বৃষ্টি নামলেই আতঙ্ক! ক্লাসরুমে ঢুকে পড়ে সাপ-ব্যাঙ, চরম দুর্ভোগে শিক্ষার্থী-শিক্ষক
- Update Time : ১২:১৪:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
- / ৮ Time View

# ছয় বছর ধরে ছাপড়াঘরে পাঠদান
সুন্দর একটি স্কুল ভবনের অপেক্ষায় পাড়িয়ালীর শিশুরা
‘বৃষ্টি হলে ক্লাস করতে ভয় লাগে। ক্লাসের মধ্যে সাপ-ব্যাঙ ঢুকে পড়ে। গরমেও খুব কষ্ট হয়। আমাদেরও অন্য স্কুলের মতো সুন্দর ভবনে পড়তে ইচ্ছা করে।’আক্ষেপ করে কথাগুলো বলছিল যশোরের মনিরামপুর উপজেলার পাড়িয়ালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী আফিফ হাসান। ছোট্ট এই শিক্ষার্থীর কণ্ঠে ছিল না কোনো অভিযোগ, ছিল শুধু একটি নিরাপদ শ্রেণিকক্ষের স্বপ্ন। যে বয়সে শিশুদের মন বই-খাতা আর খেলাধুলায় ডুবে থাকার কথা, সেই বয়সেই তাদের ভাবতে হয় বৃষ্টি, ঝড় আর সাপ-ব্যাঙের ভয় নিয়ে। একসময় আশপাশের কয়েকটি গ্রামের অন্যতম সুনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছিল পাড়িয়ালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। কিন্তু নতুন ভবনের আশায় পুরোনো ভবন ভেঙে ফেলার পর কেটে গেছে দীর্ঘ ছয় বছর। এখনো নির্মাণকাজ শুরু না হওয়ায় বিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষার্থী বাধ্য হয়ে অস্থায়ী ছাপড়াঘরেই পাঠ নিচ্ছে।
বিদ্যালয় সূত্র জানায়, ১৯৬০ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি ২০১৩ সালে জাতীয়করণ করা হয়। দীর্ঘদিনের পুরোনো ভবনটি ২০২০ সালে নতুন ভবন নির্মাণের উদ্দেশ্যে ভেঙে ফেলা হয়। এরপর থেকে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে তৈরি করা অস্থায়ী ছাপড়াঘরই হয়ে উঠেছে শিক্ষার্থীদের একমাত্র শ্রেণিকক্ষ। বর্ষাকালে টিনের চাল দিয়ে পানি চুইয়ে পড়ে, ঝড়ো হাওয়ায় ক্লাস নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। আবার প্রচণ্ড গরমে টিনের নিচে বসে পাঠ গ্রহণ করাও হয়ে ওঠে অসহনীয়।
সহকারী শিক্ষক কামরুল হাসান বাবলু বলেন, ‘ঝড়-বৃষ্টিতে প্রায়ই পাঠদান ব্যাহত হয়। উপযুক্ত পরিবেশ না থাকায় অনেক অভিভাবক সন্তানদের অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়ে দিচ্ছেন। ফলে প্রতিবছর শিক্ষার্থী কমছে।’ ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রেশমা খাতুন জানান, নতুন ভবন নির্মাণের দাবিতে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত ও মৌখিকভাবে আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। বিদ্যালয়টির সঙ্গে জড়িয়ে আছে এলাকার মানুষের আবেগ ও ইতিহাসও। স্থানীয়দের উদ্যোগে মরহুম আব্দুল মজিদ সরদারের নেতৃত্বে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। দানশীল ব্যক্তি জাহাবখশ ২৮ শতক জমি দান করেন। এছাড়া আরও কয়েকজন জমি দিয়ে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতা করেন। সেই ঐতিহ্যবাহী বিদ্যালয় আজ একটি স্থায়ী ভবনের অভাবে অস্তিত্বের সংকটে পড়েছে।
অভিভাবক আব্দুল মালেক বলেন, ‘নিরাপদ ও মানসম্মত পরিবেশ ছাড়া ভালো শিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা ভেবেই দ্রুত একটি স্থায়ী ভবন নির্মাণ জরুরি।’
বালিয়াডাঙ্গা খানপুর কলেজের সহকারী অধ্যাপক নাজমুল হক লিটন বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ছাপড়াঘরে পরিচালিত হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। দ্রুত ভবন নির্মাণ না হলে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হার আরও বাড়বে এবং বিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের সুনামও ক্ষুণ্ন হবে।’ এ বিষয়ে উপজেলা ভারপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সামছুল আলম বলেন, ‘বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আশা করছি, দ্রুতই নির্মাণকাজ শুরু হবে এবং শিক্ষার্থীরা নিরাপদ ও আধুনিক পরিবেশে পাঠগ্রহণের সুযোগ পাবে।’



















