সীমান্ত পেরিয়ে নারীদের হাতে ইয়াবার চালান: বিজয়নগরে ৩৮০০ পিসসহ দুই নারী কারবারি গ্রেফতার
- Update Time : ১০:১২:৪৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬
- / ২৯ Time View

ব্রাহ্মণবাড়িয়া
সীমান্তবর্তী এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে মাদক পাচারে কৌশল বদলে নারীদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় পাচারকারী চক্রগুলো। ঠিক এমনই এক চক্রের দুই নারী সদস্যকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ হাতেনাতে গ্রেফতার করেছে এলিট ফোর্স র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-৯)।
রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর থানাধীন পত্তন ইউনিয়নের তানমনিপুর এলাকার ‘বিজয়নগর-ব্রাহ্মণবাড়িয়া’ সড়কের শিবিরের ব্রিজের ওপর অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন— বিজয়নগর উপজেলার গ্যারাগাঁও এলাকার মোঃ আজিজ মিয়ার স্ত্রী আকলিমা বেগম (৩৫) এবং একই এলাকার মোঃ আবদুল সাত্তারের স্ত্রী মোছাঃ ইতি বেগম (৩০)।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে অভিনব কৌশল
অভিযানের বিষয়ে র্যাব-৯, সিপিসি-১ (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) এর একটি আভিযানিক দল জানায়, গোপন সূত্রের খবর ছিল শিবিরের ব্রিজের ওপর কতিপয় মাদক ব্যবসায়ী বড় ধরনের একটি চালান কেনাবেচার উদ্দেশ্যে অবস্থান করছে। খবর পাওয়ার পরপরই আনুমানিক বেলা ১২টা ১০ মিনিটের দিকে র্যাবের টহল দলটি ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে উপস্থিত দুজন দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে ধাওয়া দিয়ে তাদের আটক করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক নারীরা এলোমেলো তথ্য দিলেও একপর্যায়ে তাদের সঙ্গে মাদক থাকার কথা স্বীকার করেন। পরবর্তীতে উপস্থিত সাক্ষীদের উপস্থিতিতে দেহ ও তল্লাশি চালিয়ে তাদের কাছে থাকা ১০টি বিশেষ বায়ুরোধক (এয়ারটাইট) পলি জিপার প্যাকেট থেকে মোট ৩,৮০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
সীমান্তের ওপার থেকে আসছিল চালান
অনুসন্ধানে ও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে পরস্পর যোগসাজশে সীমান্তবর্তী দুর্গম এলাকা থেকে কম দামে ইয়াবার চালান সংগ্রহ করে আসছিলেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সন্দেহ এড়াতে তারা নিজেদের সাধারণ পথচারী বা যাত্রী হিসেবে আড়াল করে এসব মরণঘাতী মাদক ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও আশপাশের জেলার বিভিন্ন খুচরা বিক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দিতেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে র্যাব-৯ এর কর্মকর্তা কে. এম. শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান, “মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে আমরা বদ্ধপরিকর। অপরাধীরা যতই নতুন কৌশল অবলম্বন করুক না কেন, র্যাবের গোয়েন্দা নজরদারি এড়ানো সম্ভব নয়।”
তিনি আরও জানান, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮’ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করে জব্দকৃত আলামতসহ বিজয়নগর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় মাদকের এই নেটওয়ার্ক উপড়ে ফেলতে র্যাবের অভিযান অব্যাহত থাকবে।















