সাংবাদিক আলিফ হত্যা মামলা: সুনামগঞ্জ থেকে প্রধান সন্দেহভাজনের ২ সহযোগী গ্রেপ্তার, মোট গ্রেপ্তার ৪
- প্রকাশের সময় : ০৯:১৩:২৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
- / 20

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে আইপি টেলিভিশন ‘রূপসী বাংলা’-এর জেলা প্রতিনিধি লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির হত্যা মামলায় জড়িত সন্দেহে আরও দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার (৩১ অক্টোবর, ২০২৬) ভোরে সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ধনপুর বাজার এলাকা থেকে নেত্রকোনা জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) তাঁদের গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হলেন—দুর্গাপুর পৌরসভার মোক্তারপাড়া এলাকার বাসিন্দা ইমরান ইসলাম ওরফে ইমন (২৪) এবং একই উপজেলার তেরিবাজার এলাকার বাসিন্দা মো. সাব্বির আহম্মেদ (২৫)।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃত ইমন ও সাব্বির এই হত্যাকাণ্ডের প্রধান সন্দেহভাজন তাজুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। প্রাথমিক তদন্ত ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পেরেছে যে, সাংবাদিক আলিফ হত্যাকাণ্ডে এই দুজনের সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে। এছাড়া, গত বছর সাংবাদিক আলিফের ওপর হওয়া অন্য একটি হামলার ঘটনায় করা মামলাতেও ইমরান ইসলাম প্রধান আসামি ছিলেন। তাঁদের বিরুদ্ধে হত্যাসহ বিভিন্ন অপরাধের একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নেত্রকোনা জেলা পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম এবং দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ জানায়, ঘটনার পর থেকেই আসামিরা পলাতক ছিলেন এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সুনামগঞ্জের সীমান্ত এলাকা থেকে ডিবির একটি বিশেষ দল তাঁদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
উল্লেখ্য, গত ১৫ অক্টোবর রাতে দুর্গাপুর উপজেলার বিরিশিরি ইউনিয়নের উতরাইল বাজার-সংলগ্ন তেলুঞ্জিয়া এলাকায় সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরকে গুলি করে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের পর থানায় মামলা দায়ের করা হলে পুলিশ তদন্তে নামে। ইমন ও সাব্বিরকে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে এই মামলায় এ পর্যন্ত মোট চারজনকে গ্রেপ্তার করা হলো। এর আগে গত ১৮ অক্টোবর সাজিবুল ইসলাম ওরফে অপূর্ব এবং ২০ অক্টোবর রাতে আশিকুর রহমান ওরফে প্রাঙ্গণ নামে আরও দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ।
হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদ্ঘাটন এবং বাকি আসামিদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ ও ডিবি যৌথভাবে তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রেখেছে বলে জেলা পুলিশ প্রশাসন নিশ্চিত করেছে।











