নারায়ণগঞ্জে এইচএসসি পাসের হার ৪৫.৭৮%, অকৃতকার্য ১২ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী
- প্রকাশের সময় : ০৪:০০:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
- / 17

সোনারগাঁয়ে পাসের হার সর্বনিম্ন ৩০.৩৪% | জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৮৫ জন | এক কলেজে ৮০ জনের মধ্যে পাস মাত্র ৯
নিজস্ব প্রতিবেদক, নারায়ণগঞ্জ
২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় নারায়ণগঞ্জ জেলায় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৪৫ দশমিক ৭৮ শতাংশ। এ বছর জেলায় মোট ২২ হাজার ২৩৮ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে ১০ হাজার ১৮২ জন। ফলে জেলায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ৫৬ জনে।
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে পাওয়া ফলাফলের বিবরণী অনুযায়ী, এ বছর জেলায় মোট ১৮৫ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। গত বছর (২০২৫ সালে) এ সংখ্যা ছিল ৩২১ জন। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ১৩৬ জন। একই সঙ্গে গত বছরের তুলনায় পাসের হারও কমেছে ৭ দশমিক ২২ শতাংশ পয়েন্ট।
উপজেলাভিত্তিক ফলাফল চিত্র
জেলার পাঁচটি উপজেলার ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, পাসের হারে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা এবং সবচেয়ে পিছিয়ে সোনারগাঁ।
উপজেলামোট পরীক্ষার্থীউত্তীর্ণ শিক্ষার্থীপাসের হারজিপিএ-৫
নারায়ণগঞ্জ সদর১২,৫৭২৬,৬৪৩৫২.৮৩%১৪৬
আড়াইহাজার১,৯৬৩৮৫৫৪৩.৫৫%১০
রূপগঞ্জ২,৫১৫১,০৫১৪১.৭৮%১৪
বন্দর২,৭১০৮৮১৩২.৫০%১২
সোনারগাঁ২,৪৭৮৭৫২
৮০ জনের মধ্যে পাস মাত্র ৯ জন
এবারের পরীক্ষায় নারায়ণগঞ্জ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের হতাশাজনক ফলাফল ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি থেকে ৮০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হতে পেরেছে মাত্র ৯ জন। অকৃতকার্য হয়েছে ৭১ জন শিক্ষার্থী।
প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার মাত্র ১১ দশমিক ২৫ শতাংশ, যা নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ১৮টি উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সর্বনিম্ন।
জাতীয় গড়ের তুলনায় পিছিয়ে নারায়ণগঞ্জ
২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় দেশের নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের সম্মিলিত পাসের হার ৫১ দশমিক ৬২ শতাংশ। জাতীয় এই গড়ের তুলনায় নারায়ণগঞ্জ জেলার পাসের হার ৫ দশমিক ৮৪ শতাংশ পয়েন্ট কম।
শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ
এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার পথে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই জেলাজুড়ে শিক্ষার সামগ্রিক মানোন্নয়নে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা, বিষয়ভিত্তিক জোর প্রস্তুতি এবং দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ক্লাসের ব্যবস্থা শিক্ষার মান বৃদ্ধিতে সহায়ক হতে পারে। পাশাপাশি শিক্ষক, অভিভাবক ও প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের যৌথ ও সমন্বিত প্রচেষ্টা আগামী বছরগুলোতে নারায়ণগঞ্জ জেলাকে আরও ভালো ফলাফলের দিকে এগিয়ে নেবে বলে আশা করছেন স্থানীয় শিক্ষানুরাগীরা।
















