশ এবং তৃতীয় জান্নাতুল ফিরদাউস।
গ গ্রুপে প্রথম হয় রাজদীপ দও, দ্বিতীয় তাহমীদ মুক্তাকী আহনাফ এবং তৃতীয় রাফসানা আফরিন।
পরে অতিথিরা বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। শিশু-কিশোরদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতাটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। এর মধ্য দিয়ে কেশবপুরে জাতীয় মৎস্য পক্ষ ২০২৬-এর বিভিন্ন কর্মসূচির সমাপনী পর্ব সম্পন্ন হয়।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

কেশবপুরে জাতীয় মৎস্য পক্ষ শেষ হলো শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কনে

Update Time : ১০:০০:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬

রুপালী মৎস্যে স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জাতীয় মৎস্য পক্ষ ২০২৬-এর সমাপনী দিনে যশোরের কেশবপুরে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের আয়োজনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) কাজী মোঃ মেশকাতুল ইসলাম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সুদীপ বিশ্বাস।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রেসক্লাব কেশবপুরের সভাপতি ওয়াজেদ খান ডবলু, কেশবপুর নিউজ ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ হারুনার রশীদ বুলবুল এবং উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আনজু মনোয়ারা বেগম।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি, পুষ্টি ও কর্মসংস্থানে মৎস্য খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় শিশু-কিশোরদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা প্রয়োজন। এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের মধ্যে মৎস্যসম্পদ ও পরিবেশ সংরক্ষণ সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা তৈরি হবে।
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) কাজী মোঃ মেশকাতুল ইসলাম বলেন, মৎস্যসম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতনতা ও সহযোগিতা প্রয়োজন। নদী-খাল, জলাশয় ও প্রাকৃতিক জলাধারের পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি দেশীয় মাছের প্রজনন ও বিচরণক্ষেত্র সংরক্ষণে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। নতুন প্রজন্মকে মৎস্যসম্পদ ও পরিবেশ সংরক্ষণে সম্পৃক্ত করার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
প্রেসক্লাব কেশবপুরের সভাপতি ওয়াজেদ খান ডবলু বলেন, মৎস্যসম্পদ দেশের অর্থনীতি ও মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। মৎস্যসম্পদ রক্ষায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি গণমাধ্যম, শিক্ষক, অভিভাবক ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে।
কেশবপুর নিউজ ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ হারুনার রশীদ বুলবুল বলেন, জাতীয় মৎস্য পক্ষের মতো কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ, অবৈধভাবে মাছ শিকার বন্ধ এবং জলাশয়ের পরিবেশ রক্ষায় জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণ ভবিষ্যতে মৎস্য ও পরিবেশ সংরক্ষণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সুদীপ বিশ্বাস বলেন, মৎস্যসম্পদ দেশের খাদ্য ও পুষ্টির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি অর্থনীতি ও মানুষের জীবিকার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় জনসচেতনতা বাড়াতে জাতীয় মৎস্য পক্ষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
আলোচনা শেষে জাতীয় মৎস্য পক্ষ ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন গ্রুপে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
ক গ্রুপে প্রথম স্থান অর্জন করে আহনাফ ইসলাম অয়ন, দ্বিতীয় শ্রেয়াস কুন্ডু এবং তৃতীয় সাইবা ইসলাম আস্থা।
খ গ্রুপে প্রথম হয় অভ্রতনু দাশ, দ্বিতীয় রুদ্রনীল দাশ এবং তৃতীয় জান্নাতুল ফিরদাউস।
গ গ্রুপে প্রথম হয় রাজদীপ দও, দ্বিতীয় তাহমীদ মুক্তাকী আহনাফ এবং তৃতীয় রাফসানা আফরিন।
পরে অতিথিরা বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। শিশু-কিশোরদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতাটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। এর মধ্য দিয়ে কেশবপুরে জাতীয় মৎস্য পক্ষ ২০২৬-এর বিভিন্ন কর্মসূচির সমাপনী পর্ব সম্পন্ন হয়।