প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে রেলওয়ের জমি দখলের অভিযোগ।
- প্রকাশের সময় : ০৮:১৩:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
- / 22

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার কুমিরা রেলস্টেশন এলাকায় রেলওয়ের জায়গা দখল ও দুই শতাধিক ভূমিহীন পরিবারের বসতভিটা উচ্ছেদ নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ ৩০ থেকে ৪০ বছর ধরে বসবাস করে আসা এসব পরিবারের অভিযোগ, নামমাত্র অর্থ দিয়ে তাদের বসতভিটা থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। অন্যদিকে রেলওয়ের মূল্যবান জমি প্রভাবশালী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের দখলে চলে যাওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুমিরা রেলস্টেশন কলোনি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে প্রায় দুই শতাধিক পরিবার বসবাস করে আসছে। এসব পরিবারের অনেকেই দিনমজুর, শ্রমজীবী ও নিম্নআয়ের মানুষ। দীর্ঘদিনের বসবাসের কারণে সেখানে গড়ে উঠেছে তাদের ঘরবাড়ি, পারিবারিক সম্পর্ক ও জীবিকার অবলম্বন।
ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর দাবি, তাদের বসবাসের বিষয়টি বিবেচনায় না নিয়ে উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। ফলে নারী, শিশু ও বৃদ্ধসহ অসংখ্য মানুষ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। কোথায় যাবেন, কীভাবে পরিবার নিয়ে নতুন করে জীবন শুরু করবেন—এ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তাঁরা।
অন্যদিকে অভিযোগ রয়েছে, রেলওয়ের জমি দখল করে বিভিন্ন স্থাপনা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে। কোথাও কোথাও বড় বড় স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগও রয়েছে। অথচ দীর্ঘদিন বসবাসকারী দরিদ্র পরিবারগুলো উচ্ছেদের মুখে পড়েছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে বৈষম্য ও প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
ভুক্তভোগীদের বক্তব্য, রেলওয়ের সম্পত্তি অবশ্যই রক্ষা করতে হবে। তবে একই সঙ্গে প্রকৃত ভূমিহীন ও অসহায় পরিবারগুলোর মানবিক দিক বিবেচনা করা জরুরি। যারা কয়েক দশক ধরে সেখানে বসবাস করছেন, তাঁদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে উচ্ছেদ করা হলে পরিবারগুলো চরম সংকটে পড়বে।
এ বিষয়ে রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্থানীয়দের দাবি, কুমিরা রেলস্টেশন এলাকার জমির সঠিক সীমানা নির্ধারণ করে কারা বৈধভাবে বসবাস করছেন এবং কারা অবৈধভাবে রেলওয়ের সম্পত্তি দখল করেছেন, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে চিহ্নিত করতে হবে। একই সঙ্গে প্রভাবশালী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ওঠা জমি দখলের অভিযোগও তদন্তের আওতায় আনতে হবে।
সচেতন মহলের মতে, রেলওয়ের সম্পত্তি রক্ষা করা যেমন রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব, তেমনি ভূমিহীন মানুষের মানবিক অধিকার ও পুনর্বাসনের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি।
সীতাকুণ্ডবাসীর প্রত্যাশা—রেলওয়ের সম্পত্তি দখলমুক্ত হোক, প্রকৃত ভূমিহীন পরিবারগুলো ন্যায়বিচার ও মানবিক পুনর্বাসন পাক।






















