০৪:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আগাম শিম চাষে কোটচাঁদপুরের কৃষকের মুখে হাসি, ভালো ফলনে আশাবাদী বাম্পার লাভের

শাহিনুর ইসলামঃ বিশেষ প্রতিনিধি:
  • Update Time : ০৫:১৩:৩৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬
  • / ২৪ Time View

শীতের আগমনী বার্তা যেন জানান দিচ্ছে ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরের বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে ফুটে থাকা আগাম শিমের সাদা ফুল। সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে দুলছে কচি শিম। কোথাও শিমগাছে ফুলের সমারোহ, কোথাও আবার বাজারজাতের অপেক্ষায় বেড়ে উঠছে শিম। ফুলে ফুলে মৌমাছির গুঞ্জন আর কৃষকের ব্যস্ততায় প্রাণ ফিরে পেয়েছে উপজেলার বিভিন্ন মাঠ। আগাম শিমের ভালো দাম ও বাড়তি লাভের আশায় এবারও আগেভাগেই শিম চাষে নেমেছেন কোটচাঁদপুরের কৃষকেরা। উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা, সাবদারপুর, লক্ষ্মী কুন্ডু, কন্যনগর, মানিকদিহি, মান্দারবাড়িয়াসহ বিভিন্ন এলাকার মাঠে এখন শিমের সবুজ সমারোহ। উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন এর মধ্যে সাফদারপুর ইউনিয়নে শিমের আবাদ হয়েছে সবচেয়ে বেশি। উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে কোটচাঁদপুর উপজেলায় প্রায় ২৪৪ হেক্টর বা ১ হাজার ৮৩০ বিঘা জমিতে শিমের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ইপসা-১ জাতের শিম বেশি চাষ করেছেন কৃষকেরা। আগাম উৎপাদন ও বাজারে ভালো দামের প্রত্যাশায় অনেক কৃষক প্রচলিত সময়ের আগেই জমিতে শিমের বীজ বপন করেছেন। বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের কৃষক আব্দুর রহমান ১৫ কাঠা জমিতে আগাম শিম চাষ করেছেন। তাঁর জমিতে ইতোমধ্যে শিমগাছে ফুল ও কচি শিম আসতে শুরু করেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং বাজারে ভালো দাম পাওয়া গেলে ওই জমি থেকে প্রায় এক লাখ টাকার শিম বিক্রির আশা করছেন তিনি। আব্দুর রহমান বলেন, আগাম শিম চাষে খরচ কিছুটা বেশি হলেও বাজারে ভালো দাম পাওয়া গেলে লাভও ভালো হয়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার ভালো ফলনের আশা করছি। একই গ্রামের কৃষক আব্দুল কাদেরের শিমখেতেও দেখা গেছে দৃষ্টিনন্দন দৃশ্য। শিমগাছের ডালে ডালে ফুটেছে অসংখ্য সাদা ফুল। ফুলের মধু সংগ্রহে ব্যস্ত মৌমাছির গুঞ্জনে মুখর পুরো ক্ষেত। সবুজের মধ্যে সাদা ফুলের এমন সমারোহ পথচারীদেরও দৃষ্টি কাড়ছে। কৃষকেরা জানান, মৌসুমের শুরুতে বাজারে শিমের সরবরাহ তুলনামূলক কম থাকায় দামও ভালো পাওয়া যায়। ফলে আগাম শিম বাজারে তুলতে পারলে সাধারণ সময়ের তুলনায় বেশি লাভের সুযোগ তৈরি হয়। এ কারণেই প্রতি বছরই আগাম শিম চাষে কৃষকের আগ্রহ বাড়ছে। তবে কৃষকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায় আবহাওয়া, রোগবালাই ও বাজারদর। অনুকূল আবহাওয়া এবং ভালো বাজারদর মিললে আগাম শিম তাদের জন্য বাড়তি আয়ের বড় উৎস হয়ে উঠতে পারে। কোটচাঁদপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদ হোসেন বলেন, এ এলাকার মাটি ও আবহাওয়া শিম চাষের জন্য বেশ উপযোগী। কোটচাঁদপুরে দীর্ঘদিন ধরেই শিম একটি লাভজনক ফসল হিসেবে চাষ হয়ে আসছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং বাজারদর ভালো থাকলে এবারও কৃষকেরা শিম চাষ করে লাভবান হবেন। তিনি আরও বলেন, শিমচাষিদের উপজেলা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কৃষি সেবা দেওয়া হচ্ছে। রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষাসহ আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, আগাম শিম বাজারে তুলতে পারলে কৃষকেরা মৌসুমের শুরুতেই ভালো দাম পাওয়ার সুযোগ পান। উৎপাদন ও বাজার পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে এ আবাদ কৃষকের আয় বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় কৃষি অর্থনীতিতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
সবুজ পাতার ফাঁকে ফুটে থাকা সাদা শিমের ফুল এখন তাই শুধু মাঠের সৌন্দর্যই বাড়াচ্ছে না—কৃষকের চোখে দেখাচ্ছে বাড়তি আয়ের স্বপ্নও।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

আগাম শিম চাষে কোটচাঁদপুরের কৃষকের মুখে হাসি, ভালো ফলনে আশাবাদী বাম্পার লাভের

Update Time : ০৫:১৩:৩৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

শীতের আগমনী বার্তা যেন জানান দিচ্ছে ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরের বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে ফুটে থাকা আগাম শিমের সাদা ফুল। সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে দুলছে কচি শিম। কোথাও শিমগাছে ফুলের সমারোহ, কোথাও আবার বাজারজাতের অপেক্ষায় বেড়ে উঠছে শিম। ফুলে ফুলে মৌমাছির গুঞ্জন আর কৃষকের ব্যস্ততায় প্রাণ ফিরে পেয়েছে উপজেলার বিভিন্ন মাঠ। আগাম শিমের ভালো দাম ও বাড়তি লাভের আশায় এবারও আগেভাগেই শিম চাষে নেমেছেন কোটচাঁদপুরের কৃষকেরা। উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা, সাবদারপুর, লক্ষ্মী কুন্ডু, কন্যনগর, মানিকদিহি, মান্দারবাড়িয়াসহ বিভিন্ন এলাকার মাঠে এখন শিমের সবুজ সমারোহ। উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন এর মধ্যে সাফদারপুর ইউনিয়নে শিমের আবাদ হয়েছে সবচেয়ে বেশি। উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে কোটচাঁদপুর উপজেলায় প্রায় ২৪৪ হেক্টর বা ১ হাজার ৮৩০ বিঘা জমিতে শিমের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ইপসা-১ জাতের শিম বেশি চাষ করেছেন কৃষকেরা। আগাম উৎপাদন ও বাজারে ভালো দামের প্রত্যাশায় অনেক কৃষক প্রচলিত সময়ের আগেই জমিতে শিমের বীজ বপন করেছেন। বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের কৃষক আব্দুর রহমান ১৫ কাঠা জমিতে আগাম শিম চাষ করেছেন। তাঁর জমিতে ইতোমধ্যে শিমগাছে ফুল ও কচি শিম আসতে শুরু করেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং বাজারে ভালো দাম পাওয়া গেলে ওই জমি থেকে প্রায় এক লাখ টাকার শিম বিক্রির আশা করছেন তিনি। আব্দুর রহমান বলেন, আগাম শিম চাষে খরচ কিছুটা বেশি হলেও বাজারে ভালো দাম পাওয়া গেলে লাভও ভালো হয়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার ভালো ফলনের আশা করছি। একই গ্রামের কৃষক আব্দুল কাদেরের শিমখেতেও দেখা গেছে দৃষ্টিনন্দন দৃশ্য। শিমগাছের ডালে ডালে ফুটেছে অসংখ্য সাদা ফুল। ফুলের মধু সংগ্রহে ব্যস্ত মৌমাছির গুঞ্জনে মুখর পুরো ক্ষেত। সবুজের মধ্যে সাদা ফুলের এমন সমারোহ পথচারীদেরও দৃষ্টি কাড়ছে। কৃষকেরা জানান, মৌসুমের শুরুতে বাজারে শিমের সরবরাহ তুলনামূলক কম থাকায় দামও ভালো পাওয়া যায়। ফলে আগাম শিম বাজারে তুলতে পারলে সাধারণ সময়ের তুলনায় বেশি লাভের সুযোগ তৈরি হয়। এ কারণেই প্রতি বছরই আগাম শিম চাষে কৃষকের আগ্রহ বাড়ছে। তবে কৃষকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায় আবহাওয়া, রোগবালাই ও বাজারদর। অনুকূল আবহাওয়া এবং ভালো বাজারদর মিললে আগাম শিম তাদের জন্য বাড়তি আয়ের বড় উৎস হয়ে উঠতে পারে। কোটচাঁদপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদ হোসেন বলেন, এ এলাকার মাটি ও আবহাওয়া শিম চাষের জন্য বেশ উপযোগী। কোটচাঁদপুরে দীর্ঘদিন ধরেই শিম একটি লাভজনক ফসল হিসেবে চাষ হয়ে আসছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং বাজারদর ভালো থাকলে এবারও কৃষকেরা শিম চাষ করে লাভবান হবেন। তিনি আরও বলেন, শিমচাষিদের উপজেলা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কৃষি সেবা দেওয়া হচ্ছে। রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষাসহ আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, আগাম শিম বাজারে তুলতে পারলে কৃষকেরা মৌসুমের শুরুতেই ভালো দাম পাওয়ার সুযোগ পান। উৎপাদন ও বাজার পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে এ আবাদ কৃষকের আয় বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় কৃষি অর্থনীতিতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
সবুজ পাতার ফাঁকে ফুটে থাকা সাদা শিমের ফুল এখন তাই শুধু মাঠের সৌন্দর্যই বাড়াচ্ছে না—কৃষকের চোখে দেখাচ্ছে বাড়তি আয়ের স্বপ্নও।