ঢাকা শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬,
১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মেলান্দহে এইচএসসির ফল বিপর্যয়: তিন কলেজে পাস করেনি অর্ধেকের বেশি শিক্ষার্থী, নেপথ্যের কারণ কী?

Rohul Amin
  • প্রকাশের সময় : ০৮:১৬:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
  • / 29

জামালপুর জেলার মেলান্দহ উপজেলার বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে এক চরম বিপর্যয় নেমে এসেছে। উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সরকারি ও বেসরকারি কলেজগুলোর ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, অধিকাংশ শিক্ষার্থীই পরীক্ষায় কৃতকার্য হতে পারেননি। এমনকি কোনো কোনো কলেজে পাসের হার চব্বিশ শতাংশের নিচে নেমে গেছে এবং জিপিএ-৫ শূন্যের কোঠায় পৌঁছেছে। এই ভয়াবহ ফলাফল বিপর্যয় দেখে শিক্ষক, অভিভাবক ও সচেতন মহলের মনে একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে— “পাস না করার মূল কারণ কি?”

এক নজরে মেলান্দহের তিন কলেজের ফলাফল চিত্র
নিচে কলেজওয়ারি ফলাফলের বিস্তারিত পরিসংখ্যান তুলে ধরা হলো:
১. মেলান্দহ সরকারি কলেজ: ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানেও ভরাডুবি
উপজেলার অন্যতম প্রধান বিদ্যাপীঠ মেলান্দহ সরকারি কলেজে ৩২৬ জন নিবন্ধিত পরীক্ষার্থীর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেন ৩৬০ জন। এর মধ্যে পাস করেছেন মাত্র ১০১ জন এবং লাল চোখ দেখিয়েছে ২৫৯ জন শিক্ষার্থীর খাতা। অর্থাৎ, প্রায় ৭২ শতাংশ শিক্ষার্থীই ফেল করেছেন। পুরো কলেজে জিপিএ-৫ এসেছে মাত্র ১টি, আর পাসের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ২৮.০৬ শতাংশে।
২. জাহানারা লতিফ মহিলা কলেজ: নারী শিক্ষায় আশানুরূপ ফল নেই
নারী শিক্ষার প্রসারে গড়া এই প্রতিষ্ঠানে ২৫৭ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেন ২৫০ জন। পাস করেছেন ৯২ জন শিক্ষার্থী, বিপরীতে ১৫৮ জনই ফেল করেছেন। জিপিএ-৫ এর ক্ষেত্রে ৩ জন শিক্ষার্থী সাফল্য পেলেও পাসের হার মাত্র ৩৬.৮০ শতাংশে আটকে রয়েছে।
৩. হাজরাবাড়ী সিরাজুল হক কলেজ: সবচেয়ে শোচনীয় অবস্থা, নেই কোনো জিপিএ-৫
সবচেয়ে বিপর্যয়কর চিত্র দেখা গেছে হাজরাবাড়ী সিরাজুল হক কলেজে। এখানে ৪২১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪০৮ জন পরীক্ষায় অংশ নিলেও পাস করতে পেরেছেন মোটে ৯৬ জন। পক্ষান্তরে ৩১২ জন শিক্ষার্থীই ফেলের খাতায় নাম লিখেছেন। এই কলেজে জিপিএ-৫ এর খাতা সম্পূর্ণ শূন্য (০ জন) এবং পাসের হার মাত্র ২৩.৫৩ শতাংশ।

শিক্ষাবিদ ও অভিভাবকদের উদ্বেগ
একাধিক শিক্ষাবিদের মতে, ক্লাসে নিয়মিত উপস্থিতি না থাকা, এবং পড়াশোনার প্রতি অনীহার কারণে এই ধরনের ফলাফল হতে পারে। তবে এত বড় পরিসরে বিপর্যয় কেন ঘটলো, তা নিয়ে শিক্ষা বোর্ড ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত ও মনিটরিং বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

রিপোর্টারের তথ্য
রুহুল আমিন

রুহুল আমিন

উপজেলা প্রতিনিধি, মেলান্দহ, জামালপুর

মেলান্দহে এইচএসসির ফল বিপর্যয়: তিন কলেজে পাস করেনি অর্ধেকের বেশি শিক্ষার্থী, নেপথ্যের কারণ কী?

প্রকাশের সময় : ০৮:১৬:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

জামালপুর জেলার মেলান্দহ উপজেলার বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে এক চরম বিপর্যয় নেমে এসেছে। উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সরকারি ও বেসরকারি কলেজগুলোর ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, অধিকাংশ শিক্ষার্থীই পরীক্ষায় কৃতকার্য হতে পারেননি। এমনকি কোনো কোনো কলেজে পাসের হার চব্বিশ শতাংশের নিচে নেমে গেছে এবং জিপিএ-৫ শূন্যের কোঠায় পৌঁছেছে। এই ভয়াবহ ফলাফল বিপর্যয় দেখে শিক্ষক, অভিভাবক ও সচেতন মহলের মনে একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে— “পাস না করার মূল কারণ কি?”

এক নজরে মেলান্দহের তিন কলেজের ফলাফল চিত্র
নিচে কলেজওয়ারি ফলাফলের বিস্তারিত পরিসংখ্যান তুলে ধরা হলো:
১. মেলান্দহ সরকারি কলেজ: ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানেও ভরাডুবি
উপজেলার অন্যতম প্রধান বিদ্যাপীঠ মেলান্দহ সরকারি কলেজে ৩২৬ জন নিবন্ধিত পরীক্ষার্থীর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেন ৩৬০ জন। এর মধ্যে পাস করেছেন মাত্র ১০১ জন এবং লাল চোখ দেখিয়েছে ২৫৯ জন শিক্ষার্থীর খাতা। অর্থাৎ, প্রায় ৭২ শতাংশ শিক্ষার্থীই ফেল করেছেন। পুরো কলেজে জিপিএ-৫ এসেছে মাত্র ১টি, আর পাসের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ২৮.০৬ শতাংশে।
২. জাহানারা লতিফ মহিলা কলেজ: নারী শিক্ষায় আশানুরূপ ফল নেই
নারী শিক্ষার প্রসারে গড়া এই প্রতিষ্ঠানে ২৫৭ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেন ২৫০ জন। পাস করেছেন ৯২ জন শিক্ষার্থী, বিপরীতে ১৫৮ জনই ফেল করেছেন। জিপিএ-৫ এর ক্ষেত্রে ৩ জন শিক্ষার্থী সাফল্য পেলেও পাসের হার মাত্র ৩৬.৮০ শতাংশে আটকে রয়েছে।
৩. হাজরাবাড়ী সিরাজুল হক কলেজ: সবচেয়ে শোচনীয় অবস্থা, নেই কোনো জিপিএ-৫
সবচেয়ে বিপর্যয়কর চিত্র দেখা গেছে হাজরাবাড়ী সিরাজুল হক কলেজে। এখানে ৪২১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪০৮ জন পরীক্ষায় অংশ নিলেও পাস করতে পেরেছেন মোটে ৯৬ জন। পক্ষান্তরে ৩১২ জন শিক্ষার্থীই ফেলের খাতায় নাম লিখেছেন। এই কলেজে জিপিএ-৫ এর খাতা সম্পূর্ণ শূন্য (০ জন) এবং পাসের হার মাত্র ২৩.৫৩ শতাংশ।

শিক্ষাবিদ ও অভিভাবকদের উদ্বেগ
একাধিক শিক্ষাবিদের মতে, ক্লাসে নিয়মিত উপস্থিতি না থাকা, এবং পড়াশোনার প্রতি অনীহার কারণে এই ধরনের ফলাফল হতে পারে। তবে এত বড় পরিসরে বিপর্যয় কেন ঘটলো, তা নিয়ে শিক্ষা বোর্ড ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত ও মনিটরিং বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা।